তিন-চার দিন ধরে খেয়ে না–খেয়ে মানবতের জীবন যাপন করছেন মামুদপুর এলাকার ষাটোর্ধ্ব নারী আলেক বানু। বন্ধুসভার ত্রাণের নৌকা দেখামাত্র কোমরপানি ভেঙে ছুটে আসেন তিনি। ত্রাণ পেয়ে খুশিতে প্রায় কেঁদে ফেলেন এই বয়স্ক নারী।

দিনে পাশের গ্রামে স্বজনের বাড়িতে থাকলেও রাতে চোরের ভয়ে বাধ্য হয়ে স্বামীকে নিয়ে ডুবে যাওয়া ঘরে এসে থাকেন আলেক বানু। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাবা, কত কষ্টে যে আছি, বলে বোঝাতে পারব না। খাবার তো দূরে থাক, কেউ খোঁজ নিতেও আসেনি।’

মিঠামইনের আতপাশা এলাকার জিল্লু মিয়া ও সালেকা দম্পতির ঘরে কোমরপানি। আসবাব ডুবে যাওয়ায় ঘরের ভেতর মাচা তৈরি করে রাতে সেখানে ঘুমান। দিনের বেশির ভাগ সময় দুই শিশুসন্তানকে নিয়ে ডিঙিনৌকায় এদিক–সেদিক ঘুরে বেড়ান।

জিল্লু মিয়া বলেন, আশপাশে তাঁদের আত্মীয়ের বাড়ি নেই। তাই অনেক কষ্ট করে ডুবে যাওয়া ঘরে মাচা তৈরি করে থাকতে হচ্ছে।

এত দুর্ভোগের পরও কেউ সহায়তার হাত বাড়িয়ে দেননি জানিয়ে জিল্লু মিয়া বলেন, অল্প হলেও এ খাবার পেয়ে খুব খুশি তাঁরা।

ত্রাণসামগ্রী বিতরণকালে ছিলেন কিশোরগঞ্জ বন্ধুসভার সাধারণ সম্পাদক মোস্তাফিজ মারুফ, প্রশিক্ষণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম, কার্যকরী সদস্য সুপ্রতীক সরকার উৎসসহ বন্ধুসভার সদস্যরা।

বন্যা শুরুর পর থেকে হাওরের বিভিন্ন এলাকায় বন্যাদুর্গতদের খাবার দেওয়াসহ নানাভাবে সহায়তা করে আসছেন জানিয়ে মোস্তাফিজ মারুফ বলেন, বুধবার দিনব্যাপী হাওরের বিভিন্ন জায়গার পানিবন্দী ৫০টি পরিবারের মধ্যে শুকনো খাবারসহ ওষুধ বিতরণ করা হয়েছে। আগামী শনি ও রোববারে জেলার বিভিন্ন এলাকার বানভাসিদের মধ্যে আবারও ত্রাণসামগ্রী বিতরণ করবেন তাঁরা।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন