বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ৮ মে রাত ৯টার দিকে ওই ব্যবসায়ীর বাড়ির সামনে থেকে ৪০০ বস্তা গম জব্দ করে পুলিশ। গমের বস্তাগুলো চারটি ট্রলিতে তুলে খাদ্যগুদামে নেওয়ার জন্য প্রস্তুত রাখা হয়েছিল। খাদ্য অধিদপ্তরের সিলমোহরযুক্ত গমের বস্তা দেখে এলাকাবাসীর সন্দেহ হয়। পরে বিষয়টি তাঁরা ফোন করে পুলিশকে জানান। পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে ওই ব্যবসায়ীর বাড়িতে তালা দেখতে পায়। এ ব্যাপারে কথা বলার জন্য পুলিশ ওই ব্যবসায়ীর মুঠোফোনে বারবার কল দিলেও তিনি ধরেননি।

৮ মে রাতেই ব্যবসায়ী আতাউর রহমানের পক্ষ থেকে তাঁর স্বজনেরা পুলিশের সঙ্গে কথা বলেন। তাঁরা বলেছেন, এই গম আতাউর রহমানের কিন্তু কোথা থেকে গম কেনা হয়েছে, তাঁরা তার কোনো প্রমাণপত্র দেখাতে পারেননি। প্রতিটি বস্তার গায়ে খাদ্য অধিদপ্তরের সিলমোহর দেওয়া রয়েছে। গমগুলো খাদ্য অধিদপ্তরের, নাকি বাইরে থেকে কেনা, সে বিষয় নিয়ে পুলিশ ধন্দে পড়ে যায়। পুলিশ ওই ব্যবসায়ীর সঙ্গে কোনো যোগাযোগ করতে না পেরে একপর্যায়ে তারা তাঁর খাদ্যগুদামের তালার ওপর আরেকটি তালা লাগিয়ে দেয়। গমের বস্তাগুলো বর্তমানে কাঁকনহাট তদন্ত কেন্দ্রে রাখা হয়েছে।

default-image

পুলিশ সূত্রে আরও জানা গেছে, প্রতিটি বস্তায় ৫০ কেজি গম রয়েছে। গমের মোট ওজন ২০ হাজার কেজি বা ২০ মেট্রিক টন। ব্যবসায়ী আতাউর রহমানের বাড়ির পাশে তাঁর নিজের খাদ্যগুদাম রয়েছে। সেটিতে পুলিশ তালা লাগিয়ে দেয়। ৯ মে বিকেলে ওই ব্যবসায়ীসহ ১৫ অজ্ঞাতমানা ব্যক্তিকে আসামি করে গোদাগাড়ী থানায় একটি মামলা করা হয়। গোদাগাড়ীর কাঁকনহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের উপপরিদর্শক শাহজাহান সিরাজ মামলাটি করেন।

পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, মামলা হওয়ার পর বুধবার ভোরে নওগাঁ সদর থানার শিবপুর ইউনিয়নের রঘুনাথপুর গ্রাম থেকে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। একজন কার্ডধারী কৃষক তিন টন পর্যন্ত গম সরকারি খাদ্যগুদামে সরবরাহ করতে পারেন। কোনো ব্যবসায়ীর এই সুযোগ নেই। তাই ব্যবসায়ী আতাউর রহমান কৃষকের কৃষি কার্ড ব্যবহার করার বিনিময়ে প্রত্যেক কৃষককে ৫০০ টাকা দেন। ওই কৃষকের ব্যাংক হিসাবে গমের টাকা জমা হওয়ার পর কৃষক ব্যাংক থেকে টাকা তুলে ব্যবসায়ীকে দেন। ঘটনার দিন একই উদ্দেশ্যে ২০ টন গম ট্রলিতে তোলা হয়েছিল।

এ বিষয়ে কাঁকনহাট পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ মাহমুদুল হাসান জানান, আতাউর রহমানকে গতকাল বৃহস্পতিবার আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে। তাঁকে আদালতে হাজির করে সাত দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে। রিমান্ডের জন্য আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হচ্ছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন