বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

প্রকল্প বাস্তবায়নের ধীর গতির বিষয়ে জানতে চাইলে সওজ যশোরের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন বলেন, মহাসড়কের দুই পাশের সড়ক ও জনপথের (সওজ) জায়গা ব্যক্তিমালিকানায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। সেখানে বহুতল ইমারত নির্মাণ করা হয়েছে। এসব জমি উদ্ধার করতে গেলে আদালতে তিনটি মামলা হয়েছে। এ কারণে সময় অনেক নষ্ট হয়েছে। ফলে নির্ধারিত সময়ে কাজ হয়েছে ৩০ শতাংশ। বাকি কাজের জন্য প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৩ সালের জুন পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে।

গত রোববার সরেজমিনে দেখা গেছে, শহরের মনিহার প্রেক্ষাগৃহের সামনে মুক্তিযুদ্ধের দুটি বিজয়স্তম্ভ রয়েছে। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর একটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। এই বিজয়স্তম্ভের ঠিক সামনেই আরেকটি বিজয়স্তম্ভ। নতুন করে বিজয়স্তম্ভ নির্মিত হলেও মানুষ পুরোনো বিজয়স্তম্ভেই বিজয় দিবসে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন। নতুন বিজয়স্তম্ভ অপসারণের জন্য যশোর জেলা কর্তৃপক্ষ গত ২১ নভেম্বর সওজ থেকে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে চিঠি পাঠায়। কিন্তু এক মাসেও এই বিষয়ে সাড়া পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছে জেলা কর্তৃপক্ষ সূত্র।

যশোর-নড়াইল সড়কের বিজয়স্তম্ভের দক্ষিণ পাশের ৫ শতক জমি যশোর পৌরসভা থেকে বরাদ্দ নিয়ে চারতলা ভবন নির্মাণ করেন শেখ মহব্বত আলী নামের এক ব্যক্তি। বিশাল ওই ভবনে আবাসিক হোটেল গড়ে তোলা হয়েছে। মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণ কাজে বাধা হয়েছে দাঁড়িয়েছে এই বিষয়টিও। মহব্বত আলী বলেন, ‘অন্তত ২০ বছর আগে যশোর পৌরসভা থেকে আমি ওই জায়গা বরাদ্দ নিয়ে চারতলা ভবন নির্মাণ করে কোকো নামে একটি আবাসিক হোটেল গড়ে তুলেছি। জায়গা ছাড়তে আমার আপত্তি নেই। সে ক্ষেত্রে আমাকে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। এ জন্য আদালতে একটি রিট করেছি।’

এ বিষয়ে যশোর পৌরসভার মেয়র হায়দার গণি খান বলেন, অবৈধভাবে ওই ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। কারণ, সরকারি বরাদ্দ নেওয়া জমিতে বহুতল ভবন নির্মাণ করা যায় না। জাতীয় মহাসড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের জন্য ওই ভবন ভেঙে ফেলা হবে।

প্রকল্পের অগ্রগতি না হওয়ার আরেকটি কারণ শেখ হাসিনা সফটওয়্যার টেকনোলজি পার্কের পাশে সড়কের জমি জেলা পরিষদ থেকে ইজারা দেওয়ার ঘটনা। সেখানে ২১টি দোকানঘর গড়ে তোলা হয়। অবশ্য গত বুধবার সেই অবৈধ দোকানগুলো উচ্ছেদ করেছে সওজ।

সওজ সূত্রে জানা গেছে, শহরের বকচর এলাকায় জাতীয় মহাসড়কের পাশে ভাড়া করা একটি বহুতল ভবনে যশোর র‍্যাব-৬-এর অস্থায়ী কার্যালয়। সওজ বিভাগের জমি দখল করে ভবনের সীমানাপ্রাচীরসহ প্রধান ফটক নির্মিত হয়েছে। প্রাচীরটি সরিয়ে নিতে গত ২৯ জুলাই সওজের নির্বাহী প্রকৌশলী এস এম মোয়াজ্জেম হোসেন স্বাক্ষরিত একটি চিঠি র‌্যাব-৬-এর অধিনায়কের কাছে পাঠানো হয়।

এই বিষয়ে র‌্যাব-৬-এর যশোর কার্যালয়ের উপপরিচালক নাজিউর রহমান বলেন, র‍্যাব কার্যালয়ের সীমানাপ্রাচীর অপসারণে আর
কোনো বাধা নেই। ভবনের মালিককে নতুন করে নিজের সীমানায় নিরাপত্তাপ্রাচীর নির্মাণ করে দিতে বলা হয়েছে।

যশোর জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সাইফুজ্জামান পিকুল বলেন, সড়ক চার লেনে উন্নীতকরণের স্বার্থে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন