default-image

সাতক্ষীরার কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচনে মেয়র পদে স্বামী ও স্ত্রী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। নির্বাচন হবে ৩০ জানুয়ারি।

স্থানীয় ভোটারদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মেয়র পদে পাঁচজন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এর মধ্যে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে লড়ছেন উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও বরখাস্ত মেয়র গাজী আক্তারুল ইসলাম এবং তাঁর স্ত্রী নাসরিন সুলতানা।

বিএনপির মনোনীত প্রার্থী হয়েছেন পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান তুহিন। আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়েছেন কলারোয়া উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক ও ভারপ্রাপ্ত মেয়র মনিরুজ্জামান বুলবুল। আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী (স্বতন্ত্র) হয়েছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাবেক আহ্বায়ক ও জেলা কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য সাজেদুর রহমান খান চৌধুরী।

বিজ্ঞাপন

গাজী আক্তারুল ইসলাম বলেন, তিনি গতবারের নির্বাচনে মেয়র হয়েছিলেন। কিন্তু সরকার হয়রানিমূলক মামলা দিয়ে তাঁকে বরখাস্ত করে। এত সবের পরও তিনি সব সময় স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশে ছিলেন। স্থানীয় একজন নেতা ষড়যন্ত্র করে কেন্দ্রে মনোনয়নের জন্য তাঁর নাম পাঠাননি বলে তাঁর অভিযোগ। এ কারণে তিনি বিএনপি থেকে মনোনয়ন পাননি। ৩০ জানুয়ারির নির্বাচনে তিনি জয় লাভ করবেন বলে আশাবাদী। আর তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবেন তাঁর স্ত্রী নাসরিন সুলতানা।

নাসরিন সুলতানা বলেন, তাঁর স্বামী আক্তারুল ইসলাম গতবার মেয়র হওয়ার পর তাঁকে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হয়নি। মামলা দিয়ে হয়রানি করা হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার গাড়িরবহরে হামলা মামলায় আসামি করা হয়েছে। তিনি মেয়র পদে আবার জয়ী হলে তাঁকে দায়িত্ব পালন করতে দেওয়া হবে না নানা কৌশলে। স্থানীয় মানুষ তাঁদের পরিবারের সেবা চায়। সব দিক বিবেচনা করে তিনি প্রার্থী হয়েছেন। তিনি দাবি করেন, নির্বাচন নিরেপক্ষ হলে তিনি জয় লাভ করবেন। তাঁর নিকট প্রতিদ্বন্দ্বী থাকবেন তাঁর স্বামী গাজী আক্তারুল ইসলাম।

বিএনপির প্রার্থী শরীফুজ্জামান তুহিন বলেন, দল যোগ্য হিসেবে তাঁকে মনোয়ন দিয়েছেন। কলারোয়া পৌর এলাকায় বিএনপির ভোট বেশি দাবি করে তিনি বলেন, নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে তিনি জয় লাভ করবেন।

আওয়ামী লীগের প্রার্থী মনিরুজ্জামান বুলবুল বলেন, দল তাঁকে সব দিক বিবেচনা করে মনোনয়ন দিয়েছেন। ৩০ জানুয়ারি নির্বাচনে ভোটাররা তাঁকে ভোট দেবেন।

আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী প্রার্থী সাজেদুর রহমান খাঁন চৌধুরী বলেন, তিনি দলের ত্যাগী ও পরীক্ষিত কর্মী। জনগণের সঙ্গে তাঁর সম্পৃক্ততা আছে। তিনি গতবারও মনোনয়ন চেয়েছিলেন, কিন্তু তাঁকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। বিপুল ভোটে আওয়ামী লীগের প্রার্থী পরাজিত হন। এবারও তাঁকে মনোনয়ন না দেওয়ায় দলীয় নেতা-কর্মী ও ভোটারদের দাবির মুখে তিনি প্রার্থী হয়েছেন। তিনি আশা করছেন, তিনি জয়ী হবেন।

বিজ্ঞাপন

কলারোয়া পৌর এলাকা তুলশিডাঙ্গার ভোটার আবুল কাসেম মনে করেন, দলীয় প্রতীক দেখে এখানে নির্বাচন হবে না। ব্যক্তি দেখে নির্বাচন হবে এবং ভোটাররা ভোট দেবেন।

পৌর এলাকার যুগিখালি এলাকার ভোটার আবদুল রশিদ বলেন, এখন কিছু বোঝা যাচ্ছে না। সবে প্রতীক বরাদ্দ হলো। আরও কয়েক দিন না গেলে কিছু বলা যাচ্ছে না।

কলারোয়া উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মনোরঞ্জন বিশ্বাস বলেন, কলারোয়ায় মেয়র পদে পাঁচজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। এ ছাড়া এতে সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ১৩ জন ও সাধারণ কাউন্সিলর পদে ৩৯ জন মনোনয়নপত্র জমা দিয়েছেন। ৩০ জানুয়ারি পৌরসভায় ২১ হাজার ২৮১ জন ভোটার তাঁদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ১০ হাজার ২৮৫ জন এবং নারী ভোটার ১০ হাজার ৯৯৬ জন।

মন্তব্য করুন