বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন
প্রায় প্রতিটি ইউপিতে এখন নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। কোথাও কোথাও সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনার খবরও পাওয়া গেছে।

দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মনোনয়ন ইস্যুর কারণেই মূলত দলের অনেকে নৌকার প্রার্থীর পাশে নেই। দলীয় প্রতীক বরাদ্দের ক্ষেত্রে তৃণমূলের মতামত বাস্তবায়িত হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে। উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি ইমতিয়াজ বিন মুছার একক ইশারায় অনেকটা গোপনে মনোনয়নের প্রস্তাব কেন্দ্রে পাঠানো হয়েছে। ইমতিয়াজ বিন মুছাকে কিশোরগঞ্জ-৬ আসনের (কুলিয়ারচর-ভৈরব) সাংসদ নাজমুল হাসান সমর্থন দিয়েছেন বলেও দাবি স্থানীয় নেতা-কর্মীদের।

দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে এবারের নির্বাচনে মনোনয়নসংক্রান্ত বিষয়ে দলের কাছে সবচেয়ে বেশি উপেক্ষিত হয়েছেন বলে মনে করেন উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মুর্শিদ উদ্দিন। তিনি বলেন, ‘মনোনয়নের ব্যাপারে কিছুই জানি না। কিছুই জানানো হয়নি। একসময় সবাই যখন জেনেছেন, তখন আমিও জেনেছি। দলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে বিষয়টি অবশ্যই আমার জন্য ভালো কিছু নয়।’

জানা গেছে, প্রায় প্রতিটি ইউপিতে এখন নৌকার প্রার্থীর সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়াচ্ছে। কোথাও কোথাও সংঘর্ষ ও হামলার ঘটনার খবরও পাওয়া গেছে। ১৯ নভেম্বর রাতে ফরিদপুর ইউপিতে নৌকার প্রার্থী এস এম আজিজুল্ল্যাহর সমর্থকদের সঙ্গে বিদ্রোহী মাসুদ মিয়ার সমর্থকদের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এদিকে উসমানপুর ইউপিতে নৌকার প্রার্থী নিজাম ক্বারীর সমর্থকদের সঙ্গে বিদ্রোহী প্রার্থী সেলিম মিয়ার সমর্থকদের প্রায়ই বিচ্ছিন্ন ঘটনা ঘটছে।

দলীয় নেতাদের কাছ থেকে তেমন সহযোগিতা না পেয়ে হতাশ নিজাম ক্বারী। তিনি বলেন, দলীয় মনোনয়ন পেয়ে খুশি। তবে খুশি ধরে রাখতে হলে জয় পেতে হবে। আর জয় আসবে সবার শ্রমের মাধ্যমে। কিন্তু দলের অনেকের কাছ থেকেই প্রত্যাশিত শ্রম পাওয়া যাচ্ছে না।

গোবরিয়া-আবদুল্লাহপুর ইউপিতে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি এনামুল হক দলীয় মনোনয়ন পেয়েছেন। তাঁর বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগের পাঁচ বিদ্রোহী প্রার্থী হলেন বর্তমান চেয়ারম্যান আব্বাস উদ্দীন, মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম, নিয়ামুল হক, সাইফুল ইসলাম ও সাইদুজ্জামান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে এনামুল হক বলেন, এক ইউনিয়নে দল থেকে এতজন বিদ্রোহী হিসেবে নির্বাচন করা দলের শৃঙ্খলার জন্য হুমকি।

সালুয়া ইউপিতে চেয়ারম্যান পদে ৯ প্রার্থী রয়েছেন। এর মধ্যে নৌকার সমর্থন পেয়েছেন মোহাম্মদ কাইয়ুম। এ ইউপিতে আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী হয়েছেন ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি ইউসুফ মিয়া ও দলের কর্মী আফতাব উদ্দিন।

খুশি ধরে রাখতে হলে জয় পেতে হবে। আর জয় আসবে সবার শ্রমের মাধ্যমে। কিন্তু দলের অনেকের কাছ থেকেই প্রত্যাশিত শ্রম পাওয়া যাচ্ছে না।
নিজাম ক্বারী, আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী

দলের মনোনয়ন পাওয়া কাইয়ুম দলীয় কোনো পদে না থাকলেও তাঁর বাবা ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাবেক সভাপতি। কাইয়ুমের মনোনয়ন নিয়ে শুরু থেকেই দলের মধ্যে বিভক্তি দেখা দেয়। এদিকে কাইয়ুমের মনোনয়ন বাতিলের দাবিতে বেশির ভাগ নেতা-কর্মী প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করেছেন।

এ বিষয়ে কাইয়ুম বলেন, শুরুতে কিছু জটিলতা থাকলেও এখন অনেকটাই ঠিক হয়ে গেছে। তবে তাঁর মতে, দলে শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনতে উপজেলা আওয়ামী লীগের নেতাদের আরও বেশি সক্রিয় হওয়া প্রয়োজন।

দলের এ বিভক্তির বিষয়ে জানতে চাইলে উপজেলা আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক গিয়াস উদ্দিন বলেন, মনোনয়ন ইস্যু নিয়ে নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভ্রান্তির সৃষ্টি হয়েছে। এ বিভ্রান্তি নির্বাচনের ভোটে প্রভাব ফেলতে পারে।

তবে উপজেলা আওয়ামী লীগ সভাপতি ইমতিয়াজ বিন মুছা বলেন, নির্বাচনে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে আগ্রহ বাড়াতে ইতিমধ্যে ইউনিয়নভিত্তিক সভা হচ্ছে। ভোটের আগে সবার অবস্থান এক জায়গায় হবে। আর সেটি নৌকা।

বিদ্রোহীদের বিষয়ে দলীয় দৃষ্টিভঙ্গি জানতে চাইলে ইমতিয়াজ বিন মুছা বলেন, ‘বিদ্রোহীর বিষয়ে সাংগঠনিক অবস্থান কী হবে—সেটির সমাধান কেন্দ্রীয় নির্দেশনায় রয়েছে। দেখা যাক। সময় সবকিছু বলে দেবে।’

জেলা থেকে আরও পড়ুন
মন্তব্য করুন
বিজ্ঞাপন
বিজ্ঞাপন