বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

বিভিন্ন শ্রেণিপেশার অন্তত ২০ জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, দুই বছর আগেও পুকুরটি ছিল ময়লা-আবর্জনায়, ঝোপঝাড়ে ভরা। দিনের বেলায় শিয়াল, সাপের উপদ্রব ছিল পুকুরটি ঘিরে। ভয়ে কেউ সেখানে যেত না।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালে মৎস্য অধিদপ্তরের অধীনে ১৮ লাখ টাকা ব্যয়ে পুকুরটি পুনর্খনন করা হয়। জেলা প্রশাসক আসিব আহসানের নির্দেশনায় তারাগঞ্জের ইউএনও আমিনুল ইসলামের উদ্যোগে উপজেলা পরিষদের তহবিল থেকে ২০২০ সালের ১০ জুন মাসে পুকুরে একটি গোলঘর নির্মাণের মাধ্যমে পার্ক নির্মাণকাজ শুরু হয়।

সরেজমিন দেখা যায়, পুকুরপাড়ে শিশুদের জন্য দোলনা, স্লিপার, ব্লান্সার বসানো হয়েছে। পুকুরের দুই পাড়ে দুটি ঘাটলা রয়েছে। বসার জন্য রয়েছে ৫টি বেঞ্চ। পুকুরের চারদিকে প্রাতর্ভ্রমণের জন্য পার্কিং টাইলসের হাঁটার পথ রয়েছে। কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে ঘিরে পুকুরে চারদিকে লাগানো হয়েছে বিভিন্ন ফলের গাছ। প্রবেশদ্বারে সুসজ্জিত তোরণ। চারদিকে রয়েছে সোলার প্যানেলের লাইট। পার্কের সবচেয়ে বিশেষ আকর্ষণ হচ্ছে ‘আই লাভ রংপুর’ লেখা ভাস্কর্যটি।

এখানে প্রায় অধিকাংশ দর্শনার্থী ছবি তোলেন। পুকুরে তৈরি করা হয়েছে একটি গোলঘর। ঈদুল আজহার দিন থেকে মানুষের ভিড় সবচেয়ে বেশি ছিল এ পার্কে। বড়দের সঙ্গে ছিল শিশুরাও। একশ্রেণির মানুষের ঈদ বিনোদনের মূল কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে স্থানটি। ফুচকা বিক্রেতাদের ব্যস্ত দেখা যায়। প্রবেশদ্বারে চারটি দোকানের সব কটিতে ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। লাইন ধরে দাঁড়িয়ে ফুচকা, চটপটি নিচ্ছিলেন অনেকে। পরিষ্কার–পরিচ্ছন্নতা নিয়ে কারও মধ্যে সচেতনতা খেয়াল করা যায়নি।
ফুচকা ব্যবসায়ী সফিকুল ইসলাম বলেন, ‘ঈদে এত মানুষের সমাগম ঘটবে, আমি ধারণাও করতে পারি নাই। ফুচকা কেনার জন্য লোকজন হুমড়ি খেয়ে পড়ছে।’

এক সন্তানকে কোলে নিয়ে মরিয়ম বেগম নামের এক নারী ফুচকা খাচ্ছিলেন। তাঁর মুখে মাস্ক ছিল না। জানতে চাইলে ওই নারীর জবাব, ‘ঘরোত থাকতে থাকতে অস্থির হয়ে গিয়েছিলাম। একটু স্বস্তির জন্য এখানে এসেছি। স্বস্তি পাওয়ার আনন্দে মাস্ক মুখে দেওয়ার কথা মনে ছিল না।’

ওই বিনোদন পার্কে কথা হয় বুড়িরহাট গ্রামের ব্যবসায়ী মেনাজুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি বলেন, আগে তো ঈদের পরের দিন স্ত্রী-সন্তানদের নিয়ে বিভিন্ন বিনোদন পার্কে ঘুরতাম। করোনার কারণে সব বন্ধ। ঘরে থাকতে থাকতে পরিবারের লোকজন হাঁপিয়ে উঠেছে। তাই আমাদের উপজেলার একমাত্র এই উন্মুক্ত পার্কে স্ত্রী–সন্তানদের নিয়ে ঘুরতে আসা। এখানে এসে মুক্ত পরিবেশে ঘোরার আনন্দটাই আলাদা।

রংপুর শাহীপাড়া থেকে এই পার্কে এসেছেন রোমান ইসলাম। তিনি বলেন, ‘চারদিকে ফসলি ফাঁকা মাঠ। মাঝখানে পার্ক। পার্কের চারদিকে গাছগাছালি। মুক্ত বাতাসে বসে শ্বাস নেওয়ার জন্য তিন বন্ধু মিলে এসেছি। ভালোই লাগছে। এখানে সবচেয়ে বেশি মন কেড়েছে “আই লাভ রংপুর” লেখা ভাস্কর্যটি ও গোলঘর।’

জানতে চাইলে ইউএনও আমিনুল ইসলাম বলেন, জেলা প্রশাসক আসিব আহসান স্যারের নির্দেশনায় মানুষকে প্রাকৃতিক পরিবেশে নির্মল বিনোদন দেওয়ার জন্যই ৫ একর ৪০ শতক জমির ওপর এ পার্ক নির্মাণ করা হয়। এটি বাস্তবায়ন করতে উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আনিছুর রহমানসহ স্থানীয় লোকজন সহযোগিতা করছেন। এখানে শিগগিরই শৌচাগার, বিশ্রামঘর ও রেস্টুরেন্ট নির্মাণ করা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন