default-image

সকাল ছয়টায় কাজের জন্য বাসা থেকে বের হয়েছেন অভিরাম ঋষি। হেঁটে পৌঁছেছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে। ঘড়ির কাঁটা ঘুরতে ঘুরতে বেলা দেড়টা বাজিয়েছে। তবু একটা টাকাও রোজগার করতে পারেননি জুতার এই কারিগর।

এমন অবস্থা শুধু অভিরাম ঋষির একার নয়, রেলস্টেশনসহ জেলা শহরের বিভিন্ন রাস্তার মোড়ে মোড়ে থাকা সব কারিগরের অবস্থা তাঁরই মতো। করোনাভাইরাসের বিস্তার ঠেকাতে চলমান সর্বাত্মক লকডাউনে তাঁদের উপার্জন শূন্যে নেমেছে, আবার সরকারিভাবে কোনো সহযোগিতাও পাননি।

অভিরাম ঋষি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা শহরের ভাদুঘর ঋষিপাড়ার বাসিন্দা। মা-বাবা, স্ত্রী–সন্তানসহ পরিবারের সদস্য আটজন। অভিরাম বলেন, ‘করোনা না থাকলে প্রতিদিন ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা কাজ কইরা পাইতাম। কিন্তু অহন কোনো মানুষই আসে না। টেহাও পাই না। কী করোনা আইল, কাজও বন্ধ হইল। কার কাছে যামু? কারও কাছে গিয়া তো আর হাত পাততে (বাড়াতে) পারতাম না।’

বিজ্ঞাপন

হেফাজতে ইসলামের গত ২৬ মার্চের তাণ্ডবের সময় মাদ্রাসাছাত্ররা ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশনে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগ করে। হামলাকারীরা রেলস্টেশনে ট্রেনের সিগন্যাল ব্যবস্থা নষ্ট করে দেয়। ফলে তখন থেকে স্টেশনে সব আন্তনগর ট্রেনের যাত্রাবিরতি বাতিল করা হয়। আর ১৪ এপ্রিল থেকে শুরু হয় দেশব্যাপী সর্বাত্মক লকডাউন। ১২ এপ্রিল রেলমন্ত্রী ক্ষতিগ্রস্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন পরিদর্শন করেছিলেন। তখন বলেছিলেন, স্টেশনে ট্রেন থামাতে আরও পাঁচ থেকে ছয় মাস সময় লাগতে পারে।

গত শনিবার দুপুরে সরেজমিনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া রেলস্টেশন, টি এ রোড, কালীবাড়ি মোড় এলাকায় দেখা গেছে, জুতার কারিগরেরা অলস সময় পার করছেন। রেলস্টেশনে থাকা আরেক কারিগর রতন মনোঋষি বলেন, তিনি ছয়-সাত দিন পর কাজের জন্য বের হয়েছেন। সকাল থেকে বেলা দুইটা পর্যন্ত মাত্র ৬০ টাকা রোজগার করতে পেরেছেন। সারা দিনে ১০০-১২০ টাকাও হয় না। পরিবার-পরিজন নিয়ে খুবই কষ্টে আছেন।

টি এ রোড এলাকার আশিক প্লাজা মার্কেটের সামনে ছাতার নিচে বসে ছিলেন জুতার কারিগর দুলাল ঋষি। তিনি জানান, সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত মাত্র ৪০ টাকা রোজগার করেছেন। বাড়িতে মা, স্ত্রী ও তিন কন্যাসন্তান রয়েছে। সবাইকে নিয়ে খুবই কষ্টে দিনাতিপাত করছেন তিনি।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন