বিজ্ঞাপন
বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে ঢাকা যাওয়ার পথে তীব্র যানজট দেখা দেওয়ায় কাজীরহাট ফেরিঘাটে গরু ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এখানে তিনটি ফেরি দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ১৮টি ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।

ট্রাকচালক কালু মিয়া জানান, সোনামসজিদ থেকে পাথরবোঝাই ট্রাক নিয়ে চার দিন আগে ঘাটে আসেন তিনি। এরপর থেকে এখানে ট্রাক নিয়ে আটকে আছেন। তাঁর সামনে আরও প্রায় আড়াই শ ট্রাক রয়েছে। ফলে তিনি ঈদের আগে ঢাকা পৌঁছাতে পারবেন কি না, তা নিয়ে চিন্তিত।

এদিকে বঙ্গবন্ধু সেতু হয়ে ঢাকা যাওয়ার পথে তীব্র যানজট দেখা দেওয়ায় কাজীরহাট ফেরিঘাটে গরু ও পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন ধরনের যানবাহনের চাপ বেড়েছে। এখানে তিনটি ফেরি দিয়ে প্রতিদিন সর্বোচ্চ ১৫ থেকে ১৮টি ট্রিপ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে। এতে ফেরিঘাটে যানবাহনের লম্বা সারি বেড়েই যাচ্ছে। তবে অ্যাম্বুলেন্স, ব্যক্তিগত গাড়ি এবং গরুবাহী ও পচনশীল পণ্যবাহী ট্রাক অগ্রাধিকার ভিত্তিতে পার করা হচ্ছে।

২০ বছর ফেরি চলাচল বন্ধ থাকার পর গত ২৭ ফেব্রুয়ারি কাজীরহাট ফেরিঘাটটি আবারও চালু হয়। চালু হওয়ার পর থেকেই এই নৌপথে পণ্যবাহী ট্রাকসহ বিভিন্ন যানবাহন চলাচলের চাপ বাড়তে থাকে। ঈদুল ফিতরের আগেও এই নৌপথে চারটি ফেরি দিয়ে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার করা হতো। এরপর গত ১৮ মে যান্ত্রিক ত্রুটি দেখা দেওয়ায় একটি ফেরি বন্ধ করে দেওয়া হয়। তখন থেকেই মাত্র তিনটি ফেরি দিয়ে নৌপথে যানবাহন ও যাত্রী পারাপার চলছে।

default-image

ফেরিতে যানবাহন ওঠানোর তদারকিতে থাকা বিআইডব্লিউটিসি কাজীরহাট ফেরিঘাটের লস্কর শামীম হোসেন বলেন, সাধারণত একটি ফেরিতে ১৫ থেকে ১৬টি ট্রাক ওঠানো যায়। কিন্তু ব্যক্তিগত গাড়ি ওঠানোর বিষয়টি অগ্রাধিকার পাওয়ায় একটি ফেরিতে চার থেকে পাঁচটির বেশি ট্রাক ওঠানো যাচ্ছে না। কখনো কখনো দু-তিনটি ট্রাক ওঠানোর পর আর জায়গা থাকছে না।

ঘাটের টার্মিনাল সহকারী (টিএ) আবুল হাসনাইন জানান, গতকাল ভোর ৬টা থেকে আজ ভোর ৬টা পর্যন্ত তিনটি ফেরি দিয়ে মোট ১৮টি ট্রিপ হয়েছে। এতে ৭টি যাত্রীবাহী বাস, ১১৩টি ট্রাক ও ২২৯টি ছোট গাড়ি কাজীরহাট থেকে আরিচায় পার করা হয়েছে।

এই টার্মিনালে কমপক্ষে ২০০ ট্রাকের দাঁড়ানোর জয়াগা রয়েছে। কিন্তু এটা দখল হওয়ার কারণে একটি ট্রাকেরও দাঁড়ানোর জায়গা নেই।
মো. রইজউদ্দিন, সাধারণ সম্পাদক, কাজীরহাট ট্রাকচালক ইউনিয়ন

এদিকে পারাপারের অপেক্ষায় থাকা ট্রাকগুলোর জন্য কাজীরহাট ফেরিঘাটের পাশে ট্রাক ট্রার্মিনাল থাকলেও দখলের কারণে সেটিও কোনো কাজে আসছে না। টার্মিনালটি ঘুরে দেখা যায়, টার্মিনালটির বেশ খানিকটা জুড়ে দোকানপাট গড়ে তোলা হয়েছে। বাকি অংশে ব্যক্তিমালিকানাধীন ইট, বালু, খোয়া ও ভেকু মেশিন রাখা হয়েছে। ফলে সেখানে কোনো ট্রাক ঢোকার মতো উপায় নেই।

কাজীরহাট ট্রাকচালক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক মো. রইজউদ্দিন বলেন, সড়ক ও জনপথ বিভাগের (সওজ) এই টার্মিনালে কমপক্ষে ২০০ ট্রাকের দাঁড়ানোর জয়াগা রয়েছে। কিন্তু এটা দখল হওয়ার কারণে একটি ট্রাকেরও দাঁড়ানোর জায়গা নেই। কর্তৃপক্ষের অবহেলা ও উদাসীনতার কারণেই টার্মিনালটি এভাবে দখল হয়ে আছে।

ট্রাকচালক কামাল হোসেন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ‘চার-পাঁচ দিন ধরে এভাবে কষ্ট করে রাস্তায় বসে থাকা যায় না। আবার এদিকে টয়লেটের সমস্যাও দেখা দিয়েছে। আমরা যদি ট্রাক টার্মিনাল ব্যবহার করতে পারতাম, তাহলে রাস্তায় যানজটও থাকত না, আবার আমাদের থাকা–খাওয়া ও টয়লেট নিয়েও সমস্যা হতো না।’

সওজের পাবনা কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী এ কে এম শামসুজ্জোহা বলেন, ‘কাজীরহাটের ট্রাক টার্মিনাল দখলমুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরা বিআইডব্লিউটিসির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথাও বলেছি। টার্মিনালটি দখলমুক্ত হলে ফেরিঘাটসংলগ্ন মহাসড়ক অনেকটাই যানজটমুক্ত হবে।’

এদিকে গত শুক্রবার নৌপরিবহন প্রতিমন্ত্রী খালিদ মাহমুদ চৌধুরী কাজীরহাট ফেরিঘাট পরিদর্শনে এসে দুর্ভোগের চিত্র দেখে একটি নতুন ফেরি সংযোজনের ঘোষণা দিয়েছিলেন। আজ সন্ধ্যায় নতুন ফেরিটি ঘাটে আসার কথা রয়েছে।

বিআইডব্লিউটিসির কাজীরহাট ফেরিঘাটের ব্যবস্থাপক মাহবুবুর রহমান বলেন, মাত্র তিনটি ফেরি দিয়ে এত যানবাহনের চাপ সামলানো সম্ভব হচ্ছিল না। তবে প্রতিমন্ত্রীর উদ্যোগে আজ সন্ধ্যার দিকে শাহ আলী নামে একটি বড় রো রো ফেরি ঘাটে আসছে। ফেরিটি ঘাটে এলে আগামীকাল থেকে ট্রাকের জট অনেকটা কেটে যাবে বলে আশা করছেন তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন