বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, চান্দিনায় স্থানীয় সাংসদের সঙ্গে উপজেলা আওয়ামী লীগের বিরোধ, নাঙ্গলকোটে উপজেলা আওয়ামী লীগের দুর্বল নেতৃত্ব ও উপজেলা চেয়ারম্যানের নানামুখী তত্পরতার কারণে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীরা কোথাও কোথাও হেরেছেন। তবে লালমাই উপজেলায় অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল ও উপজেলা আওয়ামী লীগের ঐক্যের কারণে সেখানকার সব কটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয় পেয়েছেন বলে নেতা-কর্মীরা মনে করেন।

ঘোষিত ফলাফলে দেখা গেছে, চান্দিনার ১২টি ইউনিয়নের মধ্যে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী ৬ জন, আওয়ামী লীগের ৩ জন, বিএনপির স্বতন্ত্র ২ জন ও জামায়াতের স্বতন্ত্র ১ জন জয়ী হন।

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লা-৭ (চান্দিনা) আসনের সাংসদ প্রাণ গোপাল দত্ত ও চান্দিনা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি প্রয়াত সাংসদ আলী আশরাফের ছেলে মুনতাকিম আশরাফ টিটুর সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। ওই কারণে নৌকার ভরাডুবি বলে স্থানীয় নেতারা মনে করছেন।

নাঙ্গলকোট উপজেলার আট ইউনিয়নের মধ্যে চারটিতে আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। চারটিতে বিদ্রোহীরা জয়ী হন। নাঙ্গলকোটে আওয়ামী লীগের দুর্বল নেতৃত্ব, উপজেলা চেয়ারম্যানের পছন্দের প্রার্থী থাকায় আওয়ামী লীগ চারটিতে পরাজিত হয় বলে স্থানীয় নেতাদের ধারণা।

লালমাই উপজেলার পাঁচ ইউনিয়নের সব কটিতেই আওয়ামী লীগের চেয়ারম্যান প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।

কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাজ্জাদ হোসেন বলেন, নাঙ্গলকোট ও লালমাই উপজেলার ১৩টি ইউনিয়নের মধ্যে ৯টিতে নৌকা প্রতীক জয়ী হয়েছে। ৪টিতে আওয়ামী লীগের রাজনীতি করেন, কিন্তু বিদ্রোহী প্রার্থী হয়েছেন এমন প্রার্থীরা বিজয়ী হয়েছেন। আঞ্চলিকতা ও পছন্দের প্রার্থী থাকায় আওয়ামী লীগের একাংশের প্ররোচনায় বিএনপি-জামায়াতের ভোটে বিদ্রোহীরা জয়ী হন। সরকার নির্বাচন শতভাগ সুষ্ঠু করার কারণে এমন ফল হয়েছে। এটা গণতন্ত্রের বিজয়।

কুমিল্লা উত্তর জেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক আবুল কালাম আজাদ বলেন, প্রার্থী বাছাইয়ে জনপ্রিয় ও যোগ্যদের মূল্যায়ন করা হয়নি। কোথাও নেতৃত্বের মধ্যে বিরোধ ছিল। তৃণমূলের পর জেলা কমিটি সভা করে প্রার্থী চূড়ান্ত করে কেন্দ্রে দিলে ভালো প্রার্থী মনোনয়ন পেতেন। তার ওপর দলীয় প্রতিযোগিতাও রয়েছে। এই কারণে নৌকার পরাজয় বলে তিনি মনে করছেন।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন