default-image

জয়ন্তীর কথা কেড়ে নিয়ে সুমিত্রা রায় (৩৯) বলেন, ‘হামরা সাতজনে এক দিনতেই দুই বিঘা জমির গম কাটিবা পারু। দিন শেষত হামরা প্রতিজন পাছু ৫৭০ টাকার মতো। আর হাজিরা খাটিলে পানু ৩০০ টাকা করিয়া।’

অসুস্থতার কারণে বছর দশেক আগে যশোদা রানীকে (৪৪) ছেড়ে যান তাঁর স্বামী সদানন্দ রায়। এখন কৃষিমজুরি করে চলে তাঁর জীবন। যশোদা রানীও নারীদের ওই দলে যোগ দিয়েছেন। যশোদা বলেন, ‘শরীরের সমস্যারতানে অন্যদের চেয়ে কিছুটা কম কাজ করিবা পারু। কিন্তি দিন শেষত ওমরা (দলের অন্য সদস্যরা) হামাক সমান টাকা দেছে।’ কথাটি শুনে মিনু ঘোষ (৪১) বলেন, ‘তাতে কী হইল, হামরাতো দল বাঁধিছু। দলের সবার ভালো-মন্দ সবাক দেখিবা হবেনি?’

কিছু দূরের রহিমানপুর গ্রামেও তখন চলছে গম ঘরে তোলার কর্মযজ্ঞ। খেত থেকে গম কাটার পর মাথায় বোঝা নিয়ে জমির মালিকের বাড়ি যাচ্ছিলেন তিন নারী শ্রমিক। তাঁদের মধ্যে একজন দুর্গা রানী (৪৮)। সে সময় তাঁর সঙ্গে কথা হয়। তিনি বলেন, ‘আগতে হামরা পুরুষলার সাতত কাজ করছিনু। এলা আলাদা দল করছু। যা পাও, তা হামরা ভাগ করে নেও। দল বাঁধিয়াই হামারলার সুখ হইছে।’

রহিমানপুর গ্রামের বাসিন্দা দবিরুল ইসলাম (৬২) বলেন, এলাকায় নারী শ্রমিকেরা পুরুষদের তুলনায় কিছুটা কম মজুরি পান। এটা একটা প্রথা বলতে পারেন। কিন্তু নারীরা এখন আলাদা দল বেঁধে চুক্তিতে কাজ নিচ্ছেন। সেখানে কোনো পুরুষ শ্রমিক থাকছেন না। এতেই তাঁদের বেশি আয় হচ্ছে।

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা সামাজিক কল্যাণ সংস্থার পরিচালক আম্বিয়া খাতুন বলেন, অর্থনীতিতে নারী কৃষিশ্রমিকদের অবদান থাকলেও তাঁরা অনেক ক্ষেত্রে মজুরিবৈষম্যসহ আরও নানা ধরনের নিপীড়নের শিকার হন। সেই মজুরিবৈষম্য রোধে আলাদা দল বেঁধে নারী কৃষিশ্রমিকদের কাজ করার ভাবনাটি তাঁদের জীবনমান পরিবর্তনে সহায়ক ভূমিকা রাখবে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ঠাকুরগাঁও কার্যালয়ের উপপরিচালক আবু হোসেন বলেন, ‘কৃষিকাজের বীজ বপন থেকে ফসল ঘরে তোলা পর্যন্ত ৬০ শতাংশ কাজের সঙ্গে নারীদের সম্পৃক্ততা রয়েছে। দীর্ঘদিন নারী কৃষিশ্রমিকেরা পুরুষদের তুলনায় কিছুটা কম মজুরি পান। এমন উদ্যোগে নারী শ্রমিকেরা লাভবান হবে বলে মনে করি।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন