তবে বাস কাউন্টারে গিয়ে মায়িশা জানতে পারেন, গতকাল বৃহস্পতিবার রাত ১১টার বাসের যাত্রীরা তখনো কাউন্টারে বাসের অপেক্ষায় বসে আছেন। ফলে মায়িশার বাস ছাড়তে আরও ১২ ঘণ্টা দেরি হবে।

ঈদে উত্তরবঙ্গগামী বাসের যাত্রীরা এমনই ভোগান্তির মধ্যে পড়েছেন। মায়িশা মুঠোফোনে এই প্রতিবেদককে বলেন, তিনি বাসের বিলম্বের কারণে কল্যাণপুর থেকে মিরপুর-১ এলাকায় তাঁর এক সহপাঠীর বাসায় উঠেছেন। পরবর্তী খবর নিয়ে বাসা থেকে বের হবেন।

এদিকে নির্ধারিত সময়ে অনেকের বাস ছাড়লেও যানজটে আটকা পড়ে নাজেহাল হচ্ছেন তাঁরা। শুক্রবার ভোররাতে রাজশাহীর বাঘায় এসে পৌঁছেছেন পোশাক কারখানার কর্মী নাজমুল ফেরদৌস। তিনি বলেন, গতকাল বেলা দুইটায় তিনি গাজীপুর থেকে বাসে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা দিয়েছিলেন। তাঁর শফিপুর থেকে চন্দ্রায় পৌঁছাতে সময় লেগেছে সাত ঘণ্টা। যানজটের কারণে ছয় কিলোমিটার পথেই তাঁর এই সময় লেগে লেগেছে। দীর্ঘ যানজট পেরিয়ে ভোররাতে তিনি রাজশাহীতে পৌঁছান।

এদিকে আজ বেলা ৩টা ৪০ মিনিটে রাজশাহী নগরের সিরোইল বাস টার্মিনালে এসে দাঁড়ায় হানিফ পরিবহনের একটি বাস। মাহমুদুর রহমান নামের ওই বাসের এক যাত্রী বলেন, ঢাকা থেকে বাসটি রাত ১১টায় ছেড়েছিল। সকাল ৬টার মধ্যে তাঁদের রাজশাহীতে পৌঁছানোর কথা ছিল। তবে বঙ্গবন্ধু সেতুতে এবং সিরাজগঞ্জে দুই দফা যানজটে পড়ার কারণে তাঁদের স্বাভাবিক সময়ের চেয়ে ৯ ঘণ্টা বেশি সময় লেগেছে।

এদিকে ঢাকা-রাজশাহী রুটের যাত্রীরা ট্রেন নির্ধারিত সময়ের চেয়ে দেরিতে ছাড়ার বিষয়ে অভিযোগ করেছেন। রাজশাহীর পুঠিয়া উপজেলার ধোপাপাড়া গ্রামের যুবক সোহরাব খোকন ঢাকায় একটি প্রসাধনীর কোম্পানিতে চাকরি করেন। ঈদের ছুটিতে তিনি ট্রেনে বাড়ি ফিরছেন। সকাল ছয়টায় তাঁর ট্রেন ছাড়ার কথা ছিল। সোহরাব জানান, সাড়ে নয়টার দিকে তাঁর ট্রেন ছেড়েছে। ঈদের ছুটির এক দিন হয়তো পুরোটাই রাস্তায় কাটবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন