বিজ্ঞাপন

এর আগে গতকাল বৃহস্পতিবার জেলা সার্কিট হাউসে রাত ৯টা থেকে রাত পৌনে ১০টা পর্যন্ত রাজশাহীর করোনা পরিস্থিতি নিয়ে এক জরুরি সভা শেষে রাজশাহীতে ‘সর্বাত্মক লকডাউন’ দেওয়ার ঘোষণা দেন বিভাগীয় কমিশনার মো. হুমায়ুন কবীর। ঘোষণা অনুযায়ী, রাজশাহী নগরে সব ধরনের যানবাহন চলাচল আগামী সাত দিন বন্ধ থাকবে। গণপরিবহনের মধ্যে ট্রেনও সেই বিধিনিষেধের আওতায় পড়েছে। তবে পাবনার ঈশ্বরদী থেকে ট্রেন চলাচল করবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।

১২ জুন বিকেলে ঢাকাগামী পদ্মা এক্সপ্রেস ট্রেনে টিকিট কেটেছিলেন রাজশাহীর গোলাম মোর্শেদ। তিনি সকাল থেকে প্রায় এক ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে ছিলেন। এ সময়ে তাঁর লাইনের মাত্র তিনজন টাকা পেয়েছেন। তাঁর দাবি, তাঁরা অনলাইনে টিকিট কেটেছেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষও যেন এ মহামারিকালে অনলাইনেই টাকা ফেরত দেয়। এভাবে ঝুঁকি নিয়ে টাকা ফেরত নেওয়া অনেক কষ্ট।

default-image

রাজশাহী নগরের প্রণয় কুমার বনলতা ট্রেনের টিকিট কেটেছিলেন ১২ জুন সকালে। তিনিও টিকিট ফেরত নিতে এসেছিলেন। তিনি বলেন, ‘রেলওয়ে স্টেশন থেকে ঘোষণা দেওয়া হচ্ছে টাকা ফুরিয়ে গেছে, আগামী রোববার আসতে বলা হচ্ছে। এ লকডাউনের মধ্যে কীভাবে আসব। রাজশাহীর পবার সুমাইয়া বেগম এসে টাকা না পেয়ে চলে গেছেন। রিয়া মণিও নগরের তালাইমারী এলাকা থেকে সকাল আটটায় টাকা ফেরত না পেয়ে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে ফিরে গেছেন।

রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের ব্যবস্থাপক আবদুল করিম বলেন, জনস্বার্থে রাজশাহী সিটি করপোরেশনকে লকডাউন ঘোষণা করা হয়েছে। তাই রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ আজ বিকেল থেকে রাজশাহী স্টেশনের ট্রেনগুলো চলাচল বন্ধ করে দিয়েছে। তবে পাবনার ঈশ্বরদী থেকে চলবে ট্রেন। যাত্রীদের আজকে টাকা ফেরত দেওয়া হয়েছে। আগামী রোববার থেকে ১৫ জুন পর্যন্ত স্টেশনে টাকা ফেরত দেওয়া হবে। তবে কিছু সীমাবদ্ধতার কারণে তাঁরা অনলাইনে টিকিটের টাকা ফেরত দিতে পারছেন না।

লকডাউনের মধ্যে যাত্রীরা স্টেশনে এসে কীভাবে টাকা নেবেন, এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা হলে তিনি বলেন, তাঁরা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলে সিদ্ধান্ত নেবেন, যাতে ১৫ জুনের পরও যাত্রীরা টিকিট দেখানো সাপেক্ষে টাকা ফেরত নিতে পারেন। আর যাত্রীরা চাইলে ঈশ্বরদী স্টেশন থেকেও এই টিকিটে নির্দিষ্ট দিনে ট্রেনে ভ্রমণ করতে পারবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন