বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

ওই এলাকার বাসিন্দা গৃহবধূ সাথী আক্তার বলেন, ‘গত ২৬ ডিসেম্বর ভোরে থেকে ভাঙন দেখা দিয়েছে। ওই দিন হঠাৎ ভূমিকম্পের মতো বাড়িঘর নড়েচড়ে ওঠে। পরে মচমচ শব্দ শুনতে পাই। ঘরের দরজা খুলে দেখি, রান্নাঘর ভেঙে যাচ্ছে। চিৎকার করে আশপাশের বাড়ির লোকদের জাগিয়ে তুলি। ঘরের সামান্য মালামাল বের করে আনতে পেরেছি।’

গত রোববার সরেজমিনে দেখা যায়, নদের পাড় ধরে অসংখ্য ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকার প্রতিটি বসতবাড়ি আধা পাকা। অর্ধশতাধিক পরিবারের বাড়ি ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। এর মধ্যে অঙ্কুর সর্দার, ওয়াহাব মিয়া, জাহিদুর রহমান, শিপন শেখ, খন্দকার হেলালসহ অন্তত ২৩টি পরিবারের ঘরবাড়ি ভাঙনের ঝুঁকি বেশি।

ভাঙনকবলিত ৩০০ মিটার সংরক্ষণকাজের জন্য ৫০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে।
পার্থ প্রতীম সাহা, নির্বাহী প্রকৌশলী, পাউবোর ফরিদপুর কার্যালয়

ভাঙনকবলিত এলাকাটি ফরিদপুর পৌরসভার ১৩ নম্বর ওয়ার্ডে অবস্থিত। ওই ওয়ার্ডের কাউন্সিলর মিজানুর রহমান। এলাকার কয়েকজন বলেন, কাউন্সিলরকে ভাঙনের বিষয়টি জানানো হয়েছে। কাউন্সিলর সরেজমিন পরিদর্শন করে গেছেন। এলাকাবাসী ভাঙনের বিষয়টি লিখিতভাবে পানি উন্নয়ন বোর্ডকে (পাউবো) জানিয়েছে।

তবে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, রোববার পর্যন্ত ওই এলাকা পরিদর্শন ও মাপামাপি ছাড়া আর কোনো কাজ করেনি পাউবো। এলাকাবাসী নিজ উদ্যোগে গাবগাছ ও বাঁশ দিয়ে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করছেন। ওই দিন জেলা প্রশাসক অতুল সরকার, সদর উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান আবদুর রাজ্জাক, সদর উপজেলার ইউএনও মাসুদুল আলম ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেন।

এ বিষয়ে কাউন্সিলর মিজানুর রহমান বলেন, ‘আমরা এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে মেয়রের স্বাক্ষরসহ এ এলাকার ভাঙন রোধে একটি আবেদনপত্র পাউবোতে জমা দিয়েছি।’

পাউবোর ফরিদপুর কার্যালয়ের নির্বাহী প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম সাহা বলেন, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। ক্ষতি যা হওয়ার তা তো হয়ে গেছে। নিচের মাটি সরে যাওয়া কিংবা ভূমিকম্পের কারণে এ ঘটনা ঘটতে পারে। ভাঙনকবলিত ৩০০ মিটার সংরক্ষণকাজের জন্য ৫০ লাখ টাকার একটি প্রকল্প পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। অনুমতি পাওয়া গেলে কাজ শুরু করা যাবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন