বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, এই কালভার্টের কারণে এলাকার প্রায় দেড় হাজার বিঘার ফসল ও বাড়িঘর রক্ষা পায়। কর্তৃপক্ষ প্রয়োজন অনুভব করে এটি নির্মাণ করেছিল। তবে এবার নতুন করে নির্মাণের কথা বলা হলেও পরে তাঁরা জানতে পেরেছেন, এখানে আর কালভার্ট তৈরি করা হবে না। ঠিকাদার ভুল করে এটি ভেঙে ফেলেছেন। এখন শুধু একটি নালা তৈরি করা হবে।

সেখানে প্রথমে কালভার্ট নির্মাণের জন্য প্রাক্কলন সদর দপ্তরে পাঠানো হলেও কর্তৃপক্ষ তা পরিবর্তন করে নালা নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে।
তারেক হোসেন মিম কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী

জানতে চাইলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মিম কনস্ট্রাকশনের স্বত্বাধিকারী তারেক হোসেন মুঠোফোনে বলেন, তিনি ভুল করে নয়, জেনেই কালভার্টটি ভেঙেছেন। সেখানে প্রথমে কালভার্ট নির্মাণের জন্য প্রাক্কলন সদর দপ্তরে পাঠানো হলেও কর্তৃপক্ষ তা পরিবর্তন করে নালা নির্মাণের অনুমোদন দিয়েছে। এ জন্য সেখানে দু-এক দিনের মধ্যে নালার নির্মাণকাজ শুরু হবে।

কালভার্টের স্থানে নালা নির্মাণের খবর জানার পর স্থানীয় লোকজনের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। তাঁরা কর্তৃপক্ষের এমন সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে গত রোববার বিকেলে ভাঙা কালভার্টের পাশে বসন্তপুর বাজারে মানববন্ধন করেন। বিকেল সাড়ে পাঁচটা থেকে শুরু হয়ে সন্ধ্যা ছয়টা পর্যন্ত এই কর্মসূচি চলে। এ সময় বক্তারা বলেন, কালভার্টটি থাকার কারণে বর্ষা মৌসুমে বসন্তপুর, রামপুর, পানিশাইলসহ আশপাশের কয়েক গ্রামের পানবরজ, ফসল ও বাড়িঘর রক্ষা পায়। নালা তৈরির কারণে পানি নিষ্কাশন হতে পারবে না। এর ফলে সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ওই গ্রামগুলোতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি ও বন্যার সময় ফসলহানির আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। তাঁরা দ্রুত নকশা পরিবর্তন করে আগের মতো কালভার্ট বা সেতু নির্মাণের দাবি জানান।

কালভার্ট ভেঙে ফেলে সেখানে আরেকটি নির্মাণের প্রস্তুতি নিয়ে গর্ত করে রাখা হয়েছে। নালা তৈরি করা হলে সেখানে গর্ত খননের প্রয়োজন নেই বলে প্রকৌশল বিভাগের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন।

সরেজমিনে দেখা যায়, মাথাভাঙ্গা-হাটগাঙ্গোপাড়া সড়কের বসন্তপুর এলাকায় পুরোনো কালভার্ট ভেঙে ফেলে সেখানে নতুন করে নির্মাণের জন্য মাটি খুঁড়ে রাখা হয়েছে। পাশে তৈরি করা হয়েছে বিকল্প সড়ক।

উপজেলা প্রকৌশলী খলিলুর রহমান মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, প্রথম দফায় সেখানে কালভার্ট নির্মাণের জন্য বাজেট চেয়ে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছিল। তার অনুমোদন দেওয়া হয়নি। এ জন্য সমস্যা হয়েছে। তবে কীভাবে বিষয়টির সুরাহা করা যায়, তা ভেবে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সরকার ও প্রকৌশল অধিদপ্তরের রাজশাহীর নির্বাহী প্রকৌশলী নাসির উদ্দিন মুঠোফোনে জানান, বিষয়টি সম্পর্কে তিনি অবগত আছেন। এ বিষয়ে ঢাকায় কথা বলবেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন