কুমিল্লায় যুবদল নেতা তৌহিদ হত্যার দায়ে একই দলের নেতার ফাঁসি

আদালতের বিচারক রায়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে যুবদল নেতা আহসান হাবিবের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এই মামলার অপর দুই আসামি আহসান হাবিবের বড় ভাই কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মোস্তফা জামান ও আহসান হাবিবের সহযোগী শাহেদ হাসানকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত। তবে এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী।

বিজ্ঞাপন
default-image

কুমিল্লা মহানগর যুবদলের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম তৌহিদ ইসলাম হত্যা মামলায় একই কমিটির সদস্য আহসান হাবিবকে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে এই অপরাধে তাঁকে এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে। কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ দ্বিতীয় আদালতের বিচারক আবদুল্লাহ আল মামুন আজ বুধবার বেলা ১১টায় ওই রায় দেন।

আদালতের বিচারক রায়ে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে যুবদল নেতা আহসান হাবিবের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করার নির্দেশ দিয়েছেন। তবে এই মামলার অপর দুই আসামি আহসান হাবিবের বড় ভাই কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মোস্তফা জামান ও আহসান হাবিবের সহযোগী শাহেদ হাসানকে বেকসুর খালাস দিয়েছেন আদালত।

ওই দুই আসামিকে হত্যার অভিযোগ থেকে অব্যাহতি দেওয়ায় অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন মামলার বাদী নিহত এস এম তৌফিকের স্ত্রী বদরুন নাহার। রায় ঘোষণার পর তিনি আদালত প্রাঙ্গণে বসে বলেন, ‘সব আসামির সাজা চেয়েছিলাম আমি। কিন্তু সবার সাজা হয়নি। আমি উচ্চ আদালতে যাব।’

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
যুবদল নেতা এস এম তৌহিদ ইসলাম ওরফে সোহেল কুমিল্লা নগরের ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজার ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি কুমিল্লা নগরের জাফর খান সড়কের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর সায়াদ আজিজ, উমাইর আজিজ ও বারিরা নাহার নামে তিন সন্তান রয়েছে। মামলার আসামিদের মধ্যে দুজন বিএনপি ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

যুবদল নেতা এস এম তৌহিদ ইসলাম ওরফে সোহেল কুমিল্লা নগরের ইস্টার্ন ইয়াকুব প্লাজার ব্যবসায়ী ছিলেন। তিনি কুমিল্লা নগরের জাফর খান সড়কের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর সায়াদ আজিজ, উমাইর আজিজ ও বারিরা নাহার নামে তিন সন্তান রয়েছে। মামলার আসামিদের মধ্যে দুজন বিএনপি ও যুবদলের রাজনীতির সঙ্গে জড়িত।

একজন হত্যা মামলার প্রধান আসামির সহযোগী। প্রায় আট বছর পর এই মামলার রায় হলো।

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী সূত্রে জানা গেছে, ২০১২ সালের ১৬ সেপ্টেম্বর বিকেল ৫টায় কুমিল্লা নগরের ৩ নম্বর ওয়ার্ডের রেইসকোর্স এলাকার লাইট অব বেঙ্গল রেস্তোরাঁয় বিএনপির নেতৃত্বাধীন ১৮ দলীয় জোটের এক মতবিনিময় সভা হয়। ওই সভার শেষ সময়ে রেস্তোরাঁর নিচে কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্য আহসান হাবিব ওরফে মিঠু এবং ওই ওয়ার্ডের যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম তৌহিদ সোহেলের মধ্যে কথা-কাটাকাটি ও বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে সোহেলের বুকের বাঁ ও ডান পাশে ছুরিকাঘাত করেন আহসান হাবিব ও তাঁর সহযোগীরা।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মামলার সংক্ষিপ্ত বিবরণী সূত্রে জানা গেছে, হামলার পর যুবদল নেতা সোহেলকে তাঁর সহযোগীরা আশঙ্কাজনক অবস্থায় প্রথমে কুমিল্লা মুন হাসপাতালে নেন। পরে অবস্থার অবনতি হলে তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের জরুরি বিভাগে নেওয়া হয়। সেখানে কর্তব্যরত চিকিত্সক সোহেলকে মৃত ঘোষণা করেন। এ ঘটনায় সোহেলের স্ত্রী বদরুন নাহার লুনা বাদী হয়ে কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানায় ওই দিন রাতেই কুমিল্লা মহানগর যুবদলের সদস্য আহসান হাবিব ওরফে মিঠু এবং তাঁর বড় ভাই কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মোস্তফা জামানের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও ৪ থেকে ৫ জনের নামে হত্যা মামলা করেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ সূত্র জানায়, ২০১২ সালের ১৪ ডিসেম্বর কুমিল্লার কোতোয়ালি মডেল থানার উপপরিদর্শক (এসআই) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র দে আদালতে অভিযোগপত্র দেন। এতে আহসান হাবিব, তাঁর ভাই মোস্তফা জামান ও আহসান হাবিবের সহযোগী ফেনীর ফুলগাজী উপজেলার উত্তর শ্রীপুর গ্রামের শাহেদ হাসান নামের আরও এক ব্যক্তিকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ২০১৩ সালের ৬ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র গ্রহণ করা হয়। ২০১৫ সালের ৪ মার্চ মামলার অভিযোগ গঠন করা হয়।

এই মামলার ১৭ জন সাক্ষীর মধ্যে ১৩ জন সাক্ষ্য দেন। আজ বুধবার বেলা ১১টায় সোহেল হত্যা মামলার রায় ঘোষণা করা হয়। রায় ঘোষণার সময় আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিলেন মামলার ২ নম্বর আসামি মোস্তফা জামান। অপর দুই আসামি পলাতক রয়েছেন।

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, মামলার প্রধান আসামি আহসান হাবিব হত্যাকাণ্ডের ১৬ দিন পর গ্রেপ্তার হন। এরপর প্রায় এক বছর জেল খেটে জামিনে বের হন। এরপর তিনি মালয়েশিয়া চলে যান। মামলার দ্বিতীয় আসামি মোস্তফা জামান উচ্চ আদালত থেকে জামিন নিয়ে নিয়মিত আদালতে হাজিরা দিয়েছেন। মামলার ৩ নম্বর আসামি শাহেদ হাসান গ্রেপ্তার হননি। তিনি পলাতক রয়েছেন। বিদেশে ও পলাতক থাকায় দুই আসামির বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।

তবে মামলার অপর আসামি কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মোস্তফা জামান বলেন, ‘কোনো ব্যক্তির অপকর্মের দায়ভার তো আমি নিতে পারি না। আমাকে হয়রানি করার জন্য এই মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমি ন্যায়বিচার পেয়েছি।’  

বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

মামলার বাদী ও সোহেলের স্ত্রী বদরুন নাহার লুনা বলেন, ‘ঘটনার দিন সভা শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে আহসান হাবিব হোটেলের নিচে একটি চা–দোকানের সামনে প্রকাশ্যে দিবালোকে আরও কয়েকজন অজ্ঞাতনামা সঙ্গী নিয়ে আমার স্বামীর বুকে ছুরি মারেন। এ সময় ১০০ গজ দূরে মামলার ২ নম্বর আসামি জেলা বিএনপির প্রচার সম্পাদক মোস্তফা জামান উপস্থিত ছিলেন। গত আট বছর মামলার প্রতিটি তারিখের দিন আমি স্বামী হত্যার বিচার চেয়ে আদালতে হাজির হয়েছি। মামলা দায়েরের পর বলেছিলাম, আমার বাবা ফজলুল করিম একজন মুক্তিযোদ্ধা ও চান্দিনার গল্লাই ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান। মুক্তিযোদ্ধার সন্তান হিসেবে আমি এ মামলায় শেষ পর্যন্ত লড়ে যাব। বুধবার আমার প্রত্যাশিত সেই দিন ছিল। কিন্তু সর্বোচ্চ সাজা একজনের হয়েছে। অপর আসামিদের খালাস দেওয়ায় উচ্চ আদালতে যাব আমি।’

এই মামলার দীর্ঘদিনের অতিরিক্ত সরকারি কৌঁসুলি মো. জাহাঙ্গীর আলম ভূঁইয়া বলেন, বাদীপক্ষ এই রায়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছে।

বিজ্ঞাপন
মন্তব্য পড়ুন 0
বিজ্ঞাপন