মাদারীপুরে কালকিনি পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মসিউর রহমানকে পুলিশ গাড়িতে তুলে নেওয়া পর থেকে তিনি নিখোঁজ। তাঁর সন্ধান না পাওয়ায় সমর্থকেরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন
মাদারীপুরে কালকিনি পৌরসভা নির্বাচনে স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মসিউর রহমানকে পুলিশ গাড়িতে তুলে নেওয়া পর থেকে তিনি নিখোঁজ। তাঁর সন্ধান না পাওয়ায় সমর্থকেরা সড়কে টায়ার জ্বালিয়ে বিক্ষোভ করেন ছবি: অজয় কুন্ডু

মাদারীপুরে পুলিশ সুপারের নির্দেশে কালকিনি পৌরসভা নির্বাচনের স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মসিউর রহমান ওরফে সবুজকে গাড়িতে তুলে নেওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে। আজ শনিবার বিকেলে উপজেলা পালপাড়া এলাকা থেকে মেয়র প্রার্থী মসিউরকে তুলে নেওয়া হয়। ওসির গাড়িতে মাদারীপুর পুলিশ সুপারের কার্যালয় যাওয়ার পর থেকে তিনি নিখোঁজ রয়েছেন।

মেয়র প্রার্থী মসিউর রহমানকে তুলে নেওয়ার খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভ মিছিল নিয়ে থানা ঘেরাও করেন তাঁর কয়েক হাজার সমর্থক। পরে বিক্ষুব্ধ সমর্থকেরা কালকিনি থানার তিনটি মোড়ে টায়ার জ্বালিয়ে ও যানবাহন ভাঙচুর করে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থী (নৌকা প্রতীক) এস এম হানিফের সমর্থকেরা সেখানে এলে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষ শুরু হয়। টানা দুই ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন।

default-image

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্রে জানা গেছে, সংঘর্ষস্থল থেকে কয়েকটি বিস্ফোরণের শব্দও পাওয়া যায়। সংঘর্ষে লিপ্ত লোকজন এ সময় অন্তত দুই শতাধিক দোকানঘর ভাঙচুর করে লুটপাট করে। রাত আটটা পর্যন্ত এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সংঘর্ষ চলছিল। মেয়র প্রার্থী মসিউরের মুক্তি চেয়ে তাঁর সমর্থকেরা এক ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়ে থানা এলাকায় নানা ধরনের স্লোগান দিতে থাকেন।

প্রত্যক্ষদর্শী সূত্র আরও জানায়, বিকেল পাঁচটার দিকে কালকিনি পৌর এলাকার পালপাড়ায় সমর্থকদের নিয়ে গণসংযোগে নামেন নারকেলগাছ প্রতীকে নির্বাচনে অংশ নেওয়া স্বতন্ত্র মেয়র প্রার্থী মসিউর রহমান। হঠাৎ কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিরউদ্দিন মৃধা তাঁকে ডেকে তাঁর সরকারি গাড়িতে তোলেন। পরে ওসি মসিউর রহমানকে নিয়ে পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে নেওয়ার পর থেকেই তাঁর আর খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না।

বিজ্ঞাপন

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মাহবুব হাসানের মুঠোফোনে একাধিকবার ফোন করা হলেও তিনি তা ধরেননি। এ বিষয়ে নিখোঁজ স্বতন্ত্র প্রার্থীর চাচাতো ভাই রমিজ হাওলাদার প্রথম আলোকে বলেন, ‘বিনা কারণে আমার ভাইকে পুলিশ তুলে নিছে। এরপর থেকেই তাঁর নম্বর বন্ধ। তাঁর কোনো সন্ধান নেই। ওসির কাছে জিজ্ঞাসা করলে তিনি জানান ভাই (মসিউর) নাকি ঢাকায় গেছেন। কিন্তু আমার ভাই নির্বাচন রেখে ঢাকায় কেন যাবে? আর সেটা পুলিশের গাড়িতে চড়ে কেন? এখানে পুলিশ সুপার অর্থের বিনিময়ে নৌকার পক্ষ নিয়ে ষড়যন্ত্র করতেই আমার ভাইকে গুম করার চেষ্টা করছেন।’

default-image

সন্ধ্যা ছয়টার দিকে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাছিরউদ্দিন মৃধা মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘মেয়র প্রার্থী মসিউর তাঁর ব্যক্তিগত কাজে ঢাকায় যাবেন। আমি মাদারীপুরে যাচ্ছিলাম, তাই তিনি আমার গাড়িতে চড়ে মাদারীপুর গেছেন। এরপর তিনি কোথায় গেছেন, তা আমি জানি না।’ সন্ধ্যা সাতটার পরে এ বিষয় ওসিকে আবারও ফোন করা হলে তিনি আর ফোন ধরেননি।

এ বিষয়ে নৌকার প্রার্থী এস এম হানিফ মুঠোফোনে রাতে আটটার দিকে প্রথম আলোকে বলেন, ‘নির্বাচনের আগে এমন হামলা, অগ্নিসংযোগ, মারপিট একদমই কাম্য নয়। সন্ধ্যায় আমার পার্টি অফিসে মিটিং ছিল। তখন আমার সমর্থকেরা নৌকা নৌকা বলে মিছিল নিয়ে আসে। এ সময় আমার প্রতিপক্ষ তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালায়। প্রতিপক্ষের হামলায় আমারই সব লোকজন আহত হয়েছে। আমার ১৫ জন কর্মী-সমর্থক হাসপাতালে ভর্তি আছে।’

default-image

স্বতন্ত্র প্রার্থী মসিউরকে পুলিশ তুলে নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে এস এম হানিফ বলেন, ‘মসিউর কোথায় আছেন, কেন পুলিশ তাঁকে নিছে, এ ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না। তিনি যে নিখোঁজ তা–ও শুনিনি।’

রাত পৌনে নয়টার দিকে সংঘর্ষস্থলে উপস্থিত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান বলেন, দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকদের মধ্যে সংঘর্ষের খবর পেয়ে এখানে এসেছি। এখানে এসে জেনেছি, স্বতন্ত্র প্রার্থী মসিউর গ্রেপ্তার হয়েছেন এ ধরনের খবর ছড়িয়ে পড়লে সমর্থকেরা উত্তেজিত হয়ে থানা ঘেরাও করেছেন। বর্তমানে পরিস্থিতি পুলিশ ও প্রশাসনের নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।’

default-image

জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা ও নির্বাচনের রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘সংঘর্ষের খবর পেয়ে জেলা প্রশাসক ও পুলিশকে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অনুরোধ জানিয়েছে। ঘটনা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন