default-image

কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের চৌয়ারা এলাকার বাসিন্দা যুবলীগ নেতা জিল্লুর রহমান চৌধুরী ওরফে গোলাম জিলানী হত্যা মামলার প্রধান আসামি ২৭ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও কাউন্সিলর মো. আবুল হাসানকে (৪০) কারাগারে পাঠানো হয়েছে। আজ সোমবার দুপুরে কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ মো. আতাবুল্লাহর আদালতে আত্মসমর্পণ করেন হাসান। আদালতের বিচারক তাঁকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিলে তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়।

জিল্লুর হত্যা মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পিবিআইয়ের পরিদর্শক বিপুল চন্দ্র দেবনাথ বলেন, কাউন্সিলর হাসানকে কারাগারে পাঠানো হয়েছে। পিবিআই কাল মঙ্গলবার তাঁর রিমান্ডের আবেদন করবে আদালতে।

এদিকে কাউন্সিলর আবুল হাসানকে কারাগারে পাঠানোর খবর শুনে চৌয়ারা এলাকায় মিষ্টি বিতরণ হয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর দীর্ঘদিন আত্মগোপন ও জামিনের থাকার পর এবার আত্মসমর্পণ করতে আদালতে গিয়েছিলেন এই কাউন্সিলর। তাঁর বিরুদ্ধে চৌয়ারা এলাকায় বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে চাঁদাবাজির অভিযোগ রয়েছে। হত্যাকাণ্ডের পর জামিনে এসেও তিনি বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ১১ নভেম্বর সকাল ৭টার দিকে কুমিল্লার পুরান চৌয়ারা বাজার হেলাল স্টোরের সামনে একদল দুর্বৃত্ত জিল্লুর রহমান চৌধুরীকে কুপিয়ে জখম করে। এরপর তাঁকে কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নেওয়ার পরপরই তিনি মারা যান।। এ ঘটনায় ১২ নভেম্বর সকালে জিল্লুরের ছোট ভাই ইমরান হোসাইন চৌধুরী বাদী হয়ে কুমিল্লার সদর দক্ষিণ মডেল থানায় ২৪ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা আরও ১০ থেকে ১৫ জনকে আসামি করে মামলা করেন। কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ২৭ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর মো. আবুল হাসান ও ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর আবদুস সত্তারকে (৩৪) যথাক্রমে এই মামলার ১ ও ২ নম্বর আসামি করা হয়।

বিজ্ঞাপন

মামলার পর হাসান ও সত্তার দীর্ঘদিন আত্মগোপনে ছিলেন। এর মধ্যে গত ২৬ জানুয়ারি বিকেল ৫টার দিকে ঢাকার শাহবাগ এলাকা থেকে কাউন্সিলর সত্তারকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। ওই মামলায় রিমান্ড শেষে সত্তার বর্তমানে কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক দেলোয়ার হত্যা মামলায় আবার চার দিনের রিমান্ডে আছেন। তাঁকে পিবিআই গতকাল রোববার বিকেলে রিমান্ডের নেয়। আগামী বৃহস্পতিবার তাঁকে আবার কারাগারে পাঠানো হবে।

অন্যদিকে কাউন্সিলর আবুল হাসান জিল্লুর হত্যাকাণ্ডের পর কয়েক মাস আত্মগোপনে ছিলেন। এরপর তিনি হাইকোর্ট থেকে এক মাসের জামিন নেন। আজ হাসান কুমিল্লা জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে আত্মসমর্পণ করেন। পরে তাঁকে কারাগারে পাঠানো হয়।

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন