আফতাবের এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ে জমিলা বেগম (১০) স্থানীয় বিজলি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে তৃতীয় এবং ছেলে জাকির মিয়া (৭) একই প্রতিষ্ঠানে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। জমিলা-জাকিরও শারীরিক প্রতিবন্ধী, বাবার মতো অবস্থা। জমিলা খুঁড়িয়ে হাঁটতে পারে। তবে জাকির মোটেই হাঁটতে পারে না। হাঁটতে না পারায় ছেলেকে কোলে করে নিয়ে বিদ্যালয়ে পৌঁছে দেন তাঁর স্ত্রী। আর মেয়ে কোনোমতে হাঁটে। দুই সন্তান লেখাপড়া করে একদিন স্বাবলম্বী হয়ে উঠবে বলে আফতাব আশাবাদী।

আলাপচারিতায় আফতাব বলেন, ছয় শতকের বসতভিটা ছাড়া তাঁর কোনো জমিজমা নেই। চার-পাঁচ বছর আগে এলাকার মানুষের সহায়তায় কাঠ দিয়ে পানের বাক্স তৈরি করে দোকান খোলেন। পান বেচে প্রতিদিন ১০০-১৫০ টাকা আয় হয়। মেয়ে জমিলা সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে মাসে ৭৫০ টাকা ভাতা পায়। তবে ছয় মাস পরপর ভাতার টাকা মেলে।

আফতাব বলেন, ‘বাজারে জিনিসপত্রের দাম তো দিন দিন বাড়ছেই। ১০০-১৫০ টাকা দিয়া চাল-ডালই কিনা যায় না। খুব কষ্টে চলছি। পুঁজি পাইলে দোকানটারে আরেকটু বড় করতাম। বোঝা হইয়া থাকতাম চাই না।’

দুলবি বেগম বলেন, পাশের পৃথিমপাশা ইউনিয়নের রবিরবাজার এলাকায় ‘প্রসেস প্রতিবন্ধী সেবা সংস্থা’ নামের একটি সংগঠন রয়েছে। সম্প্রতি ওই সংস্থা আফতাবের ছেলে জাকিরকে একটি হুইলচেয়ার কিনে দিয়েছে। সংগঠনের কার্যকরী কমিটির সদস্য স্থানীয় লংলা আধুনিক ডিগ্রি কলেজের শিক্ষক মাজহারুল ইসলাম বলেন, ওই পরিবারের সহায়তা করতে তাঁরা এ উদ্যোগ নেন।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এ টি এম ফরহাদ চৌধুরী বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে আফতাবের পরিবার সম্পর্কে তিনি জেনেছেন। ওই পরিবারকে প্রশাসনের পক্ষ থেকে সহায়তা করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন