বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

সাত্তার আরও জানান, কালীগঞ্জের ভাঙানমারির বাসিন্দা খালাতো ভাই সবুজের সঙ্গে নাজমার ২০২০ সালে আগস্ট মাসে সম্পর্ক গড়ে ওঠে মুঠোফোনে। একপর্যায়ে চলতি বছরের মে মাসের শেষের দিকে সবুজের বাবা নবাব আলী ও মা মর্জিনা খাতুন তাঁদের বাড়িতে এসে ২০ হাজার টাকা কাবিনে বিয়ের ব্যবস্থা করে নাজমাকে তাঁদের পুত্রবধূ করে নিয়ে যান। বিয়ের এক সপ্তাহ পর নাজমাকে রাজবাড়ীতে একটি কারখানায় কাজে লাগিয়ে দেন সবুজ। সেখানে সবুজ যৌতুকসহ নানা অজুহাতে নির্যাতন করা শুরু করেন নাজমাকে। একদিন তাঁকে গলায় ফাঁস লাগিয়ে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

জীবন বাঁচাতে পালিয়ে বাড়ি চলে আসেন নাজমা। আগস্ট মাসের শেষের দিকে সবুজকে তালাক দেন নাজমা। তারপর এক ব্যক্তির সঙ্গে যোগাযোগ করে সৌদি আরবে যাওয়ার ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে ভাষা শিক্ষার জন্য গত ১৮ সেপ্টেম্বর ঢাকায় যান নাজমা।

সাত্তার বলেন, তালাক দেওয়ার পর সবুজ আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠেন। এরই অংশ হিসেবে সবুজ ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা শুক্রবার দিবাগত রাত পৌনে দুইটার দিকে তাঁদের ঘরের দরজায় শিকল তুলে দিয়ে জানালা দিয়ে পেট্রল ছিটিয়ে একটি লাঠির মাথায় কাপড় জড়িয়ে তাতে আগুন লাগিয়ে ঘরের মধ্যে ছুড়ে দেন। ঘর থেকে বের হতে গিয়ে আগুনে মারাত্মক দগ্ধ হন স্ত্রী ফাতেমা ও নাতি নাজমুল।

কাজলা গ্রামের আবদুল খালেক সরদার ও সোহেল সরদার জানান, চিৎকার শুনে তাঁরা এসে ফাতেমা ও নাজমুলকে উদ্ধার করে প্রথমে সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল ও পরে খুলনা ৫০০ শয্যা হাসপাতালে ভর্তি করান। অবস্থার অবনতি হওয়ায় তাঁদের শনিবার রাত সাড়ে ১১টার দিকে শেখ হাসিনা জাতীয় বার্ন ও প্লাস্টিক সার্জারি ইনস্টিটিউটে ভর্তি করা হয়।

কর্তব্যরত চিকিৎসক তৌফিক আহম্মেদ বলেন, নাজমুলের শরীরের ৯৫ শতাংশ ও ফাতেমার ৭৫ শতাংশ পুড়ে গেছে। তাঁদের অবস্থা সংকটাপন্ন।

কালীগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম মোস্তফা জানান, এ ঘটনায় সাত্তার সরদার বাদী হয়ে সবুজ, তাঁর ভাই সুমন গাতিদার, বাবা নবাব আলী গাতিদার, মা মর্জিনা খাতুনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা তিনজনের বিরুদ্ধে শনিবার রাতে থানায় একটি মামলা করেন। মামলার প্রধান আসামি সবুজকে সাতক্ষীরা জজকোর্ট এলাকার আবদুল মান্নানের হোটেল থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন