বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সাহ্‌রির ঘণ্টাখানেক আগে থেকে বিভিন্ন পাড়া–মহল্লার অলিগলিতে রোজাদারদের জাগাতে ঘুরে বেড়ায় কাফেলা। শহরের বাঁশবাড়ি হানিফ মোড় থেকে আজমেরি কাফেলা, মেডিকেল মোড় থেকে আশরাফি কাফেলা, মিস্ত্রিপাড়া থেকে বুলান্দ কাফেলা আর আমিন মোড় থেকে হুসাইনী কাফেলা কাজ করে যাচ্ছে। শহরের কয়েকজন বয়োজ্যেষ্ঠ বলেন, সৈয়দপুরে আগে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় একাধিক কাফেলার দল থাকলেও কালের বিবর্তনে এর সংখ্যা এখন অনেক কম।

শহরের গোলাহাটে সাহ্‌রির একটু আগে ঘুম ভাঙান আজমেরি কাফেলা দলের সদস্যরা। সম্প্রতি মধ্যরাতে দেখা যায়, রিকশায় মাইক লাগিয়ে চালানো হয়েছে গজল আর ইসলামিক কবিতার শ্লোক। গজল পাঠের মাঝে মাঝে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে সাহ্‌রির সময়।

আজমেরি কাফেলার প্রধান ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তিনি এ কাজ করে আসছেন। তাঁদের ডাক শুনে মহল্লার ছোট ছেলেমেয়েরা ঘুম থেকে উঠে তাঁদের একনজর দেখতে বাইরে ভিড় করে। রমজান মাসের প্রথম দিন থেকে ঈদের চাঁদ দেখা পর্যন্ত প্রতিদিন রাত দুইটার দিকে তাঁরা নেমে পড়েন রোজাদারদের ডেকে তোলার কাজে। রাত জেগে এভাবে ডেকে তোলা তাঁদের কাছে পরম পুণ্যের কাজ।

শহরের গোলাহাট মহল্লার গৃহিণী হামিদা বেগম বলেন, ‘সেই ছোটবেলা থেকে কাফেলা দেখে আসছি। এক সময়ে ঘড়ির প্রচলন ছিল না। সে কারণে রোজাদারদের সাহ্‌রির অসুবিধা হতো। সেই সময় থেকে এ কাজ শুরু হয়। আগে কিশোরদের এই কাজ করতে দেখা গেলেও এখন বয়স্করা এই কাজ করছেন।’

হানিফ মোড়ের বাসিন্দা আরশাদ আলী জানান, রমজান মাস এলেই প্রতি রাতে কাফেলার গজলে ঘুম ভাঙে। ঘণ্টাখানেক আগে থেকেই তারা ঘুরে ঘুরে সাহ্‌রি খাওয়ার আহ্বান জানায়। কিন্তু এখন যান্ত্রিক জীবনে সবকিছু কেমন যেন পানসে হয়ে গেছে।

আশরাফি কাফেলা দলের বয়োজ্যেষ্ঠ মো. সামির বলেন, ‘আমি ৩৫ বছর ধরে কাফেলার দলে যুক্ত। প্রতিবছরই রোজাদারদের ডেকে তোলার কাজ করি। এলাকার কিছু তরুণ ও যুবক স্বেচ্ছায় রাতজাগার দলে যোগ দেন। তাঁদের বিশ্বাস, এই কাজে মানুষের দোয়া মেলে।’

সৈয়দপুর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান মো. মোখছেদুল মোমিন বলেন, আগে জুমাতুল বিদার দিন প্রতিযোগিতার মাধ্যমে প্রথম, দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্থান অর্জনকারীদের পুরস্কৃত করা হতো। যদিও এখন এটা হয় না। তবে স্থানীয় সংস্কৃতি রক্ষার্থে তাদের উৎসাহ দেওয়া হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন