বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
আমরাও আওয়ামী লীগ করি। কিন্তু আওয়ামী লীগ কর্মীরা যেভাবে একটি সুন্দর ভোটকে কারচুপির মাধ্যমে নষ্ট করেছেন, সেটা নিয়ে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব।
আফজল হক, স্বতন্ত্র প্রার্থী

প্রেমসাগর হাজরা আক্ষেপ করে বলেন, ‘চা-শ্রমিকেরা বারবার জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে আসছেন। আমি চা-শ্রমিকের সন্তান হয়ে এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। কিন্তু আমরা যাঁদের বারবার ভোট দিয়ে বিজয়ী করি, তাঁরাই আমাদের এই নির্বাচনে কারচুপি করে পরাজিত করতে নীলনকশা করেছেন।’

স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজল হক অভিযোগ করেন, ‘আমরাও আওয়ামী লীগ করি। কিন্তু আওয়ামী লীগ কর্মীরা যেভাবে একটি সুন্দর ভোটকে কারচুপির মাধ্যমে নষ্ট করেছেন, সেটা নিয়ে আমরা আইনি ব্যবস্থা নেব। আমাদের এই নির্বাচনে জয়ী হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু যেভাবে সব ভোটকেন্দ্র দখল করে নৌকায় সিল মেরে বাক্সভর্তি করা হলো...। এই নির্বাচন আমরা বর্জন করেছি।’

এই নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা ও মৌলভীবাজার জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা আলমগীর হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, ‘দুই প্রার্থীর ভোট বর্জনের কথা লোকমুখে শুনেছি। তাঁরা আমাদের জানাননি। ভোট বর্জনের বিষয়টি আইনসিদ্ধ না। এখানে শান্তিপূর্ণভাবে ভোট হয়েছে। কিছু ভোটকেন্দ্রে বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটলেও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেটা সামাল দিয়েছে। কোথাও কোনো কারচুপি হয়নি। ভোট শতভাগ সুষ্ঠু হয়েছে।’

চা-শ্রমিকেরা বারবার জাতীয় নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে ভোট দিয়ে আসছেন। আমি চা-শ্রমিকের সন্তান হয়ে এই নির্বাচনে অংশ নিয়েছি। কিন্তু আমরা যাঁদের বারবার ভোট দিয়ে বিজয়ী করি, তাঁরাই আমাদের এই নির্বাচনে কারচুপি করে পরাজিত করতে নীলনকশা করেছেন।
প্রেমসাগর হাজরা, স্বতন্ত্র প্রার্থী

এদিকে বেলা দুইটার দিকে কাসিমপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনে র‍্যাবের সঙ্গে গ্রামবাসীর সংঘর্ষ হয়। সেখানে গ্রামবাসীর হামলায় দুই র‍্যাব সদস্য আহত হন। আহত দুজন হলেন ল্যান্স নায়েক আক্তার ও কনস্টেবল আবু বকর। পরে র‍্যাব, পুলিশ ও বিজিবি ঘটনাস্থলে গিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করে।

র‍্যাব-৯ শ্রীমঙ্গল ক্যাম্পের অধিনায়ক বসু চাকমা বলেন, এখানে ভোটকেন্দ্রের সামনে ভ্রাম্যমাণ দোকান বসিয়েছিলেন গ্রামবাসী। তাঁদের সেখান থেকে সরাতে গেলে তাঁরা উত্তেজিত হয়ে ওঠেন। এ সময় দুই সদস্য আহত হন।

এদিকে সকাল থেকে বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় সব ভোটকেন্দ্রেই ভোটারদের সংখ্যা অনেক কম। বেশির ভাগ ভোটকেন্দ্রে ভোটারদের লম্বা সারি দেখা যায়নি। বিচ্ছিন্নভাবে গিয়ে লোকজন ভোট দিয়েছেন।

এই নির্বাচনে আওয়ামী লীগের ভানু লাল রায় (নৌকা), জাতীয় পার্টির মিজানুর রব (লাঙ্গল), স্বতন্ত্র প্রার্থী আফজল হক (ঘোড়া) ও প্রেমসাগর হাজরা (আনারস) প্রার্থী ছিলেন।

গত ২১ মে এই উপজেলার চেয়ারম্যান রণধীর কুমার দেব মারা যান। পরে চেয়ারম্যান পদটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন