কুমিল্লার দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী শরিফুজ্জামান জিপিএ-৫ পেয়েছে

বিজ্ঞাপন
default-image

অদম্য ইচ্ছাশক্তিতে ভর করে প্রতিবন্ধিতা জয় করেছে দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী মো. শরিফুজ্জামান। কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন অনুষ্ঠিত এবারের এসএসসি পরীক্ষায় সে জিপিএ-৫ পেয়েছে। সরকারি মডেল কলেজের বিজ্ঞান বিভাগ থেকে সে ওই ফল অর্জন করে।

গত রোববার এসএসসি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত হয়। জিপিএ-৫ পেয়ে মহাখুশি তার পরিবারের সদস্যরা।

শরিফুজ্জামানের গ্রামের বাড়ি চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার উজানি গ্রামে। সে ওই গ্রামের পেশায় পল্লি চিকিৎসক আসাদুজ্জামান ফখরুল ও আলেয়া বেগমের ছেলে। আসাদুজ্জামানের এক মেয়ে ও তিন ছেলে। কুমিল্লা শহরতলির দৌলতপুরের ছায়াবিতান এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে তিন ছেলেমেয়ে থাকে।

শরিফুজ্জামানের একমাত্র বোন কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া সরকারি কলেজ থেকে ব্যবস্থাপনা শিক্ষা বিভাগে স্নাতকোত্তরে অধ্যয়নরত। তিনিও শারীরিকভাবে অসুস্থ। আরেক ভাই শারীরিক সমস্যা নিয়ে কাজ করেন। আরেক ভাই কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুলে অষ্টম শ্রেণিতে পড়ে। বড় ভাই কক্সবাজারের মহেশখালীতে একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন। তিন ভাইবোনই চোখে কম দেখেন। এর মধ্যে শরিফুজ্জামানের অবস্থা খারাপ। তার ওপর শরিফুজ্জামানের গায়ের চামড়া সাদা ও নরম। রোদে থাকতে পারে না।
শরিফুজ্জামানের বোন রাবেয়া সিদ্দিকা বলেন, ‘পরীক্ষার আগে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে কলেজ অধ্যক্ষের মাধ্যমে তিন ঘণ্টার স্থলে অতিরিক্ত ১৫ মিনিট চেয়ে আবেদন করি। এরপর বোর্ড সেটি মঞ্জুর করে। শরিফুজ্জামান জেএসসি পরীক্ষায়ও জিপিএ-৫ পায়।’
আসাদুজ্জামান বলেন, ‘আমি পল্লি চিকিৎসক। ওদের ভালো পড়ালেখা ও চিকিৎসার জন্য শহরের বাসায় রেখে পড়াচ্ছি।’
শরিফুজ্জামান তার এই ফলের পেছনে মা-বাবা, বোন ও শিক্ষকদের কাছে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছে। ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তার মন্তব্য হচ্ছে, ‘আগে উচ্চমাধ্যমিক পাস করি। এরপর জীবনের লক্ষ্য ঠিক করব।’
কলেজের অধ্যক্ষ এ কে এম এমদাদুল হক বলেন, ‘শরিফুজ্জামান দৃষ্টিপ্রতিবন্ধী। তার শরীরের চামড়া সাধারণ মানুষদের চেয়ে আলাদা। এরই মধ্যে তার জিপিএ-৫ অর্জন চাট্টিখানি নয়। আমাদের কলেজের ১৪৮ জন পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৯৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। এর মধ্যে একজন শরিফুজ্জামান। উচ্চমাধ্যমিকে তার প্রতি আমরা আরও যত্নবান হব। অষ্টম শ্রেণিতে ভর্তি হয়ে সে জেএসসিতেও জিপিএ-৫ পেয়েছিল।’
জানা গেছে, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীন অনুষ্ঠিত এবারের এসএসসি পরীক্ষায় ৬ জেলা থেকে ২১ জন দৃষ্টি ও শারীরিক প্রতিবন্ধী পরীক্ষা দিয়ে ১৯ জন কৃতকার্য হয়েছে। এর মধ্যে কুমিল্লা জেলার ৫, ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার ৭, ফেনীর ৪, চাঁদপুর ও নোয়াখালী জেলার ২ জন করে ও লক্ষ্মীপুর জেলার ১ জন। অকৃতকার্য দুজনের মধ্যে একজন চাঁদপুরের মতলব উপজেলার এবং অপরজন ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জের। কৃতকার্য শিক্ষার্থীদের মধ্যে একমাত্র শরিফুজ্জামান জিপিএ-৫ পেয়েছে।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, গত রোববার এসএসসি পরীক্ষার ফল ঘোষণা করা হয়। প্রতিকূলতাকে মাড়িয়ে শরিফুজ্জামান ভালো ফল করেছে। অদম্য ইচ্ছাশক্তিতেই তার এই সফলতা এসেছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন