বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের আটজন নেতা-কর্মী বলেন, দলের তিন নেতা প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনে নৌকার জয়লাভ করা কঠিন হবে।

রিটার্নিং কর্মকর্তা কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২৮ নভেম্বর তৃতীয় ধাপে উপজেলার চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া ও সয়না রঘুনাথপুর ইউপিতে ভোট গ্রহণ হবে। নির্বাচন সামনে রেখে ১২ নভেম্বর প্রার্থীদের প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

চিরাপাড়া পারসাতুরিয়া ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মাহামুদ খানকে আওয়ামী লীগ দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের দুই সাংগঠনিক সম্পাদক মামুন হোসাইন ও লায়েকুজ্জামান আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচনে অংশ নিয়েছেন। এদিকে জাতীয় পার্টি থেকে বজলুর রহমান খান এবং ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের শিহাব উদ্দিন কাসেমী চেয়ারম্যান পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মাহামুদ খানের বিরুদ্ধে দলের বিদ্রোহী প্রার্থীরা জোরেশোরে প্রচারণা চালাচ্ছেন। দলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত এমন তিন নেতা চেয়ারম্যান প্রার্থী হওয়ায় এবং দলের মধ্যে কোন্দল থাকায় জেপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের প্রার্থী এ সুযোগ কাজে লাগাতে চাচ্ছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক আওয়ামী লীগের আটজন নেতা-কর্মী বলেন, দলের তিন নেতা প্রার্থী হওয়ায় নির্বাচনে নৌকার জয়লাভ করা কঠিন হবে। এদিকে জেপি চেয়ারম্যান আনোয়ার হোসেন পিরোজপুর-২ (কাউখালী, ভাণ্ডারিয়া ও ইন্দুরকানী) আসনের সাংসদ হওয়ায় ওই ওলাকায় জেপির প্রভাব রয়েছে। তাই নৌকাকে জয়ী করতে হলে দলের সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করতে হবে।

বিদ্রোহী প্রার্থী মামুন হোসাইন বলেন, ‘২০১৬ সালে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে আমি সম্ভাব্য চেয়ারম্যান প্রার্থী ছিলাম। তখন মাহামুদ খান আমাকে পরবর্তী নির্বাচনে চেয়ারম্যান পদে সমর্থন দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। কিন্তু এবার তিনি আমাকে সমর্থন না দিয়ে নিজে প্রার্থী হয়েছেন। তাই সাধারণ ভোটার ও নেতা-কর্মীরা আমাকে প্রার্থী হওয়ার জন্য অনুরোধ করায় আমি উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক হয়েও বিদ্রোহী প্রার্থী হতে বাধ্য হয়েছি।’

লায়েকুজ্জামান নিজেকে বিদ্রোহী নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাবি করেন। দলীয় পদে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া যায় কি না, জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব দেননি।

মামুন হোসাইন অভিযোগ করেন, মাহামুদ খানের বড় ভাই মাওদুদ খান কাউখালী উপজেলা ফ্রিডম পার্টির সাধারণ সম্পাদক ছিলেন। এসব অভিযোগ লিখিতভাবে কেন্দ্রীয় নেতাদের জানালেও কোনো কাজ হয়নি।

এদিকে লায়েকুজ্জামান নিজেকে বিদ্রোহী নয়, স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাবি করেন। দলীয় পদে থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া যায় কি না, জানতে চাইলে তিনি কোনো জবাব দেননি।

মাহামুদ খানের মুঠোফোনে একাধিকবার কল ও খুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।

কাউখালী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মনিরুজ্জামান তালুকদার বলেন, মাহামুদ খানের নাম তালিকায় প্রথম ছিল। বেশির ভাগ বর্তমান চেয়ারম্যানরাই পুনরায় মনোনয়ন পেয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন