বিজ্ঞাপন

দ্বিতীয় ঘটনা ঘটে গত শনিবার রাত সাড়ে আটটার দিকে। এ সময় কেন্দ্রের ডরমিটরিতে শিহাব মিয়া (১৬) নামের এক কিশোরকে অজ্ঞান অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন কেন্দ্রের লোকজন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে গেলে মৃত ঘোষণা করেন চিকিৎসক।

রিজ উদ্দিনের ঘটনায় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেছিল গাজীপুর জেলা প্রশাসন। ঘটনার ৫ মাস ২০ দিন পর গত রোববার পর্যন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার খবর পাওয়া যায়নি। তবে তদন্তসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, ঘটনার কয়েক দিন আগে থেকেই রিজ উদ্দিন প্রচণ্ড মানসিক চাপে ছিল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তা বলেন, ‘জামিন না পাওয়া, দীর্ঘদিন বন্দী থাকায় সে খুব হতাশাগ্রস্ত ছিল। এর মাঝেই এ ঘটনা ঘটে।’

আর শিহাবের মৃত্যুর ঘটনায় টঙ্গী পূর্ব থানায় গত রোববার একটি হত্যা মামলা হয়েছে। পুলিশ বলছে, শনিবার রাতে শিহাবের সঙ্গে কথা-কাটাকাটি হয় এক কিশোরের। এ সময় শিহাব ওই কিশোরকে ঘুষি মারে। পরে ওই কিশোর শিহাবের পেটে ঘুষি দিলে অজ্ঞান হয়ে পড়ে শিহাব। এ সময় কেন্দ্রের লোকজন শিহাবকে টঙ্গীর শহীদ আহসান উল্লাহ মাস্টার জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

টঙ্গী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. জাবেদ মাসুদ প্রথম আলোকে বলেন, মূলত মারামারি থেকে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কিশোরের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

এই দুই ঘটনা ছাড়াও বিভিন্ন সময় শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে আত্মহত্যার চেষ্টা ও পালিয়ে যাওয়ার ঘটনা রয়েছে। গত ৩ জুন রাতে আত্মহত্যার চেষ্টা করে রবিউল ইসলাম নামের এক কিশোর। তাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেলে ভর্তি করতে হয়েছিল। এর আগে গত বছরের সেপ্টেম্বরে চিকিৎসা নিতে এসে পালিয়ে যায় ইমরান নামের এক কিশোর। পরে এক মাস পর তাকে উদ্ধার করে টঙ্গী পূর্ব থানা-পুলিশ।

সার্বিক বিষয়ে জানতে শিশু উন্নয়ন কেন্দ্রে গেলে সরাসরি দেখা করতে চাননি তত্ত্বাবধায়ক এহিয়াতুজ্জামান। পরে মুঠোফোনে তিনি প্রথম আলোকে বলেন, মারামারি করে শিহাবের মৃত্যু হয়েছে। কিন্তু শিশুদের আত্মহত্যার চেষ্টা বা পালিয়ে যাওয়ার কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো কথা না বলে ফোন কেটে দেন।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, কেন্দ্রটিতে মোট ৩০০ বন্দীর আবাসন ব্যবস্থা রয়েছে। এর মধ্যে রোববার পর্যন্ত ৭৫৬ জন কিশোর ছিল। এর মধ্যে হত্যা, নারী ও শিশু নির্যাতন, অস্ত্র, মাদক, চুরি ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে শিশুরা রয়েছে। কেন্দ্রটি ঢাকা-ময়মনসিংহ মহাসড়কের টঙ্গীর কলেজগেট এলাকায় অবস্থিত। দেশের ৩৩ জেলা থেকে বিভিন্ন অপরাধে জড়ানো বা নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে এখানে রাখা হয়।

গত রোববার সরেজমিনে কেন্দ্রটির মূল ফটকে কথা হয় শিহাবের দাদা মো. আবদুল কুদ্দুসের সঙ্গে। নাতির লাশ বুঝে নিতে এসেছিলেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া থেকে। জানতে চাইলে তিনি বলেন, গত মে মাসে তাঁর নাতিকে এলাকায় একটি মোবাইল চুরির মামলায় থানায় দেওয়া হয়। এরপর থেকেই সে কেন্দ্রে ছিল।

আবদুল কুদ্দুস বলেন, ‘তার বিরুদ্ধে মোবাইল চুরির যে অভিযোগ তোলা হয়েছিল, তা মিথ্যা। পরে ওই মোবাইল পাওয়া গেছে অন্যজনের কাছে। ভাবছিলাম, সামনের মাসেই তাকে জামিন করাব। কিন্তু তার আগেই আমার নাতি নাই হয়ে গেল।’

কেন্দ্রটির পরিচালনা বা ব্যবস্থাপনার বিষয়ে জানতে চাইলে গাজীপুরের জেলা প্রশাসক এস এম তরিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, কেন্দ্রটিতে ধারণক্ষমতার বেশি শিশু থাকে। যার কারণে অনেক সময় ছোটখাটো সমস্যা হয়। তবে কেন্দ্রের পরিচালনা বা কারও অবহেলার বিষয় থাকলে অবশ্যই তদন্ত করে দেখা হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন