বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

কামরুল জানান, তিনি ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ারিং শেষ করে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক শেষ করেছেন। মূলত বাঁশি বাজানো ও বানানো তাঁর নেশা। এখন চাকরির জন্য চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি বাঁশি বাজানো ও তৈরির কাজ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছাও আছে। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে তিনি বাঁশির অর্ডার পান। এ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইরাক, কাতার, বেলজিয়ামসহ ১২টি দেশে বাঙালিদের কাছে বাঁশি বিক্রি করেছেন। ২০১৫ সাল থেকে দেশের বিভিন্ন স্থানে স্টেজে তিনি বাঁশি বাজাচ্ছেন। রাজধানীর শিল্পকলা একাডেমির অনুষ্ঠানে নন্দন মঞ্চে দুবার বাঁশি বাজিয়েছেন তিনি। সাংস্কৃতিক মন্ত্রণালয়ের সচিবের কাছ থেকে পেয়েছেন সনদ।

কামরুল বলেন, ‘কুমিল্লার হোমনা থেকে আমি বাঁশি তৈরির বাঁশ সংগ্রহ করি। এরপর অনেক দিন ধরে বাঁশগুলো সিজনিং করে বিভিন্ন প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বাঁশি তৈরির জন্য প্রস্তুত করি। বাঁশি তৈরির টিউনিং, বাঁশির পলিশিং ও সুতা বাঁধার কাজ করে থাকি। একটি বাঁশি তৈরির জন্য অনেক সময় দিতে হয়। ১ হাজার ২০০ টাকা থেকে ২ হাজার টাকা দামের বাঁশি আমি বিক্রি করে থাকি। দেশের অনেক বিখ্যাত বংশীবাদককে আমার তৈরি বাঁশি উপহার দিয়েছি।’

বাঁশি বাজাতে ওস্তাদ কামরুলের ভাষ্য, বাঁশি বিক্রি ও বাঁশি বাজানো শিখিয়ে তাঁর মাসে ৩০ থেকে ৪০ হাজার টাকা পর্যন্ত আয় হচ্ছে। তবে, যেহেতু মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক পাস করেছেন, তাই পেশা হিসেবে ইঞ্জিনিয়ারিংকে বেছে নিতে চান। পাশাপাশি বাঁশি নিয়েও আরও অনেক দূর যাওয়ার ইচ্ছা আছে তাঁর।

অনেকের মতো কামরুলের গুণমুগ্ধ বাগেরহাটের বাউল সুমন দাস। তিনি বলেন, ‘আমরা একই গুরুর কাছ থেকে দীক্ষা নিয়েছি। কামরুল ইসলাম বাঁশিতে আর আমি সংগীতে। কামরুল ইসলামের বাঁশির সুর আমাকে মুগ্ধ করে।’

কামরুল ইসলামের ইউটিউব চ্যানেলে পোস্ট করা টিউটোরিয়াল ভিডিও দেখে বাঁশি বাজানো শিখছেন ঢাকার আইনজীবী বেলায়েত হোসেন। তিনি বলেন, ‘আমি ইউটিউব চ্যানেলে কামরুল ইসলামের টিউটোরিয়াল ভিডিও দেখে বাঁশি বাজানো শিখছি। ফোনে পরামর্শ নিচ্ছি। ওনার শেখানোর কৌশল সহজ ও সরল। কামরুল ইসলাম আমাকে বলতেন, ‘ভাষার যেমন ব্যাকরণ আছে, বাঁশি শেখারও ব্যাকরণ আছে। তার জন্য প্রয়োজন ধৈর্য ও একাগ্রতা।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন