বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন এলাকা ঘুরে ও এলাকাবাসীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, উপজেলার সূত্রাপুর ইউনিয়নের বোর্ডঘর এলাকা থেকে ভাওমান টালাবহ গ্রামের যাওয়ার সড়কে কয়েকটি স্থান পানির নিচে তলিয়ে আছে। অনেকেই টাকা বাঁচাতে জামাকাপড় ভিজিয়ে হেঁটেই চলাচল করছে। নৌকায় চলাচল করতে তাদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হয়। জনপ্রতি নৌকায় ১০ টাকা ভাড়া নিচ্ছে।

টালাবহ গ্রামের বাসিন্দা আসমা আক্তার বলেন, ‘সকালে কাজে যাওয়ার সময় নৌকায় গিয়েছিলাম। এখন বাড়ি ফিরছি। বাড়িতে গিয়ে গোসল করতে হবে, তাই এখন আর নৌকায় যাব না, জামাকাপড় ভিজিয়ে হেঁটেই বাড়ি যাব।’

ঢালজোড়া ইউনিয়নে যাওয়ার প্রধান সড়ক ডোবাইল-ধানতারা সড়কটির বেশির ভাগ অংশই পানিতে তলিয়ে গেছে। মাঝে একটি সেতু রয়েছে, সেটিও পানির নিচে। এতে এলাকাবাসীকে ডোবাইল এলাকা থেকে ইঞ্জিনচালিত নৌকায় করে যাতায়াত করতে হচ্ছে। আশপাশের ঘরবাড়িগুলো বন্যায় তলিয়ে গেলেও এখন পানি কমায় ঘরবাড়িগুলো জেগে উঠেছে। চারপাশে পানি থাকায় সাপ, বিচ্ছুসহ পোকামাকড়ের ভয় তো আছেই।

দেওয়াইর বাজার থেকে আড়াইগঞ্জ-বেনুপুর সড়কটি ডুবে গেছে। সেই রাস্তায় পানি থাকলেও কিছু যানবাহন পানির ওপর দিয়েই চলাচল করছে। বিশেষ করে ট্রাক ও অটোরিকশা। একই অবস্থা দেখা গেছে ডোবাইল-রসুলপুর সড়ক, বাসুরা থেকে ভাঙ্গুরী ও ডোবাইল থেকে পাকুরাইল সড়কের।

উপজেলার বোয়ালী ইউনিয়ের কুন্দাঘাটা এলাকার বাসিন্দা আসলাম হোসেন বলেন, এলাকার রাস্তাঘাটগুলো এখনো পানিতে তলিয়ে থাকায় দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে। কয়েক দিন ধরে বন্যার পানি কমতে শুরু করেছে। তাতেও রাস্তাগুলো পানিতে ডুবে আছে।
উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, বন্যার কারণে অনেক এলাকায় পানি উঠেছে। এসব এলাকার ২০টি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ অনেক হাইস্কুলেও পানি উঠেছে। ফলে এসব স্কুলের কার্যক্রম বন্ধ রয়েছে। রাস্তাঘাটের সঠিক হিসাব এখনো করা হয়নি। গত বছর ২৩টি গ্রামের বহু রাস্তায় পানি ওঠে। সেগুলো এবার মেরামতের কাজও শুরু হয়েছে। অনেক রাস্তা উঁচু করা হয়েছে। আড়াইগঞ্জ-বেনুপুর সড়কের তিন কিলোমিটার, ডোবাইল-ধানতারা সড়কের দুই কিলোমিটার, রাসুরা-ভাঙ্গুরী সড়কের আংশিক, ডোবাইল থেকে পাকুরাইল সড়কের তিন কিলোমিটার ও দেওয়ার থেকে ভাঙ্গুরী সড়কের আংশিক রাস্তা ডুবে আছে। বোর্ডঘর-টালাবহ রাস্তার দুই কিলোমিটার সড়কে পানি জমে আছে।

ঢালজোড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আক্তারোজ্জামান জানান, এলাকার রাস্তাগুলো উঁচু করা প্রয়োজন। অবশ্য কয়েকটি রাস্তা আগের চেয়ে উঁচু করা হয়েছে। এ বছরও দেওয়াজার বাজারে যাওয়ার রাস্তাটি অনেক উঁচু করে পাড়ে ব্লক দিয়ে দেওয়া হচ্ছে, যাতে ভেঙে না যায়।

কালিয়াকৈর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান কামাল উদ্দিন সিকদার বলেন, উপজেলার যেসব রাস্তা ভেঙে গেছে, সেগুলো থেকে বন্যার পানি সরে গেলে রাস্তাগুলো মেরামতের কাজ করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন