default-image

নোয়াখালীতে এক কিশোরীকে (১৬) ধর্ষণের পর হত্যার অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় গতকাল শুক্রবার রাতে নিহত ছাত্রীর বড় বোন বাদী হয়ে ধর্ষণ ও হত্যার অভিযোগ এনে দুজনকে আসামি করে সুধারাম থানায় একটি মামলা করেছেন। পুলিশ প্রধান অভিযুক্ত মো. রায়হানকে (২০) আটক করেছে।

ওই কিশোরীর বাড়ি সদর উপজেলার চরমটুয়া ইউনিয়নে। গতকাল শুক্রবার দুপুরের দিকে শহরের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকায় হত্যার ঘটনা ঘটে বলে মামলায় উল্লেখ করা হয়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ধর্ষণ ও হত্যার বিষয়টি নিশ্চিত নয়। প্রাথমিক তদন্তে তারা ‘আত্মহত্যার’ কথা জানতে পেরেছে।

ছাত্রীর মা অভিযোগ করেন, শুক্রবার সকাল সাড়ে ৯টার দিকে রায়হান এক সহযোগী নিয়ে তাঁর মাদ্রাসাপড়ুয়া মেয়েকে (১৬) সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে বাড়ি থেকে তুলে নিয়ে যান। এরপর তাঁরা বিভিন্ন দিকে খোঁজাখুঁজি করেন। পরে দুপুরের দিকে তাঁর মেয়ে বাড়িতে ফোন করে জানায়, রায়হানসহ কয়েকজন তাকে একটি ঘরে আটকে রেখেছেন, তাঁরা তাকে মেরে ফেলবেন।

বিজ্ঞাপন

ছাত্রীর মা বলেন, ওই ফোন পাওয়ার ঘণ্টাখানেক পর তাঁর মেয়ের লাশ নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে রয়েছে বলে খবর পান। পরে তাঁরা গিয়ে হাসপাতালের মর্গে লাশ পড়ে থাকতে দেখেন। এ সময় লাশের মুখমণ্ডলে আঘাতের চিহ্ন দেখা যায়। ছাত্রীর মায়ের অভিযোগ, রায়হান ও তাঁর সহযোগীরা তাঁর মেয়েকে ধর্ষণ করে হত্যা করেছেন। তাঁরা এ ঘটনার দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান।

এ বিষয়ে সুধারাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ সাহেদ উদ্দিন প্রথম আলোকে বলেন, প্রাথমিকভাবে পাওয়া তথ্য অনুযায়ী, নিহত ছাত্রীর সঙ্গে রায়হানের প্রেমের সম্পর্ক ছিল। ওই সম্পর্কের সূত্র ধরে ছাত্রী শুক্রবার সকালে গ্রামের বাড়ি থেকে রায়হানের সঙ্গে দেখা করতে তাঁর জেলা শহরের লক্ষ্মীনারায়ণপুর এলাকার মেসে যায়। সেখানে দুজনের মধ্যে ঝগড়া হয়। একপর্যায়ে রায়হান ছাত্রীকে মারধর করেন। এতে অভিমান করে ছাত্রী গলায় ফাঁস দেয়। পরে রায়হান ও একই মেসের আরেক সদস্য মিলে ছাত্রীকে হাসপাতালে নিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

পরিবারের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ওসি সাহেদ উদ্দিন বলেন, পরিবারের অভিযোগও তাঁরা খতিয়ে দেখবেন। লাশ ময়নাতদন্তকালে ধর্ষণের বিষয়টিও পরীক্ষা করে দেখার অনুরোধ করবেন তাঁরা। ঘটনার সঙ্গে জড়িত রায়হানকে ইতিমধ্যে আটক করা হয়েছে। অন্য আসামিকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে। রায়হান শহরের একটি রেস্তোরাঁর কর্মচারী।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন