বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানায়, পূর্ব এনায়েতনগর ইউনিয়নে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে খাঁ ও কাজীদের মধ্যে বিরোধ চলে আসছিল। খাঁ বংশের নেতৃত্বে রয়েছেন পূর্ব এনায়েতনগর ইউপির ৮ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য কবির খাঁ এবং কাজী বংশের নেতৃত্বে ৯ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য আপাং কাজী। গত ২৮ জুলাই আপাং কাজীর দুই সমর্থককে কুপিয়ে জখম করেন কবির খাঁর লোকজন। এ ঘটনার কয়েক দিন পরই কবিরের ভাই মিরাজ হোসেনের পা বিচ্ছিন্ন করে নিয়ে যান আপাং কাজীর লোকজন। পরে মিরাজের ভাই কবির খাঁ বাদী হয়ে থানায় মামলা করেন। এতে আপাং কাজীসহ ৩৫ জনের নামে ও অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করা হয়।

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র আরও জানায়, কবির খাঁর করা মামলার আসামিদের নামে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেন আদালত। পরে থানা–পুলিশ মামলার আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য ওই এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ১৪ ডিসেম্বর কবির খাঁর চাচা একই এলাকার তিতাই খাঁর ছেলে লিয়াকত খাঁর ওপর হামলা করেন আসামিরা। বর্তমানে লিয়াকত ঢাকার পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি। এ ঘটনার পর থেকেই এলাকায় উভয় পক্ষের উত্তেজনা চলছিল।

পুলিশ সূত্র জানায়, পূর্ব বিরোধের জের ধরে শুক্রবার রাতে কবির খাঁ ও আপাং কাজীর সমর্থকদের মধ্যে পাল্টাপাল্টি ধাওয়া হয়। পরে সকালে দুপক্ষের লোকজন দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়েন। উভয় পক্ষই শতাধিক হাতবোমা বিস্ফোরণ ঘটিয়ে এলাকায় আতঙ্ক সৃষ্টি করে। এ সময় পূর্ব এনায়েতনগর ইউপির একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ও কয়েকটি ঘরবাড়ি ভাঙচুর চালানো হয়। খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।

পূর্ব এনায়েতনগর ইউপির বর্তমান চেয়ারম্যান রেহেনা নেয়ামুল প্রথম আলোকে বলেন, ‘আপাং ও কবির দুজনই আমার ইউনিয়নের সদস্য। তাদের সমর্থকদের মধ্যে আগেও সংঘর্ষ হয়েছে। সকালে শুনি তারা আবারও সংঘর্ষে জড়িয়েছে। এলাকায় পুলিশ আছে। এ ঘটনায় স্থানীয় লোকজন আতঙ্কে রয়েছে। বিষয়টি নিয়ে আমরাও আতঙ্কিত।’

জানতে চাইলে কালকিনি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) ইশতিয়াক আশফাক প্রথম আলোকে বলেন, সকালে দুপক্ষের সংঘর্ষের খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। দুই পক্ষের সংঘর্ষে বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাঁদের মধ্যে চারজন কালকিনি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি। এর মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য বরিশাল পাঠানো হয়েছে।

ওসি আরও বলেন, ‘ওই এলাকা বর্তমানে পুরুষশূন্য। কোনো পুরুষ ওই এলাকায় আপতত নেই। তাই এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। নিরাপত্তার স্বার্থে পুরো এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন আছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন