বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন

শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক মো. আসাদুজ্জামান স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধিভুক্ত ছয় জেলার ১ হাজার ৭৫৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে এবার এসএসসি পরীক্ষায় ২ লাখ ১৯ হাজার ৭০৪ জন অংশ নেয়। এর মধ্যে কৃতকার্য হয়েছে ২ লাখ ১১ হাজার ৭০৪ জন। অকৃতকার্য হয়েছে ৮ হাজার ২০১ জন। পাসের হার ৯৬ দশমিক ২৭। গত বছর (২০২০) এই বোর্ডে পাসের হার ছিল ৮৫ দশমিক ২২।
এ বছর বোর্ডে বিজ্ঞান শাখায় গড় পাসের হার ৯৮ দশমিক ৮৯, মানবিকে ৯৬ দশমিক ১৬ এবং ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় ৯৪ দশমিক ৫৯। এ বছর বোর্ড থেকে জিপিএ-৫ পেয়েছে মোট ১৪ হাজার ৬২৬ জন। গতবারের চেয়ে এবার জিপিএ-৫ বেড়েছে ৪ হাজার ৩৮১টি।

পাসের হার ও জিপিএ-৫–এ এগিয়ে মেয়েরা

কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডে এবার ছেলেদের পাসের হার ৯৫ দশমিক ৭৩। মেয়েদের ক্ষেত্রে এই হার ৯৬ দশমিক ৬৯। জিপিএ-৫ প্রাপ্ত ১৪ হাজার ৬২৬ জনের মধ্যে ছেলে ৫ হাজার ৪৪৫ জন ও মেয়ে ৯ হাজার ১৮১ জন।

বিজ্ঞানে মেয়েদের পাসের হার ৯৮ দশমিক ৯৯ ও ছেলেদের ৯৮ দশমিক ৭৯। এই শাখা থেকে ৭ হাজার ৮৬৮ জন মেয়ে জিপিএ-৫ পেয়েছে। জিপিএ–৫ প্রাপ্ত ছেলের সংখ্যা ৫ হাজার ১৪৬। মানবিকে মেয়েদের পাসের হার ৯৬ দশমিক ৪২। ছেলেদের পাসের হার ৯৫ দশমিক ৪৯। মানবিক থেকে জিপিএ-৫ প্রাপ্তদের মধ্যে মেয়ে ৪৫৮ জন ও ছেলে ৫১ জন। ব্যবসায় শিক্ষা শাখায় মেয়েদের পাসের হার ৯৫ দশমিক ২৮, ছেলেদের ৯৪ দশমিক শূন্য ৮। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮৫৫ জন মেয়ে ও ২৪৮ জন ছেলে।

কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুল থেকে এবার বিজ্ঞান বিভাগে জিপিএ-৫ পেয়েছে ঐশ্বর্য সিনহা। অভিব্যক্তি প্রকাশ করে সে জানায়, এই ফল তার প্রত্যাশিত ছিল।

default-image

কুমিল্লা শহরের নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক রোকসানা ফেরদৌস মজুমদার বলেন, করোনাকালে মেয়েরা পড়াশোনায় আরও বেশি মনোযোগী হয়েছে। তারা সব সময় পড়াশোনায় সিরিয়াস ছিল। গত বছর জিপিএ-৫–এ সেরা ছিল, এবার পাসের হারেও সেরা। সরকারের নারীবান্ধব শিক্ষানীতি এ ক্ষেত্রে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। উপবৃত্তির কারণে বিদ্যালয়গামী শিক্ষার্থীর হার বেড়েছে। শহরে ও গ্রামে সমতা এসেছে।

বেড়েছে শতভাগ পাস করা স্কুল

এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের ৩৫৫টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সব পরীক্ষার্থী পাস করেছে। এর মধ্যে কুমিল্লা জেলায় এমন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ১১৭। গত বছর বোর্ডে শতভাগ পাস করা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের সংখ্যা ছিল ১৬২।

বোর্ডের অধিভুক্ত জেলাগুলোর মধ্যে লক্ষ্মীপুরে পাসের হার সর্বোচ্চ ৯৭ দশমিক ২৭। জিপিএ-৫ বেশি কুমিল্লায়। এ জেলায় ৬ হাজার ৫৪৪ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। বোর্ডের অধিভুক্ত ৫৪টি উপজেলার মধ্যে বরুড়া উপজেলায় সর্বোচ্চ পাসের হার ৯৯ দশমিক ১২। জিপিএ-৫ বেশি কুমিল্লার আদর্শ সদর উপজেলায়, ১ হাজার ৯৬৪টি।

সাফল্য ধরে রেখেছে নামকরা স্কুলগুলো

কুমিল্লা জিলা স্কুলের ৩৮৭ পরীক্ষার্থীর মধ্যে ৩৪৩ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। নবাব ফয়জুন্নেছা সরকারি বালিকা উচ্চবিদ্যালয়ের ৩৮০ জনের মধ্যে ২৯৬ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। কুমিল্লার ইস্পাহানী পাবলিক স্কুল অ্যান্ড কলেজের ২৮৯ জনের মধ্যে ২৩৭ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। কুমিল্লার বরুড়া উপজেলার হাজী নোয়াব আলী পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের ৩৪০ জনের মধ্যে ১১৮ জন জিপিএ-৫ পেয়েছে। পাসের হার শতভাগ।
দাউদকান্দি উপজেলার গৌরীপুর সুবল আফতাব উচ্চবিদ্যালয়ে ৫১৪ জনের মধ্যে ৫০২ জন পাস করেছে। পাসের হার ৯৭ দশমিক ৬৭। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮০ জন। কুমিল্লা মডার্ন হাইস্কুলের ১ হাজার ১৯৫ জনের মধ্যে ১ হাজার ১৯২ জন পাস করেছে। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫১৫ জন। পাসের হার ৯৯ দশমিক ৭৫। নামকরা ২০ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ১৮টি শহর এলাকার। দুটি গ্রামের স্কুল।

বোর্ডের উপপরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (মাধ্যমিক) মোহাম্মদ শহিদুল ইসলাম বলেন, করোনায় বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে এবার এসএসসি পরীক্ষা হয়। চলতি বছরের ১৪ থেকে ২৩ নভেম্বর পর্যন্ত বিভাগভিত্তিক পরীক্ষা নেওয়া হয়। এর সঙ্গে জুনিয়র স্কুল সার্টিফিকেট (জেএসসি) পরীক্ষার অন্যান্য বিষয়ের ফল সন্নিবেশ করে এসএসসির ফলাফল প্রকাশ করা হয়। ফলে পাসের হার ও জিপিএ-৫ বেড়েছে।

বোর্ডের চেয়ারম্যান মো. আবদুস ছালাম বলেন, ‘সার্বিকভাবে বোর্ডের ফল নিয়ে সন্তুষ্ট। করোনা মহামারিতে সুষ্ঠুভাবে পরীক্ষা নিয়ে ফল প্রকাশ করতে পেরেছি, এটাই ভালো লাগছে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন