বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বেশির ভাগ প্রকল্পে কাজই হয়নি। অনেক প্রকল্পে কাজ হয়েছে সামান্য। কয়েকটি খুঁজেই পাওয়া যায়নি।

মেষ্টা ইউনিয়নের ফকিরপাড়া জামে মসজিদের শৌচাগার নির্মাণের জন্য বরাদ্দ ছিল এক লাখ টাকা। কিন্তু বাস্তবে সেখানে শৌচাগার নির্মাণের কোনো কাজ হয়নি। মসজিদ কমিটির সভাপতি জামাল উদ্দিন বলেন, শৌচাগার নির্মাণের কাজ হয়নি, এটা সত্য। তবে তাঁদের ৬৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। বাকি ৩৫ হাজার টাকা ভ্যাট ও খরচের কথা বলে কেটে রাখা হয়েছে।

একইভাবে মেষ্টা ইউনিয়নের পূর্ব কলতাপাড়া মসজিদ উন্নয়ন প্রকল্পের নামে এক লাখ টাকা তুলে নেওয়া হয়েছে। সেখানেও কোনো উন্নয়নকাজ হয়নি। মসজিদ কমিটির সভাপতি আবদুর রাজ্জাক প্রায় ৬৫ হাজার টাকা মূল্যের ৮ হাজার ইট পাওয়ার কথা জানিয়েছেন। মেষ্টা কুমারগাতি ঈদগাহ মাঠ সংস্কারে বরাদ্দ ছিল এক লাখ টাকা। সংস্কারকাজের কোনো চিহ্ন মাঠে গিয়ে দেখা যায়নি। স্থানীয় বাসিন্দা গোলাম মোস্তফা বলেন, মাঠের কোনো উন্নয়নকাজ হয়নি। তবে সম্প্রতি কয়েক হাজার ইট দিয়ে এক ফুট উচ্চতার একটি দেয়াল করা হয়েছে। এতে কত টাকা খরচ হয়েছে, তা তাঁরা জানেন না।

শরীফপুর ইউনিয়নের রেলওয়ে কলোনি স্কুলের দুটি ভবনের মধ্যে ছাত্রছাত্রীদের যাতায়াতের জন্য ছাদ নির্মাণ প্রকল্প দেখিয়ে ২ লাখ টাকা উত্তোলন করা হয়েছে। তবে এই এলাকায় এমন নামের কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান খুঁজে পাওয়া যায়নি।

জামালপুর সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ফরিদা ইয়াছমিন বলেন, এ ধরনের প্রকল্প বাস্তবায়নের বিষয়টি এলজিইডির উপজেলা প্রকৌশলী কার্যালয়ের দায়িত্ব। প্রকল্প বাস্তবায়নে অনিয়ম সম্পর্কে কোনো অভিযোগ পাওয়া যায়নি। অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

উপজেলা প্রকৌশলী রমজান আলী বলেন, ‘টাকা আত্মসাতের কোনো ঘটনা ঘটেনি। কাজে হয়তো উনিশ-বিশ হতে পারে। ১৪৪টি প্রকল্প। সব প্রকল্পের কাজ আমি দেখতে পারিনি। পিআইসির কাজগুলো ইউপি চেয়ারম্যান ও সদস্যরা করেছেন। সেগুলোও দেখা সম্ভব হয়নি। কোথাও কাজে উনিশ-বিশ হলেও কেউ আমাকে একটি টাকা দিয়েছেন, এটা বলতে পারবেন না। প্রকল্প বাস্তবায়নে ত্রুটি থাকলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন