default-image

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে একটি ওষুধের দোকানে ড্রাগ সুপার সেজে প্রতারণা করতে গিয়ে শেষে জনতার হাতে ধরা খেয়েছেন প্রতারক চক্রের পাঁচ সদস্য। ঘটনাটি গতকাল রোববার বিকেলের। আজ সোমবার তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়েরের পর পুলিশ আদালতের মাধ্যমে পাঁচ প্রতারককেই কারাগারে পাঠিয়েছে। মামলাটির তদন্তকারী কর্মকর্তা থানার উপপরিদর্শক (এসআই) নয়ন আহমেদ ঘটনাটি নিশ্চিত করেছেন।

গ্রেপ্তার চক্রের সদস্যরা হলেন নরসিংদী সদরের ভেলানগর পশ্চিম পাড়ার রাজু মিয়া (৬০), একই জেলার বেলাব উপজেলার লক্ষ্মীপুর গ্রামের ইউসুফ ভূঁইয়া (৩৮), একই উপজেলার ওয়ারী গ্রামের তালাত মাহমুদ (৫২), জেলার শিবপুর উপজেলার সৃষ্টিগড় গ্রামের রাতুল মিয়া (৩০) এবং কিশোরগঞ্জের ভৈরব পৌর শহরের অনুফা বেগম (৩০)। তাঁদের কারও পড়াশোনা কলেজ পর্যন্ত গড়ায়নি। কখনো সাংবাদিক কিংবা মানবাধিকার নেতা, কখনো ম্যাজিস্ট্রেট, আবার পরিস্থিতি অনুযায়ী কখনো ড্রাগ সুপার বনে প্রতারণা করেন তাঁরা। ভুয়া পরিচয়ে প্রতারণা করে টাকা হাতিয়ে নেওয়াই তাঁদের প্রধান পেশা।

তাঁদের কারও পড়াশোনা কলেজ পর্যন্ত গড়ায়নি। কখনো সাংবাদিক কিংবা মানবাধিকার নেতা, কখনো ম্যাজিস্ট্রেট, আবার পরিস্থিতি অনুযায়ী কখনো ড্রাগ সুপার বনে প্রতারণা করেন তাঁরা।

পুলিশ জানায়, পাঁচজনের মধ্যে চক্রের প্রধান ইউসুফ। আর রাতুল গাড়িচালক। তাঁর দায়িত্ব পরিবহনসেবা দেওয়া। কয়েক বছর আগে থেকে চক্রটি দলগতভাবে প্রতারণা করে বিভিন্নজনের কাছ থেকে অর্থ আদায় করে আসছিলেন। বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের দুর্বলতা চিহ্নিত করে তাঁদের কাছ থেকে টাকা হাতিয়ে নিতে নিজেদের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট, সাংবাদিক, মানবাধিকার নেতা ও ড্রাগ সুপার পরিচয় দিয়ে ভুয়া অভিযান চালাতেন। চক্রটি সবচেয়ে বেশি টার্গেট বানিয়েছে ওষুধের দোকানকে।

বিজ্ঞাপন

গতকালের ঘটনা নিয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বেলা তিনটার দিকে সিএনজিচালিত একটি অটোরিকশা দিয়ে পাঁচজন আসেন কুলিয়ারচরের সালুয়া ইউনিয়নের আনামুগ্ধা বাজারে। অটোরিকশার সামনে ইংরেজিতে প্রেস লেখা ছিল। প্রথমে তাঁরা যান বাজারের সেবা ফার্মেসিতে। সেখানে গিয়ে একটি ওষুধ চান। কর্মচারী ওষুধটি দেন। ওষুধ হাতে নিয়েই বলেন নকল এবং এই বলে ভ্রাম্যমাণ আদালতের ভয় দেখাতে থাকেন। তাঁদের মধ্যে নারী সদস্যটি নিজেকে ড্রাগ সুপার পরিচয় দেন। কথাবার্তা ও আচরণ সন্দেহ জাগলে দোকানে কর্মরত ব্যক্তিরা ব্যবসায়ী সমিতির নেতাদের জানান। ব্যবসায়ী নেতারা এসে নিশ্চিত হন, ওই ব্যক্তিরা আসলে প্রতারক। পরে তাঁদের ধরে পুলিশে দেওয়া হয়।

চক্রটি এক বছর আগে একই উপজেলার ফরিদপুর ইউনিয়নের ডোমরাকান্দা বাজারে একইভাবে প্রতারণা করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়েছিলেন বলে জানিয়েছে পুলিশ। শেষে জীবনেও আর করবেন না বলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে পার পেয়েছিলেন।

চক্রটি এক বছর আগে একইভাবে প্রতারণা করতে গিয়ে জনতার হাতে ধরা পড়েছিল। শেষে জীবনেও আর করবেন না বলে প্রকাশ্যে ক্ষমা চেয়ে পার পায়।

তবে পুলিশ হেফাজতে রাতুল দাবি করেন, তিনি চক্রের কেউ নন। নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার মরজাল বাসস্ট্যান্ড থেকে তাঁর গাড়ি ভাড়া করা হয়েছে। তাঁদের নিয়ে ঘোরার বিনিময়ে ভাড়া পাওয়ার কথা ছিল এক হাজার টাকা।

এদিকে ড্রাগ সুপার পরিচয় দেওয়া অনুফা বেগম প্রথমে দাবি করেন, তিনি একজন মানবাধিকার নেতা। কোন সংগঠনের নেতৃত্বে আছেন জিজ্ঞেস করলে বলেন, ‘রাখেন কার্ড দেখে নিই।’ পরে অবশ্য তিনি কার্ড দেখাতে পারেননি।

চক্রের নেতা ইউসুফ বলেন, তাঁরা পাঁচজনই একে অপরের পরিচিত। সমাজের অসংগতি দূর করতে তাঁরা মাঝেমধ্যে অভিযানে বের হন। এ ধরনের অভিযান চালানোর অধিকার আছে কি না এমন প্রশ্নে চুপ থাকেন তিনি।

এ ঘটনায় সোমবার সকালে সেবা ফার্মেসির মালিক সালেহ আহমেদ বাদী হয়ে প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেছেন। সালেহ আহমেদ বলেন, এ ধরনের প্রতারক চক্র রয়েছে এ ধারণা আগে থেকেই ছিল। ফলে ঘটনা বুঝতে বেশি সময় লাগেনি তাঁদের।

কুলিয়ারচর ওষুধ ব্যবসায়ী সমিতির নেতা মোস্তফা কামাল বলেন, নানা দুশ্চিন্তা নিয়ে ওষুধ ব্যবসা করতে হয়। সামান্য ভুল হলে দিতে হয় বড় খেসারত। ইদানীং প্রতারক চক্রের উৎপাতে দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।

বিজ্ঞাপন
জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন