বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পরিবারের সদস্যরা জানান, গত বৃহস্পতিবার রাত সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলার কোম্পানীগঞ্জ বাজার থেকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় তিনজন যাত্রী নিয়ে উপজেলার যাত্রাপুর গ্রামে যান চালক জলিল। পরে ওই যাত্রীরা ওই গ্রাম থেকে এক কিশোরীকে তুলে আনার প্রস্তাব করলে জলিল রাজি হননি। তিনি এ কাজে ওই যাত্রীদের বাধা দেন। এ নিয়ে তর্ক-বিতর্কের একপর্যায়ে যাত্রীবেশী বখাটেরা কোমর থেকে ছুরি বের করে আবদুল জলিলের পেটে এলোপাতাড়ি আঘাত করে। এ সময় পেট চেপে ধরে জলিল দৌড়ে গিয়ে পাশের এক বাড়িতে ‘বাঁচাও বাঁচাও’ বলে চিত্কার দেন। বখাটেরা পালিয়ে যায়। বাড়ি থেকে লোকজন বেরিয়ে এসে তাঁকে প্রথমে মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় রাতেই তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠান কর্তব্যরত চিকিৎসক।

আজ ভোর পাঁচটার দিকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আবদুল জলিল হাসপাতালে মারা যান। দুপুরে ময়নাতদন্ত শেষে বিকেলে তাঁর লাশ বাড়িতে আনা হয়। এ সময় স্বজনদের আহাজারিতে বাতাস ভারী হয়ে ওঠে। পরিবার একমাত্র উপার্জনকারী ব্যক্তিকে আচমকা এভাবে হারিয়ে পাগলপ্রায় স্ত্রী শাহনাজ বেগম ও তাঁর মেয়ে জান্নাত আক্তার। লাশ দাফনের পর সন্ধ্যায় থানায় মামলা হয়।

শাহনাজ বেগম বলেন, তাঁর স্বামী জলিল মিশুক ছিলেন। অন্যায়ের বিরুদ্ধে সব সময় ছিলেন সোচ্চার। তিনি স্বামী হত্যার বিচার দাবি করেন।

মুরাদনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাদেকুর রহমান বলেন, ‘নিহতের স্ত্রী অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন। মৃত্যুর আগে পরিবারের সদস্যদের কাছে তিনি ছুরিকাঘাতের বর্ণনা দিয়ে যান। আমরা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছি। একই সঙ্গে বখাটেদের গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনব।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন