default-image

নোয়াখালীর বসুরহাট পৌরসভার মেয়র আবদুল কাদের মির্জার অনুসারী হিসেবে পরিচিত মাইন উদ্দিন ওরফে কাঞ্চনের (৪০) বাড়ি থেকে অস্ত্র ও গুলি উদ্ধার করেছে কোম্পানীগঞ্জ থানার পুলিশ। গত ৯ মার্চ রাতে আবদুল কাদের মির্জা ও মিজানুর রহমানের অনুসারীদের মধ্যকার সংঘর্ষের ঘটনায় পুলিশের দায়ের করা মামলার ১৬ নম্বর আসামি মাইন উদ্দিন।

পুলিশ জানিয়েছে, গতকাল সোমবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে কোম্পানীগঞ্জের চরকাঁকড়া ইউনিয়নের ৩ নম্বর ওয়ার্ডে মাইন উদ্দিনের বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। এ সময় শয়ন কক্ষের খাটের নিচে থেকে একটি বাজারের ব্যাগে থাকা একটি পাইপগান ও দুটি কার্তুজ উদ্ধার করা হয়। অভিযানকালে তাঁকে পাওয়া যায়নি।

কোম্পানীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর জাহেদুল হক অস্ত্র ও গুলি উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মাইন উদ্দিনের বিরুদ্ধে এর আগের ডাকাতি, অস্ত্র ও দ্রুতবিচার আইনের বিভিন্ন অপরাধের ছয়টি মামলা রয়েছে। এ ছাড়া সাম্প্রতিক চাপরাশিরহাট ও বসুরহাটে সহিংস ঘটনায় দায়ের হওয়া আরও তিনটি মামলার আসামিও তিনি। তাঁকে গ্রেপ্তারে পুলিশের চেষ্টা অব্যাহত আছে।

গত ১৯ ফেব্রুয়ারি উপজেলার চাপরাশিরহাট বাজারে এবং গত ৯ মার্চ বসুরহাট থানা-সংলগ্ন এলাকায় ও বসুরহাট পৌরসভা কার্যালয় এলাকায় সেতুমন্ত্রীর ছোট ভাই ও বসুরহাট পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জা ও মিজানুর রহমান বাদলের অনুসারীদের মধ্যে পৃথক তিনটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

বিজ্ঞাপন

এসব ঘটনায় চাপরাশিরহাটে সাংবাদিক বুরহান উদ্দিন মুজাক্কির ও বসুরহাটে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক শ্রমিক লীগের নেতা আলাউদ্দিন গুলিবিদ্ধ হয়ে মারা গেছেন। এঁরা দুজনই মিজানুর রহমানের অনুসারী বলে দাবি করা হয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় উভয় পক্ষের বিরুদ্ধে আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। সংঘর্ষের ঘটনায় জড়িত কারও বাড়ি থেকে এই প্রথম কোনো অস্ত্র উদ্ধার হলো।

কাদের মির্জাকে ঘরোয়া কর্মসূচি পালনের নির্দেশ

এদিকে পৌর মেয়র আবদুল কাদের মির্জাকে ১৭ মার্চের অনুষ্ঠান ঘরোয়াভাবে পালন করার নির্দেশ দিয়েছে জেলা প্রশাসন। গতকাল সোমবার নোয়াখালীর অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট তারিকুল আলম স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এ নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে বলা হয়েছে, ১৭ মার্চ জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে বসুরহাট পৌরসভার বিভিন্ন কর্মসূচি গ্রহণের আবেদন পাওয়া যায়। কর্মসূচি অনুযায়ী বর্ণাঢ্য র‌্যালি, বঙ্গবন্ধু গোল্ডকাপ টুর্নামেন্টের উদ্বোধন এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করা হবে বলে জানানো হয়েছে। এসব আয়োজন সম্পর্কে জেলা পুলিশের বিশেষ শাখা থেকে জানানো হয়েছে, কোম্পানীগঞ্জে বিবদমান দুপক্ষের মধ্যে রাজনৈতিক অস্থিরতা বিরাজমান থাকায় র‌্যালি, ফুটবল টুর্নামেন্ট ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করলে প্রচুর লোক সমাগম হবে। এতে যেকোনো সময় উভয় পক্ষের মধ্যে পুনরায় বিবাদ ও সংঘাত সৃষ্টিসহ আইনশৃঙ্খলার অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই কোম্পানীগঞ্জ থানা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার্থে এবং করোনার সংক্রমণ বৃদ্ধির পরিপ্রেক্ষিতে লোক সমাগম নিয়ন্ত্রণের লক্ষ্যে ব্যাপক আকারে কোনো অনুষ্ঠান আয়োজন না করে স্বল্প পরিসরে ইনডোর (ঘরোয়া) অনুষ্ঠান আয়োজনের বিষয়ে মতামত ব্যক্ত করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন