বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উপজেলা প্রশাসন, ফায়ার সার্ভিস, ব্যবসায়ী ও পুরাতন বাজারের ব্যবসায়ীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, কসবা পৌর শহরের পুরাতন বাজারের সিএনজিস্টেশন এলাকায় বৃহস্পতিবার রাত নয়টার দিকে একটি দোকানে আগুন লাগে। মুহূর্তের মধ্যে আগুন চারপাশে ছড়িয়ে পড়ে। বাজারের জয় হার্ডওয়্যার ও একটি ইলেকট্রনিক সামগ্রীর দোকানে রং ও রাসায়নিক থাকায় আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এতে পাশে থাকা গ্যাস সিলিন্ডারের দোকান, হোটেলের গ্যাস সিলিন্ডার, রং ও রাসায়নিক রাখার ড্রাম একের পর এক বিস্ফোরিত হতে থাকে। অগ্নিকাণ্ডে পুরাতন বাজারের মুতি মিয়া মার্কেট, রহমত উল্লাহ মার্কেটসহ কয়েকটি মার্কেটের প্রায় ২০টি দোকান পুড়ে গেছে।

খবর পেয়ে রাত সাড়ে নয়টার দিকে কসবার কুটি চৌমহনী ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে গিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। রাত ১০টার দিকে আখাউড়া থেকে একটি ফায়ার সার্ভিস স্টেশনের কর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণের কাজে যোগ দেন। পরে ব্রা‏হ্মণবাড়িয়া থেকে আরও একটি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ শুরু করে। তাদের সহযোগিতা করেন স্থানীয় লোকজন, পুলিশ ও পুরাতন বাজার ব্যবসায়ী কমিটির নেতারা। প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টার পর রাত সাড়ে ১১টায় আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।

রাতেই কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রাশেদুল কাউছার ভূঁইয়া, কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ উল আলম, কসবা পৌরসভার মেয়র মো. গোলাম হাক্কানী, কসবা উপজেলা পরিষদের ভাইস চেয়ারম্যান মো. মনির হোসেন ঘটনাস্থলে যান।

অগ্নিকাণ্ডে ক্ষতিগ্রস্ত জয় হার্ডওয়্যার ও ইলেকট্রনিকসের মালিক মো. বাবরু মিয়া বলেন, রঙের দাম বাড়ছে। এ কারণে তিন দিন আগে রং, রাসায়নিকসহ ২০ লক্ষাধিক টাকার মালামাল এনেছিলেন। গতকালও হার্ডওয়্যারের বিপুল পরিমাণ মালামাল আনা হয়েছে। দোকানটিতে প্রায় এক কোটি টাকার মালামাল ছিল। আগুনে পুড়ে গেছে মালামাল। তিনি বলেন, ‘কীভাবে আগুন লেগেছে, কিছুই বলতে পারছি না।’

হাসিবা স্টিলের আসবাব তৈরির কারখানার মালিক মো. আরাফাত বলেন, ‘আমার কারখানায় ডেলিভারি দেওয়ার জন্য আটটি আলমারি ছিল। এ ছাড়া অন্যান্য মালামাল ছিল। আমি আমার কারখানায় ছিলাম। হঠাৎ দেখি, পেছন থেকে আগুন ধরে আসছে। স্টিলের আলমারিগুলো গরম হয়ে যাওয়ায় কিছুই বের করতে পারিনি। আলমারির ভেতর প্রায় ৫০ হাজার টাকা ছিল। সব পুড়ে শেষ হয়ে গেছে।’ আগুনে তাঁর পাঁচ লক্ষাধিক টাকা ক্ষতি হয়েছে বলে জানিয়েছেন।

আগুনে কমপক্ষে ২০টি দোকান পুড়ে গেছে। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
মো. শফিকুল ইসলাম, সাধারণ সম্পাদক, কসবা পুরাতন বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটি

মুতি মিয়া মার্কেটের মালিক কসবা পুরাতন বাজারের সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. জিয়াউল হুদা বলেন, তাঁদের ১০ শতাংশ জায়গায় বড় বড় দোকান ছিল। সব দোকানই পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।

কসবা পুরাতন বাজার ব্যবসায়ী পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, আগুনে কমপক্ষে ২০টি দোকান পুড়ে গেছে। এতে কয়েক কোটি টাকার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তিনি বলেন, ফায়ার সার্ভিসের লোকজন প্রায় ৩০ মিনিট দেরিতে এসেছে। সঠিক সময়ে এলে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ কম হতো।

কসবার ফায়ার সার্ভিসের ইউনিট লিডার আবদুল কাদির বলেন, বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে আগুনের সূত্রপাত। ফায়ার সার্ভিসের চারটি ইউনিট প্রায় দুই ঘণ্টা চেষ্টা চালিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনে। কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, তা তদন্ত করা হচ্ছে।

কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাসুদ উল আলম আজ শুক্রবার সকালে প্রথম আলোকে বলেন, অগ্নিকাণ্ডের ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ণয়ের জন্য উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। কীভাবে আগুন লেগেছে, তা খুঁজে বের করার জন্য একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন