পুলিশ ও পরিবার সূত্রে জানা গেছে, নদীর বাবা জাকির হোসেনের বাড়ি নরসিংদীর বেলাব উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামে। পেশাগত প্রয়োজনে তিনি ২০১৫ সাল থেকে ভৈরবে বসবাস শুরু করেন। বর্তমানে ব্যাটারিচালিত অটোরিকশা চালান তিনি। এক বছর আগে জাকির তাঁর স্ত্রী রুমা ও একমাত্র সন্তান নদীকে নিয়ে সোহেলের বাড়িতে ভাড়ায় বসবাস শুরু করেন। এক মাস পর চলে গেলেও তিন মাস পর আবার ওই বাড়িতে ফেরত আসেন। কয়েক দিন ধরে রুমাকে উত্ত্যক্ত করা শুরু করেন সোহেল। রুমার সঙ্গে প্রেম ও শারীরিক সম্পর্কেরও প্রস্তাব দেন। কিন্তু রুমা রাজি হননি। এতে রুমার প্রতি সোহেল ক্ষুব্ধ ছিলেন।

গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাকির অটোরিকশা নিয়ে বাড়ি থেকে বের হয়ে যান। সোহেল তখন বাড়িতে ছিলেন। সুযোগ পেয়ে জাকিরের ঘরে ঢুকে সোহেল রুমার শ্লীলতাহানির চেষ্টা চালান। রুমার প্রতিরোধে সোহেল সুবিধা করে উঠতে পারেননি। ওই ক্ষোভ থেকে বড় ক্ষতি করার ঘোষণা দিয়ে ঘর থেকে বের হয়ে যান সোহেল। রাত ৮টার দিকে নদীকে মুড়ি খাওয়ানোর কথা বলে ঘর থেকে নিয়ে যান সোহেল। এরপর সে আর ঘরে ফেরেনি। সোহেল নদীকে নিয়ে গেছে জানার পর রুমা নদীকে খুঁজতে বের হন। কোথাও খুঁজে না পেয়ে রাতে পুলিশকে লিখিতভাবে বিষয়টি জানান। রাত সাড়ে ১২টার দিকে পলতাকান্দা এলাকার একটি কচুরিপানার স্তূপের ভেতর থেকে নদীর লাশ উদ্ধার করা হয়। পরে রাতেই পলতাকান্দা থেকে সোহেলকে আটক করে পুলিশ।

default-image

পলতাকান্দা এলাকায় গিয়ে জানা গেছে, সোহেলের স্থায়ী কোনো পেশা নেই। বিভিন্ন সময় তিনি মাছের আড়তে অন্যের ঘরে কাজ করেন। তাঁর ভাই সুমন এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি। ইদানীং মাদক কারবারে তিনি ভাইয়ের সহযোগী হয়ে কাজ করেন। তিনি নিজেও ইয়াবা ও গাঁজা সেবন করেন।

নদীর বাবা জাকির হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, সোহেলের উত্ত্যক্ত করার কথা রুমা আগেই তাঁকে জানিয়েছে। এ বিষয়ে সোহেলের সঙ্গে তাঁর কথাও হয়। প্রতিবেশীদের কাছে নালিশ দিয়ে প্রতিকার না পাওয়ায় বাড়ি ছেড়ে দেওয়ার কথা জানিয়ে রেখেছিলেন। জাকির বিশ্বাস করেন, তাঁর একমাত্র মেয়েকে সোহেলই হত্যা করেছেন এবং হত্যার পেছনে ওই ঘটনার যোগসূত্র রয়েছে।

মাদক সেবনের কথা পুলিশি হেফাজতে সাংবাদিকদের কাছে স্বীকার করেছেন সোহেল। কুপ্রস্তাবের বিষয়ে তাঁর ভাষ্য, রুমাকে তাঁর ভালো লাগত, সে জন্য কাছে পেতে চাইতেন। মঙ্গলবার এ নিয়ে রুমার সঙ্গে তাঁর কথা–কাটাকাটি হয়। তবে নদীকে হত্যার কথা অস্বীকার করেন তিনি।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ভৈরব শহর পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ শ্যামল মিয়া বলেন, ‘নদীকে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। ঘটনার রাতে সোহেল মাদক সেবন করেছেন, এমন আলামত পেয়েছি। আমরা তাঁর বিরুদ্ধে পাঁচ দিনের রিমান্ড আবেদন করেছি। রিমান্ড মঞ্জুর হলে তাঁকে বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করা হবে। তখন ঘটনার বিষয়ে আরও স্পষ্ট ধারণা পাওয়া যাবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন