default-image

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি, ব্যবসায়ী ও জনগণের একটি অংশের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে নির্ধারিত স্থানেই ১২ জানুয়ারি হড়গ্রাম কাঁচাবাজার প্রতিষ্ঠা করার ঘোষণা দেন রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন।

ওই দিন সন্ধ্যায় হড়গ্রাম কাঁচাবাজার বহুমুখী ব্যবসায়ী সমিতির চতুর্থ প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা সভায় ঘোষণার পর রাজশাহী-২ (সদর) আসনের সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা ও সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন পরস্পরকে মিষ্টি মুখ করান। তারপরও কাঁচাবাজার প্রতিষ্ঠা নিয়ে পক্ষে-বিপক্ষে আন্দোলন থামছে না। চলছে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি। আজ বৃহস্পতিবারও বাজার প্রতিষ্ঠার পক্ষে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

১৮ জানুয়ারি নির্ধারিত স্থানে হড়গ্রাম কাঁচাবাজারের বিপক্ষে রাজশাহী নগরের সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে হড়গ্রাম এলাকার লোকজন মানববন্ধন করেন। মানববন্ধনে প্রস্তাবিত কাঁচাবাজার এলাকার ঘনবসতির একটি মানচিত্রও তাঁরা প্রদর্শন করেন। ওই মানববন্ধনে রাজশাহী মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি অধ্যক্ষ শফিকুর রহমান বাদশা সভাপতিত্ব করেন। মানববন্ধনে বক্তারা বলেন, হড়গ্রামেও ঘনবসতিপূর্ণ বসতভিটা থেকে সাধারণ মানুষদের উচ্ছেদ করে সেখান কাঁচাবাজার নির্মাণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, যা আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত। এমন সিদ্ধান্ত থেকে সরে না এলে তাঁরা গণ-আন্দোলনের ডাক দেবেন।

বিজ্ঞাপন

তাঁদের ভাষ্য, রাজশাহী নগরের এই এলাকায় ৩০-৪০ বছর ধরে মুক্তিযোদ্ধাসহ সনাতন হিন্দু ও মুসলিম সম্প্রদায়ের বিপুলসংখ্যক মানুষ বসবাস করে আসছেন। এই এলাকায় পাকা ঘরবাড়ি বানিয়ে তাঁরা বসবাস করছেন ও বিভিন্ন প্রকার ব্যবসা কার্যক্রম চালাচ্ছেন। এলাকাবাসীর অগোচরে তাঁদের কোনো বক্তব্য বা পরামর্শ না শুনেই এই এলাকার সাংসদ ফজলে হোসেন ও ১ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর রজব আলী বসতভিটা উচ্ছেদ করে কাঁচাবাজার প্রতিষ্ঠার জন্য তাঁদের মতামত দেন। তার পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ১৮ ফেব্রুয়ারি একনেক সভায় হড়গ্রাম কাঁচাবাজার নির্মাণ প্রকল্পটি অনুমোদন করা হয়। এরপর এলাকাবাসী বিষয়টি জানার পর সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটনকে ওই এলাকার মানুষের বিরাট ক্ষতি হবে জানিয়ে বিকল্প খালি জায়গায় কাঁচাবাজার নির্মাণের প্রস্তাব দেন। তাঁরা মেয়রকে এ নিয়ে গত ১০ আগস্ট স্মারকলিপিও দেন। এ বিষয়ে তখন মেয়র তাঁদের আশ্বস্ত করেছিলেন। কিন্তু সাংসদ ও ওয়ার্ড কাউন্সিলরের সঙ্গে আলোচনায় বসে মেয়র পরে একই স্থানে কাঁচাবাজার নির্মাণে মত দেন। এই সিদ্ধান্ত দ্রুত তাঁরা প্রত্যাহার চান। অন্যথায় তাঁরা ভবিষ্যতে আরও বৃহত্তর আন্দোলনের ডাক দেবেন।

এদিকে আজ বৃহস্পতিবারও হড়গ্রাম কাঁচাবাজারের পক্ষে রাজশাহী নগরের সাহেববাজার জিরো পয়েন্টে মানববন্ধন শেষে বিক্ষোভ মিছিল হয়। মিছিলটি জিরো পয়েন্ট থেকে রাজশাহী নগরের ভবনের দিকে যায়। মিছিলের স্লোগান ছিল ‘বাজার বাজার বাজার চাই, হড়গ্রামের বাজার চাই।’ ব্যবসায়ীরা দ্রুত বাজার বাস্তবায়নের দাবিতে সিটি মেয়র এ এইচ এম খায়রুজ্জামান লিটন বরাবর তাঁর দপ্তরে একটি স্মারকলিপি দেন।

হড়গ্রাম এলাকার বিভিন্ন ব্যবসায়ী সংগঠনের পক্ষ থেকে এই কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। সভাপতিত্ব করেন হড়গ্রাম বাজার বহুমুখী সমিতির সভাপতি মাইদুল ইসলাম। বক্তৃতা করেন সাধারণ সম্পাদক খোরশেদ আলী, হড়গ্রাম নিউমার্কেট ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, প্রধান উপদেষ্টা মোশাররফ হোসেন প্রমুখ। সংহতি প্রকাশ করে বক্তৃতা করেন বাংলাদেশের ওয়ার্কার্স পার্টির রাজশাহী মহানগরের সাধারণ সম্পাদক দেবাশীষ প্রামাণিক, স্থানীয় বাসিন্দা ও সাবেক যুবলীগ নেতা নাহিদ আক্তার, ওয়ার্কার্স পার্টির নগর সম্পাদকমণ্ডলীর সদস্য আবদুল মতিন প্রমুখ।

এর আগেও হড়গ্রাম বাজারে পাল্টাপাল্টি কর্মসূচি পালিত হয়েছে। এ বিষয়ে সাংসদ ফজলে হোসেন বাদশা বলেন, স্থায়ী হড়গ্রাম কাঁচাবাজার নির্মাণ পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি। যেহেতু মহানগরের সব বাজার রাজশাহী সিটি করপোরেশন পরিচালিত করে, তাই হড়গ্রাম কাঁচাবাজার নির্মাণ করাও সিটি করপোরেশনের দায়িত্ব। বিগত সময়ে অনেকে এই কাঁচাবাজার প্রতিষ্ঠার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, কিন্তু কেউ বাস্তবায়ন করেননি। তিনি আরও বলেন, রাজশাহী সিটি করপোরেশনের মেয়র খায়রুজ্জামান লিটন মহানগরের ব্যাপক উন্নয়ন করছেন। মেয়রের কাছে নির্ধারিত স্থানে হড়গ্রাম কাঁচাবাজার নির্মাণের দাবি জানানো হয়। স্থানীয় মানুষের দাবির সঙ্গে মেয়র একাত্মতা ঘোষণা করছেন। মেয়র বলেছেন, দ্রুত রাজশাহী সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে নির্ধারিত স্থানে হড়গ্রাম কাঁচাবাজার নির্মাণ করা হবে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন