default-image

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের কারারক্ষী রোমান ভূঁইয়ার (২৪) শরীর তল্লাশি করে দুটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। এরপর তাঁর কক্ষ তল্লাশি করে টাংকের ভেতর থেকে ৪ প্যাকেট গাঁজা, ৫টি মুঠোফোন ও নগদ ২০ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। আজ বুধবার সকাল ছয়টার দিকে দায়িত্ব পালাবদলের সময় তাঁর শরীর তল্লাশি করতে গিয়ে এ ঘটনা ধরা পড়ে।

এ ঘটনার পর রোমান ভূঁইয়াকে কারাবিধি অনুযায়ী চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। পরে তাঁকে পুলিশে সোপর্দ করা হয়। কাল বৃহস্পতিবার তাঁকে কুমিল্লার আদালতে হাজির করবে পুলিশ। কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের জ্যেষ্ঠ জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ প্রথম আলোকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

রোমান ভূঁইয়ার বাড়ি চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার বেলতলি বাজার–সংলগ্ন হাপানিয়া গ্রামে। এর আগে ২০২০ সালের ৬ এপ্রিল দুপুর সাড়ে ১২টায় ১০৬টি ইয়াবা বড়িসহ কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের দ্বিতীয় ফটক থেকে সহকারী প্রধান কারারক্ষী তরিকুল ইসলাম ওরফে শাহিনকে (৫২) আটক করে কারা কর্তৃপক্ষ। এরপর তাঁর কক্ষ তল্লাশি করে আরও ৪১৬টি ইয়াবাসহ মোট ৫২২টি বড়ি উদ্ধার করা হয়। এ নিয়ে এক বছরের মধ্যে দুই কারারক্ষী মাদকসহ ধরা পড়লেন।

বিজ্ঞাপন

কারাগার সূত্রে জানা গেছে, আজ সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের ভেতরের একটি ফটক দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করছিলেন কারারক্ষী রোমান ভূঁইয়া। তখন চেক করার সময় দেখা গেল রোমানের পরনের প্যান্টের সঙ্গে পায়ের অংশে কিছু একটা বস্তু লাগানো আছে। পরে তল্লাশি করে পা ও প্যান্টের সঙ্গে বিশেষ কায়দায় লাগানো দুটি মুঠোফোন উদ্ধার করা হয়। পরে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। এরপর কারারক্ষী রোমান ভূঁইয়াকে নিয়ে তাঁর কক্ষে যান কারাগারের কর্মকর্তারা। এই সময় তাঁর কক্ষে থাকা ট্রাংক থেকে ৪ প্যাকেট গাঁজা, ৫টি মুঠোফোন ও নগদ ২০ হাজার ৫০০ টাকা উদ্ধার করা হয়। এরপর বিষয়টি কুমিল্লা জেলা পুলিশ সুপার ফারুক আহমেদকে জানানো হয়। পরে তাঁকে কারাবিধি অনুযায়ী চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়। একই সঙ্গে তাঁর বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করা হয়।

রোমান ভূঁইয়ার বিরুদ্ধে মাদকের ঘটনায় কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় আজ মামলা করে কারা কর্তৃপক্ষ। এরপর পুলিশ এসে তাঁকে ওই মামলায় গ্রেপ্তার দেখায়।
জ্যেষ্ঠ জেল সুপার শাহজাহান আহমেদ বলেন, ‘২০১৮ সালের ১ জুলাই রোমান ভূঁইয়া কারারক্ষী পদে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে যোগদান করেন। এখানে যোগদানের পর আমি সব কারারক্ষীদের বলে দিয়েছিলাম মাদকসহ বিভিন্ন অপরাধে যাঁরা জড়িত থাকবে, তাঁদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কেউ মাদক কেনাবেচায় জড়িত থাকলে তাঁদের বিরুদ্ধে আরও কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ইতিমধ্যে দুজনকে মাদক কারবারে জড়িত থাকার অভিযোগে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁদের বিরুদ্ধে কারাবিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।’

কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারের জেলার মো. আসাদুর রহমান বলেন, ‘রোমান কারাবন্দীদের কাছে মাদক বিক্রি করতেন। তিনি অনৈতিক কাজের জন্য এত মুঠোফোন ব্যবহার করতেন।’

মন্তব্য করুন