সদ্য সন্তান জন্ম দেওয়া স্ত্রীকে হাসপাতাল থেকে আনতে মোটরসাইকেলে করে বেকিনগর থেকে ইলিয়টগঞ্জ বাজারের দিকে যাচ্ছিলেন রাসেল মিয়া। তাঁর সঙ্গে ছিলেন শরীফ ও তাফসির।

ঈদের দিন সন্ধ্যায় শরীফ সরকারের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, শরীফের স্ত্রী নাইমা আক্তার, মা ছেনরা বেগম, বাবা শাহজালাল সরকারসহ স্বজনেরা কাঁদছেন। প্রতিবেশীদের অনেকে এসে সান্ত্বনা দিতে গিয়ে নিজেরাই আবেগাক্রান্ত হয়ে পড়ছেন। শরীফের ৯ মাস বয়সী সন্তান রুবাইদা কান্নারত সবার দিকে ফ্যাল ফ্যাল করে তাকিয়ে আছে।

শরীফ ও তাফসিরের বাবা শাহজালাল সরকার বলেন, ‘আমার দুই ছেলে আদরের টুকরা ছিল। একসঙ্গে দুইজনের মৃত্যু কীভাবে মেনে নেব, বাবা।’

তাঁদের প্রতিবেশী ওয়াশকুরুনী, আবদুল ওয়াদুদ, নাছির উদ্দিন, আবদুল বারেক, বগু মিয়া বলেন, সাংবাদিক রাসেল মিয়া, মৎস্য ব্যবসায়ী শরীফ সরকার ও তাফসির সরকারের শোকে পুরো এলাকার ঈদের আনন্দ রূপ নিয়েছে বিষাদে।

নিহত রাসেলের বাড়ির উঠানে গিয়ে দেখা যায়, তাঁর বাবা আবদুল হক, মা জেসমিন আক্তার ও স্ত্রী মাহমুদা আক্তার বিলাপ করছেন। প্রতিবেশীরা খাবার দিয়ে গেছেন, কিন্তু কেউ মুখে তোলেননি সেই খাবার।

ছেলের শোকে কাতর আবদুল হক বলেন, ‘ছেলেটা সদ্যই বাবা হলো। ওর ছোট্ট শিশুটার মুখের দিকে তাকাতে পারি না। ও কাকে বাবা বলে ডাকবে?’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন