বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

এই দুই বাজারের মধ্যে সংযোগ ঘটিয়েছে এই আলীমুজ্জামান সেতু। ১৯৮৮ সালের বন্যায় পুরোনো সেতুটি ভেঙে যায়। পরে সেখানে বেইলি সেতুটি স্থাপন করা হয়।

গত মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে গিয়ে দেখা যায়, সেতুটির পূর্বপাড়ের উত্তর দিকে আবর্জনার স্তূপ। পলিথিন, পচা–বাসি খাবার, ফল মুড়িয়ে আনা পলিথিন, পচা সবজি ফেলানো। এর মধ্যে প্রচুর পলিথিন।

একইভাবে সেতুর পশ্চিম পাশের উত্তর দিকটি ময়লা-আবর্জনায় পরিপূর্ণ হয়ে রয়েছে। ওই পথ দিয়ে চলাচলকারী ব্যক্তিদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, তিতুমীর বাজার ও শরীয়তুল্লাহ বাজারের ব্যবসায়ীরা সাধারণত রাতে এসব আবর্জনা সেতুর দুই পাশে ফেলছেন।

সেতুর পূর্বপাড়ের ফল ব্যবসায়ী শহীদ মিয়া (৩৫) বলেন, ওই এলাকায় বেশ কিছু রেস্তোরাঁ রয়েছে। তারাই রাতের আঁধারে ওই আবর্জনা ফেলছে।

শহরের বদরপুর এলাকার বাসিন্দা সবজি ব্যবসায়ী আল আমীন (২৫) বলেন, আশপাশের সব ব্যবসায়ী সেতুর পাশে নদে ময়লা ফেলছেন। কাউকে এককভাবে দোষ দেওয়া যাবে না।

হাজী বিরিয়ানি হাউস অ্যান্ড রেস্টুরেন্টের কর্মচারী ফোরকান হোসেন (২৮) বলেন, ‘শুধু আমরাই ময়লা–আবর্জনা ফেলাই না। ওই এলাকার সব ব্যবসায়ী ময়লা ফেলে। তাই আমরাও ফেলি।’

পশ্চিমপাড়ের ফল ব্যবসায়ী শহরের বদরপুর এলাকার বাসিন্দা আবদুস সোবাহান (৫৫) বলেন, সেতুর পশ্চিমপাড়ের উত্তর দিকে যে ময়লা ফেলা হয়, সেগুলো ওই এলাকার বিভিন্ন আড়তের ময়লা।

আড়তদার সতীশ সরকার বলেন, আড়তের ময়লা–আবর্জনা সেতুর পাশে ফেলা হয়, এ অভিযোগ সত্য। এ জন্য আড়তদারেরা দায়ী নন। যেসব শ্রমিক আড়তে কাজ করেন, তাঁরা কথা শোনেন না। শ্রমিকেরাই ময়লা সেতুর পাশে ও নদে ফেলেন।

এই সমস্যা সমাধানে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা ছাড়া বিকল্প নেই বলে জানান হাজী শরীয়তুল্লাহ বাজার ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি নূর ইসলাম মোল্লা। তিনি বলেন, এক শ্রেণির ব্যবসায়ী সেতু ও নদের পরিবেশ নষ্ট করে ফেলছেন। তাঁদের কোনোভাবেই বাগে আনা যাচ্ছে না।

তিতুমীর বাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. কামরুজ্জামান বলেন, ওই বাজারের ব্যবসায়ীরা সেতুর পূর্বপাড়ে আবর্জনা ফেলেন না। তিনি দাবি করে বলেন, ভাসমান ব্যবসায়ীরা আবর্জনা ফেলে পরিবেশ নষ্ট করছেন।

এ ব্যাপারে ফরিদপুর পৌরসভার মেয়র অমিতাভ বোস বলেন, সেতু ও নদের পরিবেশ কাউকে নষ্ট করতে দেওয়া হবে না। যিনি বা যাঁরা কাজটি করে যাচ্ছেন, তাঁদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন