default-image

মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলার সাগরনাল ইউনিয়নের সমাই বাজার-বরইতলি সড়ক রক্ষায় প্রতিরক্ষাদেয়াল নির্মাণসহ মাটি ভরাট করে সংস্কারের কাজ শুরু হয় বছরখানেক আগে। প্রায় ৪০ শতাংশ কাজ শেষও হয়। কিন্তু এরপর থেকেই ঠিকাদার লাপাত্তা। এতে ওই সড়ক দিয়ে চলাচলকারী লোকজন চরম দুর্ভোগে পড়েছে।

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, সমাই বাজার-বরইতলি সড়কটি এলজিইডির আওতাধীন। সড়কটির দৈর্ঘ্য প্রায় দেড় কিলোমিটার। সড়কটির এক পাশ দিয়ে সমাই ছড়া নামের একটি পাহাড়ি ছড়া বয়ে গেছে। প্রতিবছর অতিবৃষ্টি ও উজান থেকে নামা পাহাড়ি ঢলের কারণে ওই ছড়ায় পানি বেড়ে যায়। এ সময় প্রবল স্রোতে সড়কের বিভিন্ন স্থানে ভাঙনের সৃষ্টি হয়। এ পরিস্থিতিতে সড়কের ১৩০ মিটার জায়গায় ইটের প্রতিরক্ষাদেয়াল নির্মাণসহ সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি। প্রায় ৩৪ লাখ টাকা ব্যয়ে মোল্লা এন্টারপ্রাইজ নামের ঢাকার একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কাজটি পায়। গত বছরের জুন মাসের প্রথম দিকে কাজ শুরু হয়। কয়েক দিন কাজের পর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন কাজ ফেলে চলে যান। এ বছরের জানুয়ারি মাসে কাজটি শেষ হওয়ার কথা ছিল। সেই সময়সীমা শেষ হওয়ার প্রায় ৯ মাস হতে চলেছে, নতুন করে কাজ শুরুর কোনো উদ্যোগ নেই।

বিজ্ঞাপন

এ সড়ক দিয়ে সাগরনালসহ আশপাশের গোয়ালবাড়ী ও ফুলতলা ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার কয়েক হাজার লোকজন প্রতিদিন চলাচল করেন। সরেজমিনে দেখা যায়, সমাই বাজার থেকে বরইতলি চৌমোহনা পর্যন্ত সড়কের একাধিক স্থান ভেঙে গেছে। ছড়ায় কিছু স্থানে দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতার ইটের দেয়াল স্থাপন করা হয়েছে। কিছু স্থান ফাঁকা পড়ে আছে। বিভিন্ন ধরনের যানবাহন ঝুঁকি নিয়েই সড়কটি দিয়ে চলছে।

সাবেক ইউপি সদস্য মো. আবদুল্লাহ বলেন, সড়কের কাজ না হওয়ায় মানুষের দুর্ভোগের শেষ নেই। সড়কটি ভাঙাচোরা থাকায় রাতে যান চলাচলে বেশি ঝুঁকি থাকে। জানতে চাইলে উপজেলা প্রকৌশলী আবদুল মতিন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে ঠিকাদারের কোনো খোঁজ নেই। মুঠোফোনেও যোগাযোগের চেষ্টা করে তাঁকে মেলে না। তাঁর জামানত ও কাজের বিলের টাকা আটকে রাখা হয়েছে। কাজটি বাতিলের প্রক্রিয়া চলছে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মোল্লা এন্টারপ্রাইজের মালিক আবদুল কুদ্দুছ মোল্লার মুঠোফোনটি বন্ধ পাওয়া গেছে।

মন্তব্য পড়ুন 0