বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এলাকার দোকানদার আবুল হোসেন বলেন, এই স্থানে শুধু পর্যটকদের বসার জন্য বেঞ্চ আছে। এখানে ছাতা ও বাতি দেওয়ার কথা, কিন্তু কিছুই দেওয়া হয়নি। ওই প্রকল্পের সভাপতি পৌর কাউন্সিলর রোকনুজামান দাবি করেন, গ্রিল নির্মাণের প্রকল্পের অর্থ দিয়ে তিনি সিডর পয়েন্টের ব্লকে রঙের কাজ করিয়েছেন। তবে স্থানীয় বাসিন্দারা বলছেন, এই ব্লকে মাহবুব খান নামের এক ব্যক্তি স্বেচ্ছায় রঙের কাজ করিয়েছেন।

দ্বিতীয় পর্যায়ের টিআরের বিশেষ প্রকল্পে পাথরঘাটা উপজেলায় ২৮ লাখ ৭ হাজার ৬৬০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে উপজেলার কালমেঘা ইউনিয়নের দক্ষিণ কুপদোন গ্রামের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান আবদুল খবির উদ্দীন আহম্মেদের বাড়ি থেকে পূর্ব দিকে হেমায়েত উদ্দীনের বাড়ি পর্যন্ত পাকা সড়ক সংস্কারের জন্য ১ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। বাস্তবে এই দুই বাড়ির মধ্যে কোনো পাকা সড়ক নেই। বেশ কয়েক বছর আগে ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) কার্যালয় থেকে ইটের রাস্তা (হেরিংবন) করা হয়েছিল। ভুয়া প্রকল্প দেখিয়ে এই প্রকল্পের টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে।

কালমেঘা ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের সুলতানের বাড়িসংলগ্ন বেড়িবাঁধ থেকে পশ্চিম দিকে মতি চৌকিদারের বাড়ি পর্যন্ত মাটির রাস্তা পুনর্নির্মাণের জন্য আড়াই লাখ টাকার একটি প্রকল্প দেওয়া হয়। স্থানীয় ব্যক্তিরা বলেন, এই রাস্তায় নামমাত্র মাটির কাজ করানো হয়েছে। রাস্তার উঁচু-নিচু জায়গাগুলো সমান করে দেওয়া হয়েছে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি ছিলেন কালমেঘা ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান আকন মো. সহিদ। প্রথম আলোকে তিনি বলেন, ‘আমি নিয়মানুযায়ী প্রকল্পের কাজ করেছি।’

পাথরঘাটা উপজেলায় তৃতীয় পর্যায়ের ৬৫টি প্রকল্পে ৪৫ লাখ ৬ হাজার ৪৮০ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে কাকচিড়া ইউপির ৪ নম্বর ওয়ার্ডের মতি হাওলাদারের বাড়ি থেকে মৌজে আলী খানের বাড়ি হয়ে লতিফ ফরাজির বাড়ি কমিউনিটি ক্লিনিক পর্যন্ত রাস্তায় মাটির কাজের জন্য আড়াই লাখ টাকার একটি প্রকল্প দেওয়া হয়। সরেজমিনে দেখা যায়, এই প্রকল্পে কোনো কাজই হয়নি। অথচ শতভাগ কাজ সম্পন্নের দাবি করছেন প্রকল্পটির সভাপতি মো. মিলন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রকল্পের নিয়ম অনুসারে কাজ করেছি। শতভাগ কাজ করেছি।’

পাথরঘাটা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মাকসুদুর রহমান প্রথম আলোকে বলেন, তিনি এসব বিষয়ে জানেন না। এখানে নতুন এসেছেন। সদ্য সাবেক প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি থাকাকালে যেসব কাজ হয়েছে, সেসব শতভাগ হয়েছে। দুই থেকে তিনটি প্রকল্প আছে, যেগুলোর কাজ হয়নি। এসব প্রকল্পের টাকা পে-অর্ডারের মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট ইউএনওর অনকূলে জমা দেওয়া হয়েছে।’

২০২০-২১ অর্থবছরে বেতাগী উপজেলা ও বেতাগী পৌরসভায় চার ধাপে টিআর কর্মসূচির ৯৩টি প্রকল্পের জন্য ৫৩ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে তৃতীয় পর্যায়ে ৮টি প্রকল্পে ৫ লাখ ২০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। ৮ প্রকল্পের মধ্যে এক প্রকল্পে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা লীনা বেগমের নামে একটি গভীর নলকূপ বরাদ্দ দেওয়া হয়। তবে কোনো নলকূপ পাননি বলে জানান লীনা।

একই অর্থবছরে প্রথম পর্যায়ের টিআর প্রকল্পে বেতাগী উপজেলার কাজিরাবাদ ইউনিয়নে তিনটির প্রকল্পে দেড় লাখ টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। এর মধ্যে ইউনিয়নের মান্নানের বাজারে একটি গণশৌচাগার সংস্কারের জন্য ৫০ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়। স্থানীয় ব্যক্তিরা জানান, গণশৌচাগারটি ২০ বছর আগে পরিত্যক্ত হয়ে গেছে, সংস্কারকাজ হয়নি। এসব প্রকল্পের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি।

বেতাগী উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা ওয়ালিউল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, লীনার বাড়িতে বরাদ্দ দেওয়া নলকূপটি পাশের মসজিদে বসানো হয়েছে। এ ছাড়া সব প্রকল্পে কাজ ঠিকভাবে হয়েছে।

এদিকে টিআরের বিশেষ বরাদ্দে চার ধাপে বামনা উপজেলায় ৪৭টি প্রকল্পে ২৭ লাখ ৬৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এর মধ্যে উপজেলার রমনা ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের তৈয়ব আলীর বাড়িতে এবং ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর রামনা গ্রামের মঞ্জু হকের বাড়িতে গভীর নলকূপ স্থাপনের কথা। সরেজমিনে ওই দুই বাড়িতে নতুন নলকূপ বসাতে দেখা গেছে।

বামনার ইউএনও বিবেক সরকার প্রথম আলোকে বলেন, বেশির ভাগ প্রকল্প ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে বরাদ্দ দেওয়া হয়। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের টাকা কেউ মেরে খায় না। তাছাড়া গভীর নলকূপ বসানো নিয়ে কারও কোনো অভিযোগ নেই। (শেষ)

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন