বন বিভাগ ও এলাকাবাসী সূত্রে জানা গেছে, ওই কিশোরের (১২) বাড়ি ডোমাবাড়ি এলাকাতেই। পাশের লাঠিটিলা বনের ভেতর একটি সেগুনগাছে পাহাড়ি ময়নার বাসাটি ছিল। বাড়িতে নিয়ে পোষার জন্য সেখানে থেকে ছানাগুলোকে ধরে আনে ওই কিশোর। ভবিষ্যতে আর এ ধরনের কাজ করবে না বলায় ওই কিশোরকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। ছানাগুলো বন বিভাগের জুড়ী রেঞ্জের লাঠিটিলা বিট কার্যালয়ে নিয়ে রাখা হয়েছে।

লাঠিটিলা বিট কার্যালয়ের ফরেস্টার সালাহ উদ্দিন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ময়নার ছানাগুলোকে তাঁরা পাকা কলা খাওয়ানোর চেষ্টা চালাচ্ছেন। বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজার কার্যালয়ের কর্মকর্তাদের বিষয়টি তাঁরা জানিয়েছেন।

ডোমাবাড়ি এলাকার বাসিন্দা ও পরিবেশকর্মী খোরশেদ আলম বলেন, ময়নার ছানাগুলো উদ্ধারের সময় তিনিও ঘটনাস্থলে ছিলেন। ছানাগুলোকে খুব ক্ষুধার্ত ও দুর্বল লাগছিল। তিনিও ছানাগুলোর সেবাযত্নে সহযোগিতা করছেন। সুস্থ-সবল হয়ে উঠলে বন বিভাগের মাধ্যমে ছানাগুলো বনে ছেড়ে দেওয়া হবে।

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা পাখি বিশেষজ্ঞ ইনাম আল হক মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, পাহাড়ি ময়না শালিক পরিবারের অন্তর্ভুক্ত। বৃহত্তর সিলেট ও চট্টগ্রামের পাহাড়ি অঞ্চলে এ প্রজাতির ময়নার দেখা মেলে বেশি। এরা বন-জঙ্গলেই থাকে। বনের বিভিন্ন ধরনের ফল ও পোকামাকড় খায়। একসময় লোকজন অবাধে তাদের ধরে নিয়ে যেত। বাড়িতে খাঁচায় পুষতেন। এ কারণে এ-জাতীয় ময়নার সংখ্যা কমে গেছে। তবে এখন সরকারের কড়াকড়ির কারণে এ অপতৎপরতা অনেকটা কমেছে।

ক্ষুধার্ত ও দুর্বল হয়ে পড়লে ময়নার ছানাগুলোকে পাকা পেঁপে, পাকা কলা অথবা দুধ-ভাত খাওয়ানো যেতে পারে বলে জানালেন ইনাম আল হক। বন্য প্রাণী ব্যবস্থাপনা ও প্রকৃতি সংরক্ষণ বিভাগের মৌলভীবাজার কার্যালয়ের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী বলেন, পাহাড়ি ময়নার তিনটি ছানাকে পরিচর্যার ব্যাপারে তিনি লাঠিটিলা বিটের ফরেস্টারকে প্রয়োজনীয় পরামর্শ দিয়েছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন