বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১৫ ডিসেম্বরের মধ্যে বাঁধের কাজ শুরু করে তা চলতি বছরের ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু হাওর থেকে দেরিতে পানি নামায় জরিপ, প্রাক্কলন তৈরি, প্রকল্প কমিটি গঠনসহ অন্যান্য কাজ সময়মতো শেষ না হওয়ায় বাঁধের কাজ শেষ করার সময় ১৫ মার্চ পর্যন্ত বাড়ানো হয়। বাঁধের কাজের চূড়ান্ত বিলের (চতুর্থ কিস্তির) টাকা পরিশোধের জন্য উপজেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ কমিটি সুনামগঞ্জ জেলা কাবিটা প্রকল্প বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণ কমিটির কাছে গত ৭ জুন একটি প্রতিবেদন পাঠায়। কিন্তু ওই প্রতিবেদন পাঠানোর পাঁচ মাস পার হলেও এ সমস্যার সমাধান মেলেনি।

উপজেলার সোনামড়ল হাওরের একটি প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি কৃষক মুক্তার হোসেন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় বাঁধের কাজ করার জন্য ১০ লাখ ৩৬ হাজার টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তিন কিস্তিতে মোট বরাদ্দের শতকরা ৫৯ ভাগ টাকা পেয়েছি। পুরো কাজ শেষ করতে গিয়ে গ্রাম্য মহাজনের কাছ থেকে সুদের ওপর টাকা আনতে হয়েছে। এ বাবদ প্রতিমাসে মহাজনকে ১০ হাজার টাকা করে সুদ দিতে হচ্ছে। তাই দ্রুত চতুর্থ কিস্তির টাকা দেওয়ার ব্যবস্থা করার দাবি জানাচ্ছি।’

উপজেলার চন্দ্র সোনার থাল হাওরের ডুবাইল ফসল রক্ষা বাঁধের প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটির সভাপতি কৃষক জিয়াউর রহমান বলেন, ‘আমাদের বাঁধটির দৈর্ঘ্য ৭০০ মিটার। বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল প্রায় ১৮ লাখ টাকা। আট মাস আগে বাঁধের কাজ শেষ করেছি। চতুর্থ কিস্তির টাকা না পেয়ে খুব বিপদের মধ্যে আছি।’

হাওর বাঁচাও আন্দোলনের ধরমপাশা উপজেলা কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক কৃষক আলা উদ্দিন বলেন, ‘এ উপজেলার অধিকাংশ কৃষক (পিআইসির সদস্য) অস্বচ্ছল। তাঁদেরকে ধারদেনা করে বাঁধের কাজ শেষ করতে হয়েছে। আট মাস পরও চতুর্থ কিস্তির টাকা না পাওয়ার বিষয়টি অত্যন্ত অমানবিক। বাঁধের কাজ শেষ করার পর তাঁরা যাতে দ্রুত টাকা পেয়ে যান সে জন্য কৃষকবান্ধব মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুদৃষ্টি কামনা করছি।’

পাউবোর সুনামগঞ্জ কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী জহুরুল আলম প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমি এখানে নতুন এসেছি। অর্থ মন্ত্রণালয় থেকে ফসল রক্ষা বাঁধের কাজের অবশিষ্ট চতুর্থ কিস্তির টাকা এখনো ছাড় হয়নি। তবে পিআইসি সদস্যরা যাতে দ্রুত তাঁদের প্রাপ্য পাওনা টাকা পেয়ে যান সে জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা চলছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন