default-image

কলারোয়া পৌরসভা নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর পদে নির্বাচিত হয়েছেন হিজড়া সম্প্রদায়ের দিথী খাতুন। তিনি পৌরসভার ৭, ৮ ও ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সংরক্ষিত নারী কাউন্সিলর হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে জয়ী হন।

‘আংটি’ প্রতীক নিয়ে ২ হাজার ৭৯ ভোট পেয়ে জয়লাভ করেন তৃতীয় লিঙ্গের (হিজড়া) দিথী খাতুন। তাঁর নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী হাসিনা আক্তার ‘জবা ফুল’ প্রতীক নিয়ে ১ হাজার ১৮৩ ভোট পেয়েছেন। এ ছাড়া শাহনাজ খাতুন ‘আনারস’ প্রতীক নিয়ে ৮৬৪ ভোট, জাহানারা খাতুন ‘টেলিফোন’ প্রতীক নিয়ে ৭৬৪ ভোট ও রুপা খাতুন ‘চশমা’ প্রতীক নিয়ে ৫৮২ ভোট পান।

২০১৫ সালের ৩০ ডিসেম্বর পৌর নির্বাচনে হিজড়া সম্প্রদায়ের দিথী খাতুন প্রথম ‘চুড়ি’ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে সামান্য ভোটে পরাজিত হন। এবারও তিনি নির্বাচনে অংশ নেন। দ্বিতীয়বারের চেষ্টায় তিনি সফলতা পেলেন। দিথী খাতুনের প্রত্যাশা মানুষ হিসেবে মানুষের পাশে থেকে সেবামূলক কাজ করা। সমাজের মূল ধারার সঙ্গে সম্পৃক্ত হয়ে তাঁরাও সমাজ উন্নয়নে অবদান রাখতে প্রতিশ্রুতিশীল। ভোটে জয়লাভ করার খবর পেয়ে তিনি ভোটারদের বাড়িতে বাড়িতে ছুটে কুশল বিনিময় ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন।

বিজ্ঞাপন

দিথী খাতুনের পৈতৃক বাড়ি যশোর সিটি কলেজ এলাকায়। তাঁর বাবার নাম আব্দুল হামিদ মিয়া। তাঁর তিন ভাই আছে। ভাইদের কোনো সমস্যা ছিল না। তাঁদের পরিবারে তিনিই বিশেষ (হিজড়া) সম্প্রদায়ের। অন্যরা সুস্থ-স্বাভাবিক জীবনযাপন করছেন।
দিথী খাতুনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, তিনি একটু বড় হওয়ার পরে পরিবার ছেড়ে মিশে যান হিজড়া সম্প্রদায়ের সঙ্গে। একপর্যায়ে তিনি কলারোয়া পৌরসভার মির্জাপুরে অবস্থান নেন। এখানে জমি কিনে বাড়ি বানিয়ে শুরু করেন বসবাস। হিজড়া সম্প্রদায়ের মানুষের সঙ্গে চলতে থাকেন। এলাকায় সেবামূলক কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার মধ্য দিয়েই শুরু করেন সামাজিক জীবন।

নবনির্বাচিত কাউন্সিলর হিজড়া দিথী খাতুন বলেন, তাঁর সম্প্রদায়ের মানুষের পাশাপাশি তিনি সব শ্রেণির মানুষের সেবা করতে চান, দাঁড়াতে চান যেকোনো অসহায় মানুষের পাশে। বিশেষ করে তাঁর সম্প্রদায়ের মানুষদের সামাজিক ও অর্থনৈতিকভাবে প্রতিষ্ঠা করা তাঁর স্বপ্ন। কলারোয়া পৌরবাসীর সেবা দিয়ে মন জয় করে সবার হৃদয়ে আসন করতে পারবেন বলে তাঁর বিশ্বাস।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন