বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওঁরাওদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বর্ষায় খাল, বিল ও নদীনালায় পূর্ণতা আসে। গাঢ় সবুজ রং নিয়ে প্রকৃতিতে আসে তারুণ্য। ধান রোপণের পর ওঁরাওরা পায় অফুরন্ত অবসর। ঠিক সেই ভাদ্র মাসে পালন করা হয় অন্যতম বার্ষিক উৎসব কারাম। কারাম উৎসব উদ্‌যাপনের জন্য ওঁরাও নর-নারী সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত পূজার প্রথম দিন উপোস থাকে। উপোসের মধ্য দিয়ে কারাম পূজা শুরু করে ওঁরাও নারীরা। পরে মাদল, ঢোল, করতাল ও ঝুমকির বাজনার তালে তালে নেচে-গেয়ে এলাকা থেকে কারামগাছের (খিলকদম) ডাল তুলে আনে।

এরপর তারা একটি পূজার বেদি নির্মাণ করে। সূর্যের আলো পশ্চিমে হেলে গেলে সেই কারামগাছের ডাল পূজার বেদিতে রোপণ করা হয়। পুরোহিত উৎসবের আলোকে ধর্মীয় কাহিনি শোনান। সেই সঙ্গে চলে কাহিনির অন্তর্নিহিত ব্যাখ্যা। ব্যাখ্যা শেষ হলে বেদির চারধারে ঘুরে যুবক-যুবতীরা নাচতে থাকেন।

এদিকে পুরোহিতের ধর্মীয় কাহিনি পাঠ শেষ হওয়ার পর ওঁরাওরা উপোস ভাঙে। এরপর বিভিন্ন বাড়ি থেকে পাওয়া চাল–ডাল দিয়ে ভূরিভোজের আয়োজন করা হয় আমন্ত্রিত অতিথি ও আত্মীয়স্বজনের জন্য। আজ সন্ধ্যায় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে স্থানীয় নদীতে কারামের ডাল বিসর্জন দিয়ে কারাম উৎসবের আনুষ্ঠানিকভাবে সমাপ্তি ঘটবে।

কারাম পূজা উদ্‌যাপন কমিটির সভাপতি বিশ্বনাথ কেরকেটা বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে আমরা আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি। এখন পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে। এ আয়োজনের মধ্য দিয়ে আমরা সৃষ্টিকর্তার কাছে করোনা থেকে মুক্তি কামনা করেছি।’

এ আয়োজনে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় আদিবাসী পরিষদের উপদেষ্টা ইমরান হাসেন চৌধুরী। তিনি বলেন, দিন দিন ক্ষুদ্র জাতিসত্তার এমন আয়োজনের জৌলুশ হারিয়ে যাচ্ছে। রাষ্ট্রীয়ভাবে এ আয়োজনের ব্যবস্থা করা গেলে কারামের মতো আরও অনেক উৎসব টিকিয়ে রাখা সম্ভব হতো।

জেলা প্রশাসক মো. মাহবুবুর রহমান বলেন, ওঁরাও সম্প্রদায় যাতে প্রতিবছর এ উৎসব পালন করতে পারে, সে জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সব রকমের সহযোগিতা করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন