default-image

পারিবারিক কলহের জের ধরে এবার কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের হালগাঁও গ্রামে শাশুড়ি বানু বিবি (৫০) ও স্ত্রী ফারজানা আক্তারকে (২৫) কুপিয়ে হত্যা করার অভিযোগ উঠেছে লোকমান হোসেন নামের এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে। মঙ্গলবার বিকেলে ওই ঘটনা ঘটে। খুনের পর লাশের পাশেই বসে ছিলেন লোকমান। তাঁকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
নিহত ব্যক্তিদের পরিবারের দাবি, মাদকাসক্ত হয়ে লোকমান তাঁদের খুন করেন। অন্যদিকে লোকমানের দাবি, স্ত্রীর পরকীয়া প্রেমে বাধা দেওয়াকে কেন্দ্র করে ওই ঘটনা ঘটে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে লাশ উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। বুধবার কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে লাশ দুটির ময়নাতদন্ত হবে।
এর আগে গত সোমবার বেলা ১১টায় পারিবারিক কলহের জের ধরে কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলার আদ্রা দক্ষিণ ইউনিয়নের পুজকরা গ্রামে মা ও ভাবিকে কুপিয়ে হত্যা করেন এক ব্যক্তি। ওই ঘটনার এক দিন পরই আবার জোড়া খুনের ঘটনা ঘটল।

বিজ্ঞাপন

পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার বুড়িচং উপজেলার মোকাম ইউনিয়নের হালগাঁও গ্রামের লোকমান হোসেন ও ফারজানা স্বামী স্ত্রী। লোকমান হোসেন (৩৫) পেশায় রিকশাচালক। তাঁদের এক ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। বিয়ের পর থেকে লোকমান মাদকাসক্ত। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে অনেক ঝগড়া হয়। এরই মধ্যে লোকমান সন্দেহ করেন, তাঁর স্ত্রী ফারজানা কারও সঙ্গে পরকীয়া প্রেম করছেন। এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে কয়েক দিন ধরে কলহ চলে আসছিল। মঙ্গলবার সকালে তাঁর শাশুড়ি জেলার আদর্শ সদর উপজেলার কালিরবাজার ইউনিয়নের বল্লভপুর গ্রামে আসেন। লোকমান পরকীয়ার বিষয়টি উত্থাপন করেন। অন্যদিকে ফারজানা মাদকাসক্তের বিষয়টি জানান। একপর্যায়ে শাশুড়ি বানু বিবি উভয়পক্ষকে বকা দেন। একই সঙ্গে লোকমান হোসেনকে ভালো হয়ে চলার পরামর্শ দেন। এতে উত্তেজিত হয়ে লোকমান শাশুড়িকে খাটের মধ্যে এবং ঘরের মেঝেতে স্ত্রী ফারজানাকে কুপিয়ে হত্যা করেন। ঘটনাস্থলে তাঁরা মারা যান। হত্যাকাণ্ড ঘটিয়ে লোকমান লাশের পাশে বসা ছিলেন। খবর পেয়ে পুলিশ এসে লাশ দুটি উদ্ধার করে ও লোকমানকে আটক করে।
ফারজানার প্রতিবেশী মনির হোসেন বলেন, লোকমান মাদকাসক্ত। একাধিক মাদক মামলার আসামি। স্ত্রীকে মারধর করতেন। নেশা করেই স্ত্রী ও শাশুড়ি খুন করেন।
বুড়িচং থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোজাম্মেল হক বলেন, প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে পারিবারিক কলহের জের ধরে এই জোড়া খুনের ঘটনা ঘটে। লাশ উদ্ধার করা হয়েছে।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন