কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের চুপিনগর হাফিজিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এই ঈদগাহ মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাট করার কথা ছিল। সম্প্রতি তোলা ছবি।
কিশোরগঞ্জের সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের চুপিনগর হাফিজিয়া মাদ্রাসা সংলগ্ন এই ঈদগাহ মাঠটি মাটি দিয়ে ভরাট করার কথা ছিল। সম্প্রতি তোলা ছবি। প্রথম আলো

কিশোরগঞ্জ সদরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নের কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) প্রকল্পের মাটি ভরাটের কাজ না করেই সাড়ে ৫ লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ উঠেছে। উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার (পিআইও) যোগসাজশে প্রভাবশালী জনপ্রতিনিধির লোকজন ভুয়া বিল–ভাউচারের মাধ্যমে ওই পরিমাণ টাকার চাল তুলে নিয়েছেন। স্থানীয় লোকজন এ ব্যাপারে সুষ্ঠু তদন্ত শেষে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
অনিয়মের বিষয়টি অস্বীকার করেছেন সদর উপজেলার পিআইও কাউছার আহমেদ। জেলা প্রশাসক মো. সারওয়ার মুর্শেদ চৌধুরী বলেন, সদরের কাবিখা প্রকল্পের একটি অভিযোগ পেয়েছেন। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন। তিনি জানান, অভিযোগের ভিত্তিতে অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

সদর উপজেলা পিআইও কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, ২০১৯-২০ অর্থবছরে গ্রামীণ অবকাঠামো উন্নয়নে কিশোরগঞ্জ সদরের চৌদ্দশত ইউনিয়নের চুপিনগর হাফিজিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠের মাটি ভরাট প্রকল্পের অনুকূলে চার কিস্তিতে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার ১৩ দশমিক ৩৩৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৩০ জুনের মধ্যে ১৭৪২ দশমিক ৫০ ঘনমিটার মাটি ভরাটের কাজ শতভাগ শেষ করার সরকারি নির্দেশ ছিল। তবে মাটি ভরাট না করেই কাগজে–কলমে শতভাগ কাজ দেখিয়ে প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ ১৩ দশমিক ৩৩৩ মেট্রিক টন চালের মূল্য প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা উত্তোলন করে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নেওয়া হয়েছে। এ নিয়ে ১২ আগস্ট সদর উপজেলার চৌদ্দশত ইউনিয়নের বড়খালের পাড় এলাকার মো. রাসেল নামে স্থানীয় এক ব্যক্তি দুর্নীতি দমন কমিশনের ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক বরাবর লিখিত অভিযোগ দেন। অভিযোগের অনুলিপি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়সহ স্থানীয় সংসদ সদস্য ও কিশোরগঞ্জের জেলা প্রশাসককে দেওয়া হয়।

কিশোরগঞ্জ সদরের চৌদ্দশত ইউনিয়নের চুপিনগর হাফিজিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠের মাটি ভরাট প্রকল্পের অনুকূলে চার কিস্তিতে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার ১৩ দশমিক ৩৩৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে মাটি ভরাট না করেই কাগজে–কলমে শতভাগ কাজ দেখিয়ে প্রকল্পের অনুকূলে বরাদ্দ চালের মূল্য প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকা উত্তোলন করে ভাগ-বাঁটোয়ারা করে নেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞাপন

অভিযোগে উল্লেখ করা হয়, ২০১৯-২০ অর্থবছরে প্রথম পর্যায়ে কাবিখা (কাজের বিনিময়ে খাদ্য) কর্মসূচির বিশেষ প্রকল্পে সদরের চৌদ্দশত ইউনিয়ন চুপিনগর হাফিজিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠের মাটি ভরাট প্রকল্পের জন্য ১৩ দশমিক ৩৩৩ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। কিন্তু সেখানে মাটি ভরাট না করেই আত্মসাৎ করা হয়েছে। প্রকল্পের সভাপতি আবুল ফারুক মো. নাসিম উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাউছার আহমেদের যোগসাজশে কোনো কাজ না করেই সাড়ে ৫ লক্ষাধিক টাকা মূল্যের ১৩ দশমিক ৩৩৩ মেট্রিক টন চাল আত্মসাৎ করেছেন। প্রকল্প সভাপতি আবুল ফারুক মো. নাসিম ইউপি চেয়ারম্যান এবং ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি এ বি ছিদ্দিক খোকার ছোট ভাই।

সম্প্রতি চুপিনগর হাফিজিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠে গেলে স্থানীয় বাসিন্দা আবুল হাশিমসহ নাম প্রকাশ না করার শর্তে আরও অন্তত পাঁচ-ছয়জন এ প্রতিবেদককে বলেন, প্রায় দুই বছর আগে এ মাঠে মাটি ভরাট করা হয়েছে। ২০১৯-২০ অর্থবছরে কোনো মাটি ভরাটের কাজ করতে দেখা যায়নি।

এ বিষয়ে সদর উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কাউছার আহমেদ বলেন, প্রায় পাঁচ মাস আগে মাটি ভরাটের কাজ হয়েছে। কাজ না করেই কাবিখার চাল আত্মসাৎ করতে তিনি কাউকে সহায়তা করেননি।

কাজ না করেই কাবিখার চাল আত্মসাৎ করার অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হাফিজিয়া মাদ্রাসাসংলগ্ন ঈদগাহ মাঠের মাটি ভরাট প্রকল্পের সভাপতি আবুল ফারুক মো. নাসিম বলেন, প্রায় পাঁচ-ছয় মাস আগে মাঠের দক্ষিণ পাশে কিছু মাটি ভরাট করা হয়েছে। কাজ না করেই চাল আত্মসাৎ করার অভিযোগ ঠিক নয়।
এ বিষয়ে কিশোরগঞ্জ-১ আসনের সাংসদ সৈয়দা জাকিয়া নূর বলেন, তিনি অভিযোগের বিষয়ে খোঁজ নেবেন। যদি আত্মসাতের কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়, তাহলে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন