default-image

কুমিল্লা মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রোকন উদ্দিনের ওপর গাড়ি তুলে দেওয়া ও দা নিয়ে নাচানাচির অভিযোগে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর সাইফুল বিন জলিলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে স্থানীয় সরকার পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় (এলজিআরডি) মন্ত্রণালয়। আজ মঙ্গলবার স্থানীয় সরকার বিভাগের সিটি করপোরেশন-১ শাখার উপসচিব নুমেরী জামান স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে এই তথ্য জানানো হয়। প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি ১২ জনকে দেওয়া হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়, ১৯ মার্চ কুমিল্লা নগরের চকবাজার এলাকায় বাংলাদেশ আওয়ামী যুবলীগের একটি মিছিলে যুবলীগের সদস্য রোকন উদ্দিনকে গাড়িচাপা দিয়ে হত্যার চেষ্টা করেন কাউন্সিলর সাইফুল বিন জলিল। এ ঘটনায় রোকন উদ্দিন মামলা করেছেন। এ ছাড়া তিনি নগরের তেলিকোনা চৌমুহনীর একটি পেট্রলপাম্পে দুই হাতে দুটি দেশীয় অস্ত্র (দা) নিয়ে আনন্দ প্রকাশ করে নৃত্য করেন, যার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। পুলিশ সাইফুলকে গ্রেপ্তার করেছে। এ ঘটনায় তদন্তকারী কর্মকর্তা নিয়োগ করা হয়েছে। গ্রেপ্তারের পর তাঁকে আদালতে নেওয়ার পর বিচারক কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। এমতাবস্থায় স্থানীয় সরকার (সিটি করপোরেশন) আইন ২০০৯-এর ধারা ১৩-এর উপধারা (১)(ঘ) অনুযায়ী সিটি করপোরেশনের কোনো কাউন্সিলর ‘অসদাচরণ বা ক্ষমতার অপব্যবহারের’ দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে তিনি ওই পদে থেকে অপসারণযোগ্য হবেন। ওই কারণে সাইফুল বিল জলিলকে কাউন্সিলর পদে থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে।

যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রোকন উদ্দিনের ওপর গাড়ি তুলে দেওয়া ও দা নিয়ে নাচানাচির অভিযোগে কাউন্সিলর সাইফুল বিন জলিলকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করেছে এলজিআরডি মন্ত্রণালয়।

বিষয়টি নিশ্চিত করে মেয়র মো. মনিরুল হক প্রথম আলোকে বলেন, সাইফুলকে সাময়িকভাবে মন্ত্রণালয় কাউন্সিলর পদ থেকে বরখাস্ত করেছে। এই চিঠি আজ নগর ভবনে আসে।

বিজ্ঞাপন

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্তমানে সাইফুল বিল জলিল কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে আছেন। সাইফুল ২০১২ সালের ৫ জানুয়ারি ও ২০১৭ সালের ৩০ মার্চ অনুষ্ঠিত নির্বাচনে কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের ১৫ নম্বর ওয়ার্ড থেকে টানা দুবার বিএনপির সমর্থন দিয়ে কাউন্সিলর হন। তাঁর মা মনোয়ারা বেগম জাতীয়তাবাদী আইনজীবী ফোরাম কুমিল্লার সদস্য ও কুমিল্লা আইনজীবী সমিতির কার্যকরী কমিটির সাবেক সহসভাপতি ছিলেন। সাইফুল বিন জলিলের বাবা আবদুল জলিল ১৯৭৭ সালের ১০ সেপ্টেম্বর থেকে ১৯৮২ সালের ১৫ মে পর্যন্ত কুমিল্লা পৌরসভার চেয়ারম্যান (বর্তমানে মেয়র) ও কুমিল্লা শহর বিএনপির সভাপতি ছিলেন। তিনি কুমিল্লা সিটি করপোরেশনের মেয়র ও কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা বিএনপির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মনিরুল হকের (সাক্কু) ঘনিষ্ঠজন ছিলেন। চকবাজার বাস টার্মিনালে আধিপত্য বিস্তার নিয়ে ঝামেলা হওয়ার কারণে তিনি ৫ মার্চ বিকেল সংরক্ষিত মহিলা সাংসদ ও কুমিল্লা মহানগর আওয়ামী লীগের সহসভাপতি আঞ্জুম সুলতানার কাছে ফুলের তৈরি নৌকা দিয়ে আওয়ামী লীগে যোগদান করেন।

মামলা-বরখাস্তসহ পুরো বিষয়টি আইনগতভাবে দেখা হচ্ছে। আমার ছেলে মানসিকভাবে একটু সমস্যায় আছে।
মনোয়ারা বেগম, কাউন্সিলর সাইফুলের মা

দলীয় সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার বেলা সাড়ে তিনটায় কুমিল্লা নগরের চকবাজার ছাতিপট্টি অজিত গুহ মহাবিদ্যালয় এলাকায় মিছিল নিয়ে যাওয়ার সময় কুমিল্লা মহানগর যুবলীগের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রোকন উদ্দিনের পায়ের ওপর গাড়ি তুলে দেন কাউন্সিলর সাইফুল বিন জলিল। এতে রোকনের দুই পা থেঁতলে যায়। বর্তমানে রোকন কুমিল্লা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এরপর পুলিশ নগরের তেলিকোনা–সংলগ্ন কাসারিপট্টি এলাকা থেকে শুক্রবার সন্ধ্যায় কাউন্সিলর সাইফুলকে আটক করতে যায়। এ সময় সাইফুল তাঁর আস্তানা থেকে দা হাতে নিয়ে বের হন। একপর্যায়ে পুলিশ তাঁকে ধরতে গেলে পুলিশের সঙ্গে তাঁর ধস্তাধস্তি হয়। সেখানে জনতার উপস্থিতিতে পুলিশের সঙ্গে কিলঘুষি হয়। সাইফুল দা নিয়ে নাচানাচি করেন। এ–সম্পর্কিত একটি ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

এদিকে এই ঘটনায় রোকন বাদী গত শনিবার সকালে কোতোয়ালি মডেল থানায় সাইফুল বিন জলিলকে প্রধান আসামি করে আটজনের নামে একটি হত্যাচেষ্টার মামলা করেন। এই মামলায় শনিবার বিকেলে সাইফুলকে কুমিল্লার আদালতে নেওয়া হয়। আদালতের বিচারক তাঁকে কুমিল্লা কেন্দ্রীয় কারাগারে প্রেরণের নির্দেশ দেন। পরে তাঁকে কারাগারে নেওয়া হয়। বর্তমানে সাইফুল কারাগারে আছেন।

এ প্রসঙ্গে সাইফুলের মা মনোয়ারা বেগম বলেন, ‘মামলা-বরখাস্তসহ পুরো বিষয়টি আইনগতভাবে দেখা হচ্ছে। আমার ছেলে মানসিকভাবে একটু সমস্যায় আছে।’

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন