পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, ২০২০ সালের ৬ আগস্ট গাজীপুরের কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার-২ থেকে আবু বক্কর সিদ্দিক নিজের তৈরি মই বেয়ে পালিয়ে যান। একটি হত্যা মামলার মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামি ছিলেন তিনি। পরে আপিল করলে সাজা কমিয়ে তাঁকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়। ২০১২ সাল থেকে তিনি কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগারে বন্দী ছিলেন।

পুলিশ জানায়, শরীয়তপুরের পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানাধীন নাওডোবা মিনাকান্দি চৌরাস্তা এলাকায় গতকাল দুপুরের দিকে আবু বক্কর সিদ্দিক সন্দেহভাজন হিসেবে চলাফেরা করছিলেন। তাঁর সন্দেহজনক চলাফেরার কারণে পুলিশ তাঁকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে তিনি জানান যে তাঁর বাড়ি সাতক্ষীরা। পরে খোঁজ নিয়ে পুলিশ নিশ্চিত হয়, তিনি সেই পলাতক আসামি। পরে ওই দিনই তাঁকে শরীয়তপুর আদালতের মাধ্যমে শরীয়তপুর কারাগারে পাঠানো হয়।

শরীয়তপুরের পদ্মা সেতু দক্ষিণ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ফিরোজ আল মামুন প্রথম আলোকে এ খবরের সত্যতা নিশ্চিত করেন।

যেভাবে পালিয়েছিলেন আবু বক্কর

কয়েদি আবু বক্কর ছিদ্দিক ৬ আগস্ট বেলা সোয়া ১১টার দিকে কাঁধে একটি মই নিয়ে সাধারণ পোশাকে কারাগারের ব্রহ্মপুত্র ভবনের প্রধান ফটক দিয়ে বের হন। সিসিটিভিতে দেখা যায়, ওই সময় তাঁর আশপাশে দায়িত্বরত কারারক্ষীরা ঘোরাফেরা ও গল্প করছেন। ছিদ্দিক মইটি কাঁধে নিয়ে ব্রহ্মপুত্র ভবনের বাইরের ফটক দিয়ে বেরিয়ে মাঠের ভেতর দিয়ে কারাগারের মূল ফটকের দিকে যান। মূল ফটকে দায়িত্বরত কারারক্ষীর সামনে দিয়ে মই নিয়ে গেলেও তিনি বাধার সম্মুখীন হননি। দুপুর ১২টা ২০ মিনিটে মই পড়ে থাকতে দেখে একজন কারারক্ষী মইটি কয়েদি গোয়েন্দা জাকিরকে দিয়ে কেস টেবিলে পাঠান। ওই সময় গঠিত তদন্ত কমিটির ঘটনার বর্ণনা থেকে এ তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে।

এর আগে ২০১৫ সালের ১৩ মে সন্ধ্যায় আবু বক্কর সিদ্দিক কারাগারের ভেতরে আত্মগোপন করেছিলেন। তখন তিনি সেল এলাকার সেপটিক ট্যাংকের ভেতরে লুকিয়ে ছিলেন। এক দিন পর তাঁকে সেই ট্যাংকের ভেতর থেকে উদ্ধার করা হয়েছিল।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন