default-image

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জের বসুরহাটে সেতুমন্ত্রীর ভাই আবদুল কাদের মির্জা ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মিজানুর রহমানের (বাদল) অনুসারীদের মধ্যে ফের পাল্টাপাল্টি হামলা, গুলি ও সংঘর্ষ হয়েছে। এতে উভয় পক্ষের ১৫ জন আহত হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার বিকেল পৌনে চারটার দিকে কোম্পানীগঞ্জ থানা-সংলগ্ন ব্রিজ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

উপজেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার এক অনুসারী শাহাদাত সিপাতের ফেসবুক লাইভে আপত্তিকর মন্তব্য ও গলমন্দের জের ধরে ঘটনার সূত্রপাত বলে জানা গেছে। তবে ফোন না ধরায় এ বিষয়ে আবদুল কাদের মির্জার কিংবা শাহদাত সিপাতের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এর আগে গত ৯ মার্চ বসুরহাটে এই দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে আলাউদ্দিন নামে শ্রমিক লীগের এক নেতা গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা যান। আর কমপক্ষে ৩০ জন আহত হন। ওই ঘটনার পর গতকালের ঘটনায় দুই পক্ষের মধ্যে নতুন করে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, বৃহস্পতিবার সকাল থেকে উপজেলা আওয়ামী লীগের উদ্যোগে সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের পক্ষে বসুরহাট পৌরসভার বিভিন্ন ওয়ার্ডের প্রায় তিন হাজার অসহায় মানুষের মধ্যে ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করা হয়। সকালে রামদি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ত্রাণ বিতরণ করতে গিয়ে সেখানে বাধার মুখে পড়তে হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি খিজির হায়াত খান।ত্রাণ বিতরণ শেষে বিকেল সাড়ে তিনটার দিকে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও সাবেক উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মিজানুর রহমানের অনুসারীরা বসুরহাটে আসেন। তাঁরা কাদের মির্জার এক অনুসারীর ফেসবুক লাইভে দেওয়া বক্তব্যের প্রতিবাদে থানার সামনে গিয়ে কাদের মির্জার বিরুদ্ধে স্লোগান দিয়ে জিরো পয়েন্টের দিকে যাওয়ার চেষ্টা করেন। এ সময় পুলিশ তাঁদের ধাওয়া করে।

বিজ্ঞাপন

এরপর মিজানুর রহমানের অনুসারী আওয়ামী লীগের নেতা-কর্মীরা রূপালী চত্বরের দিকে যাওয়ার সময় জিরো পয়েন্ট থেকে কাদের মির্জার ৬০-৭০ জন অনুসারী হামলা চালান। এ সময় কয়েকটি ককটেলের শব্দও শোনা যায়। একপর্যায়ে হামলাকারীরা ওবায়দুল কাদেরের ভাগনে ফখরুল ইসলামের (রাহাতের) বাসায় ককটেল ছুড়ে মারেন। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে কিছুক্ষণ ইটপাটকেল নিক্ষেপ চলে। এতে উভয় পক্ষের প্রায় ১৫ জন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে ৯ জনের নাম জানা গেছে। তাঁরা হলেন ওবায়দুল কাদেরের ভাগনে হুমায়ুন রশিদ ওরফে মিরাজ, কাদের মির্জার ছেলে তাসিক মির্জা, যুবলীগ নেতা আরমান চৌধুরী, বোরহান উদ্দিন, আদনান পাশা ওরফে জয়, মো. সানি, নজরুল ইসলাম ওরফে হিমেল, মো. বাহাদুর ও ওমর ফারুক। আহত ব্যক্তিদের উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়েছে।

উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতা মিজানুর রহমানের অভিযোগ, দুপুরের দিকে কাদের মির্জার অনুসারী কামাল হোসেন তাঁর (মিজানুর) ফেসবুক থেকে একটি পোস্টের স্ক্রিনশট নিয়ে তা এডিট করে ওবায়দুল কাদের ও তাঁর পরিবার সম্পর্কে আপত্তিকর একটি পোস্ট করেন। দুপুরে কাদের মির্জার আরেক অনুসারী পৌরসভা ভবন থেকে ফেসবুকে লাইভে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাদের নিয়ে অশ্লীল মন্তব্য ও গালমন্দ করেন। এসব ঘটনার প্রতিবাদে উপজেলা আওয়ামী লীগের কিছু নেতা-কর্মী একটি বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে থানার পাশের রাস্তা দিয়ে যাওয়ার পথে হামলা চালানো হয়। এতে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।

কাদের মির্জার অনুসারী উপজেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি ইস্কান্দার হায়দার চৌধুরী গতকাল সন্ধ্যায় প্রথম আলোকে বলেন, তিনি অসুস্থতার কারণে বাড়িতে অবস্থান করছেন। বসুরহাটে দুটি পক্ষের মধ্যে গন্ডগোলের কথা শুনেছেন। কিন্তু কী নিয়ে গন্ডগোল, সেটি জানেন না।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক প্রথম আলোকে বলেন, আজ সকালে পৌরসভা ভবন থেকে কাদের মির্জার এক অনুসারী ফেসবুকে লাইভে বক্তব্য দেন। এ নিয়ে অপর পক্ষ ক্ষুব্ধ হয়। তারা প্রতিবাদ জানাতে উঠলে উত্তেজনা দেখা দেয়, যার একপর্যায়ে মেয়রের অনুসারী ও উপজেলা আওয়ামী লীগের মিজানুর রহমানের অনুসারীদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া ও সংঘর্ষ হয়। তৎক্ষণাৎ পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন